বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী

দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহার করেছিল বিশ্বব্যাংক ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহার করেছিল বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের কারণে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

বিশ্বব্যাংকের আনা দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় অন্টারিওর একটি আদালত শুক্রবার কানাডার পুলিশের করা একটি মামলা খারিজ করে দেয়।

কিন্তু বিশ্বব্যাংকের সেই অভিযোগ এবং পদ্মা সেতু থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহার করায় বাংলাদেশেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে সরকার মনে করছে। আইনমন্ত্রী বলেছেন,প্রতিকারের জন্য সরকারে এখন বিষয়টি বিশ্বব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ফোরামে তুলবে।

ইস্যুটি নিয়ে বাংলাদেশের সংসদে অনির্ধারিত আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনায় আইনমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বব্যাংককে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল ২০১২ সালে। এই অভিযোগের ব্যাপারে এখন এসে শুক্রবার কানাডার আদালত তার রায়ে প্রমাণ না পাওয়ার কথা বলেছে। আদালত এও বলেছে, অভিযোগটি অনুমান ভিত্তিক,গুজব এবং জনশ্রুতি ছাড়া আর কিছু নয়।

Image caption বাংলাদেশ সরকার এখন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে

কিন্তু বিশ্বব্যাংক যখন অভিযোগ তুলেছিল, সেই প্রেক্ষাপটে তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছিল। সে সময়ের সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে জেল খাটতে হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা মশিউর রহমানকে তাঁর কাজের ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় থাকতে হয়েছিল। এই ব্যক্তিরা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

"ব্যক্তিগতভাবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, ক্ষতিপূরণের জন্য তাদের ব্যবস্থা নেয়া দরকার। যেভাবে তাদের হেনস্তা করা হয়, তার প্রমাণাদি সব আছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা নিশ্চয়ই প্রতিকার পেতে পারেন।"

কানাডার একটি নির্মাণ প্রকৌশলী সংস্থার তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করা হয়েছিল।তাদেরকেও খালাস দিয়েছে কানাডার আদালত।সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, অভিযোগ আনার বিষয়টা যে ষড়যন্ত্র ছিল,সেটা কানাডার আদালতে প্রমাণ হয়েছে। এজন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে মনে করেন। কিন্তু প্রতিকার চাইতে তিনি কোন পদক্ষেপ নেবেন কিনা, সেটা পরিষ্কার নয়।

তবে বিশ্বব্যাংকের দায়মুক্তির আইন আছে। ফলে বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবেও মামলা করার বাধা আছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মশিউর রহমান।

তিনি বলছেন, বিশ্বব্যাংকের চার্টার অনুযায়ী সবদেশেই একটা আইন আছে। সেই আইনে বলা আছে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তার ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি যদি ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ওই ব্যক্তি বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন না। এই দায়মুক্তি আইনে দেয়া আছে।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption ক্যানাডার কোম্পানি এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছিল।

মশিউর রহমান উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে একটি মামলায় আদালত বলেছিল যে, সরকারের কোন আইন বা চুক্তির কারণে কোন ব্যক্তির নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে না। কিন্তু এর বিরুদ্ধেই রিভিউ আবেদনের এখনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বিশ্বব্যাংকের একজন কর্মচারী বেশ আগে মামলাটি করেছিলেন।

মি. রহমান মনে করেন, তিনি সরকারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে, বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের কারণে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টা সরকারের পক্ষ থেকেই খতিয়ে দেখা উচিত।

তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের কারণে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার বিষয় সরকার বিশ্বব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ফোরামে তুলে ধরবে।

বাংলাদেশও বিশ্বব্যাংকের মালিকানার অংশীদার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বব্যাংক যখন অভিযোগটি তুলেছিল, তখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার রাজনৈতিকভাবেও বেকায়দায় পড়েছিল। ফলে এখন সেই অভিযোগ বিদেশী আদালতে অসত্য প্রমাণ হওয়ায় সরকার বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরছে।