ঢাকায় গরু খাসি বিক্রি ধর্মঘটে মানুষ কতটা বিড়ম্বনায় ?

  • ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption ঢাকায় গরু খাসির মাংস বিক্রি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৪৫০ বা এর চেয়ে বেশি টাকা।

আর খাসির মাংসর দাম সাম্প্রতিক সময়ে কোথাও কোথায় ৮০০ টাকাতেও ছুঁয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

এর পরেও ঢাকায় গত কয়েকদিন যাবত মাংস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের কারণে গরু এবং খাসির মাংস যাদের খুব পছন্দ তারা পড়েছেন বেশ বিপাকে।

অধিকাংশ রেস্তোঁরা গরু এবং খাসির মাংসশুন্য গত সোমবার থেকে এবং মাংস ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।

মাংস ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং আরো কয়েকটি দাবী বাস্তবায়নের জন্য তারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

ফলে ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাজার এবং পাড়া-মহল্লায় প্রায় সাড়ে চার হাজার মাংসের দোকান বন্ধ আছে বলে জানাচ্ছে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি।

কিন্তু কত মানুষ এই বিড়ম্বনায় পড়ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য এবং পুষ্টিবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক নাজমা শাহীন বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন এমনিতে দাম অনুযায়ী গরু বা খাসি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এগুলো নেই এবং সচ্ছল মানুষদের বাড়িতেই হয়তো নিয়মিত এগুলো রান্না হয়।

তিনি বলেন, "সাধারণ মানুষের খাদ্য তালিকায় বরং মাছ ও মুরগির মাংসই বেশি দেখা যায়। তবে যেহেতু ধর্মঘট চলছে এবং বাজারে পাওয়া যাচ্ছেনা তাই যারা সপ্তাহে একদিনও খেতে পারতো সে কারণে মাছ ও মুরগির দামও বেড়ে যাচ্ছে"।

Image caption অনেকের কাছে তেহারী এবং বিরিয়ানি বেশ পছন্দের আর এগুলো তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান গরু বা খাসির মাংস

বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে বা খাবারের তালিকায় গরু বা খাসির অবস্থান কতটুকু? এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমা শাহীন বলেন আমিষের হিসেবে মাছ ও মুরগিই মানুষ বেশি খেয়ে থাকে।

"তবে গরু খাসি না পাওয়া গেলে হোটেল রেস্তোরায় বেশি প্রভাব ফেলবে। বিয়ে শাদীতে প্রভাব বেশি প্রভাব পড়বে"।

কিন্তু গরু খাসি কতটা খাওয়া উচিত ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যারা সচ্ছল তারা এগুলো বেশি খায়। কিন্তু গ্রামের মানুষ বা শহরের অসচ্ছল মানুষের পক্ষে তো কিনে খাওয়া সম্ভব না।

"তবে স্বাস্থ্যগত মানুষ সচেতন। লাল মাংস খাওয়ার বিষয়ে অনেকেই সজাগ আছেন। ক্রয়ক্ষমতায় থাকলেও তারা এড়িয়ে যান"।