সৌদি আরবে তরুণদের জন্য খুলছে বিনোদনের পথ

জেদ্দায় এক কনসার্টে গান গাইছেন একজন সৌদি সঙ্গীতশিল্পী ছবির কপিরাইট AMER HILABI/Getty images
Image caption জেদ্দায় এক কনসার্টে গান গাইছেন একজন সৌদি সঙ্গীতশিল্পী

একটি গভীরভাবে রক্ষণশীল দেশ বলে পরিচিত হলেও সৌদি আরবে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।

সম্প্রতি প্রশাসন দেশটিতে তরুণদের বিনোদনের কিছু পথ খুলে দিয়েছে এবং বিখ্যাত আরব গায়করা সেখানে মিলনায়তনে শ্রোতাদের সামনে অনুষ্ঠান করতে পারছেন।

তরুণরা মরুভূমির বালিয়াড়িতে দ্রুতগতির গাড়ি চালাতে পারছেন।

যদিও এসব বিনোদনমূলক কর্মকান্ডে এখনও নারীরা অংশ নিতে পারছেন না।

সম্প্রতি তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় বাজেটে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে সৌদি সরকার, এবং তারা চাইছে, সৌদি তরুণরা যেন বিনোদনের জন্য লন্ডন বা দুবাই না গিয়ে - দেশের ভেতরেই তাদের সময় ও অর্থ খরচ করে।

এ হচ্ছে এমন এক মুহুর্ত যার জন্য বহু লোক অপেক্ষায় ছিলেন।

সৌদি আরবের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়ক মোহাম্মদ আবদু, বহু বছর পর এই প্রথমবার নিজের দেশে একটি গানের অনুষ্ঠান করছেন।

বহু বছর পর তিনি নিজ দেশে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে গান গাইবার অনুমতি পেয়েছেন।

এরকম আরো বেশ কিছু গানের অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে সৌদি আরবে। কারণ গভীরভাবে রক্ষণশীল এই দেশটির মন্ত্রণালয় দেশের জনগণের জন্য কিছু বিনোদনের রাস্তা খুলে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ পরিবর্তন হচ্ছে খুব ধীরে , এক পা দু'পা করে।

মোহাম্মদ আবদুর অনুষ্ঠানে দেখা গেল শ্রোতারা সবাই পুরুষ। কোনও মহিলা নেই।

অনেক সৌদি নাগরিকই এ ধরনের গানের অনুষ্ঠানে মেয়েদের দেখতে চান না। অনেক তরুণও মনে করেন "এটা বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। দেশের জন্যও এটা ভালো হবে না"।

তবে সৌদি আরবে পরিবর্তনের জোয়ার তীব্রতর হচ্ছে।

সপ্তাহ শেষের ছুটির দিনগুলোতে একটা মরুভূমিতে বালিয়াড়ির ওপর দিয়ে চার চাকার ছোট ছোট গাড়ি চালানো এখন সেখানে খুবই জনপ্রিয় এবং উত্তেজনাকর এক বিনোদন।

মোটরবাইকের মতো ছোট ছোট গাড়িগুলো চালায় অনেকেই , তীব্র গতিতে, উঁচু-নিচু বালিয়াড়ির ওপর দিয়ে। তবে এখানেও কোনও মেয়েদের দেখা যায় না।

সৌদি আরবে জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বয়সই ত্রিশের নিচে। লন্ডন বা দুবাইয়ের মতো উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত শহরগুলো তাদেরকে ভীষণ টানে।

তাদের শাসকদের একজন ৩১ বছর বয়স্ক এক যুবরাজ সেজন্যই এই তরুণদের উৎসাহিত করছেন যেন তারা তাদের সময় ও অর্থ দেশেই খরচ করে ।

এদেরই একজন ওয়ালিদ বিন সায়েদান বলছিলেন তিনি চান "মেয়েদের গাড়ি চালানো শুরু করতে হবে। আর আরেকটা হলো আমাদের সিনেমা চালু করতে হবে"।

পরিবর্তনের এ হাওয়া শুরু হয়েছে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল খনি রুদ আলখালি থেকে। এই তেল খাত থেকেই সৌদি আরব সবচেয়ে বেশি অর্থ আয় করে - যা তাদের রাজস্ব আয়ের ৯০ শতাংশ।

আরও পড়তে পারেন:

পদ্মা সেতু ইস্যু: সরকারের নৈতিক বিজয়?

আবারো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া

মাঠে না-থেকেও হায়দ্রাবাদ জুড়ে আছেন মুস্তাফিজ

ছবির কপিরাইট AMEER ALHALBI
Image caption জেদ্দায় এক অনুষ্ঠানে গান চলছে

কিন্তু তেলের দাম এখন পড়ে গেছে, আর এই খাতের আয় নেমে এসেছে অর্ধেকে।

তার ফলে সৌদি রাষ্ট্রের পক্ষেও আর আগের মতো চলতে পারছে না। সৌদি নাগরিকরা এতদিন সস্তা তেল, মোটা বেতন, উপভোগ করেছে, এতদিন তাদের কোন করও দিতে হয়নি। কিন্তু এখন জ্বালানি, পানি এসব ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি কমানো হয়েছে।

সৌদি তেল মন্ত্রী খালিদ আল -ফালিহ স্বীকার করছেন, এসব পরিবর্তন সহজ হবে না।

সৌদি সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে 'উচ্চাভিলাষী' বলছেন অনেকেই। রাজধানী রিয়াদে এখন গড়ে তোলা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাতাল রেল প্রকল্প। এর লক্ষ্য হচ্ছে লোকজনের জীবযাপনে পরিবর্তন আনা, কাজের সুযোগ তৈরি করা। এসব কাজের কিছু আবার মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

এদেশে এমন পরিবর্তন আনার চেষ্টা আগেও হয়েছে। তাই এ নিয়ে সংশয়ও আছে।

বাইরের বিশ্বের চোখে সৌদি আরব এখনও একটি আবদ্ধ, রক্ষণশীল রাজতন্ত্র। এখনো তাই আছে। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস স্পষ্টতই পরিবর্তন হচ্ছে।

এ দেশটিতে মানবাধিকার বা রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে এখনো কোন প্রকাশ্য আলোচনা হয় না। কিন্তু সাধারণ সৌদিদের কাছে অন্য বিষয়গুলোই আপাতত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।