বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাতে গ্রেফতার-ছাঁটাই-হয়রানি নিয়ে উদ্বেগ

  • ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
Image caption গার্মেন্টস শিল্পের ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের গ্রেফতার-হয়রানি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে

বাংলাদেশে পোশাক শিল্প খাতে শ্রমিক ও ইউনিয়ন নেতাদের ব্যাপকভাবে গ্রেফতার, হয়রানি ও ছাঁটাই চলছে বলে অভিযোগ করেছে শ্রমিক অধিকার বিষয়ক প্রধান সারির দুটি আন্তর্জাতিক সংগঠন।

ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়ন এবং ইন্ডাস্ট্রি অল এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে আটকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে। আর মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে এসব অভিযোগ পুরোটাই একতরফা।

বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নগুলোর প্ল্যাটফর্ম ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়ন এবং ইন্ডাস্ট্রি অল বলছে, বাংলাদেশে ট্রেড ইউনিয়ন গুলোর কার্যালয় ভাংচুর করা হয়েছে এবং ব্যাপকভাবে গ্রেফতার ধরপাকড়ের ভয়ে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ পালিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়নের উপ মহাসচিব ক্রিস্টি হফম্যান বলছেন, বিষয়টিতে তারা খুবই উদ্বিগ্ন।

তিনি বলছেন, "দেখুন আমরা খুবই উদ্বিগ্ন যে বাংলাদেশে শ্রমিক এক্টিভিষ্টদের উপর ব্যাপকভাবে ধরপাকড় চলছে। ডিসেম্বরে পোশাক খাতে যে আন্দোলন ও কর্মবিরতি হয়েছে সেটাকে বাংলাদেশের সরকার শ্রমিক নেতৃবৃন্দদের ধরপাকড় ও তাদের জেলে পুরে রাখার একটা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং আমরা তাদের ছেড়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।"

গত ডিসেম্বরে ঢাকার কাছে আশুলিয়াতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি করেছিলো হাজার হাজার শ্রমিক। শ্রমিকদের দাবি ১৫ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন। শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে ৬০ টির মতো পোশাক কারখানার মালিক উল্টো এক সপ্তাহের মতো কারখানা বন্ধ করে রাখে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলছেন, এরপর থেকে আশুলিয়ায় দু হাজারের মতো শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। ৩৫ জন শ্রমিক নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। মামলা ছাড়াও আশুলিয়া এলাকায় শ্রমিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলছেন, "আমরা যেটা দেখলাম, তাদের বিরুদ্ধে কে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দেয়া হয়েছে বা জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দেয়া হয়েছে। শ্রমিকরা কিছু বললেই তাদের ছাঁটাই করা হচ্ছে।"

তিনি আরো বলছেন, "আশুলিয়াতে সমস্ত সংগঠনের কার্যালয় বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পুলিশ গিয়ে এসব কার্যালয়ে খোঁজ নিচ্ছে।"

এই পুরো বিষয়টিতে বাংলাদেশেরই সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, বলছেন ক্রিস্টি হফম্যান।

"এর অবশ্যই একটি আন্তর্জাতিক প্রভাব পড়বে কারণ এতে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে। আমরা বাংলাদেশে সফল একটি পোশাক খাত দেখতে চাই যেখানে শ্রমিকের নিরাপত্তা থাকবে এবং কোন ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই তারা ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তার দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু অন্যদিকে আমরা এখনো দেখছি যে ট্রেড ইউনিয়নগুলো বাধার সম্মুখীন হচ্ছে এবং এখানে শ্রমিকদের বেতন অত্যন্ত কম।"

কিন্তু বাংলাদেশের সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে। আর মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে এসব অভিযোগ পুরোটাই এক-তরফাভাবে করা হচ্ছে। যেমনটা বলছেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

তিনি বলছেন, "সম্পূর্ণরূপে একতরফা তারা শুনে এটা করছে। তারা আর কারো কাছ থেকে কোন তথ্য নেয়ার চেষ্টাও করে নি। তথ্য যাচাই করে নি। তারা এখন যে শ্রমিকদের ধরপাকড় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে এটা মোটেই সত্য না। ঘটনাটা ডিসেম্বরে মাসেই শেষ হয়ে গেছে। এটা নিয়ে তারা এখন কথা বলছে।"

ওদিকে বাংলাদেশে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের ওপর ধরপাকড় বন্ধের দাবিতে কাল বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশী দূতাবাসগুলোর সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানাবে শ্রমিক অধিকার এক্টিভিষ্টরা।