বিএনপি বলছে বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার দুরভিসন্ধিমূলক

  • ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লাইনে অপেক্ষমান মানুষ ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption প্রথম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সীমিত পর্যায়ে ইভিএম ব্যবহার হয়। (ফাইল চিত্র)

বাংলাদেশে আগামী সংসদ নির্বাচনে ইলেট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের যে কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেটাকে দুরভিসন্ধিমূলক বলে বর্ণনা করেছে বিরোধীদল বিএনপি।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতারা বলেছেন, ইভিএম- এ সার্ভার নিয়ন্ত্রণের সুযোগসহ কারিগরি অনেক দুর্বলতার কারণে স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, রাজনৈতিক কারণে এবং অজ্ঞতা থেকে এর বিরোধিতা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে।

নতুন নির্বাচন কমিশন কাজ শুরু করার মুহূর্তেই আবার বিতর্ক দেখা দিয়েছে ইভিএম ব্যবহারের প্রশ্নে। যদিও এপর্যন্ত চট্টগ্রাম,নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নির্বাচনে সীমিতপর্যায়ে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে। এখন বিতর্ক হচ্ছে সংসদ নির্বাচনে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা না করার ব্যাপারে।

বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইভিএম ব্যবহার করে আগামী সংসদ নির্বাচন করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।

বিরোধীদল বিএনপি এই পদ্ধতির বিরোধিতা করে আসছে। এবারও আপত্তি তুলেছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, "ই-ভোটিং মেশিন যে কোনো জায়গা থেকে হ্যাক করা যায়। ফলে এটা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকছে। ভোট গ্রহণ এবং গণনার ক্ষেত্রে প্রভাবিত করাও সম্ভব। এর মাধ্যমে স্বচ্ছ্ব নির্বাচন হতে পারে না। সেজন্য আমরা মনে করছি, সরকার দুরভিসন্ধি থেকে এই ব্যবস্থার কথা বলছে।"

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনে করছে, রাজনৈতিক কারণে বিএনপি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করছে।

এই বিরোধিতাকে সরকার এবার আমলে নিতে রাজি নয়, দলের নেতাদের অনেকে এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, অজ্ঞতা থেকেও ইভিএম এর বিরোধিতা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

ছবির কপিরাইট Focus Bangla
Image caption নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এর আগে বেশ কিছু কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছিল।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু এখনও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বাইরে এর প্রয়োগ হয়নি।

প্রথম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সীমিত পর্যায়ে ইভিএম ব্যবহার হয়। এরপর নরসিংদী পৌরসভা এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পুরো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হয়।

সেই কমিশনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলছেন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে তাদের অভিজ্ঞতা বেশ ভাল ছিল।

"ব্যালট ছাপানো বা সিলসহ আনুষঙ্গিক অনেক কিছুর প্রয়োজন হয় না। সঠিকভাবে এবং অল্প সময়ে ভোট গণনা করা যায়। যারা এর বিরোধিতা করছে, তারা কখনও মেশিন বা ব্যবস্থাটি স্বচক্ষে দেখার আগ্রহও দেখায়নি," বলছেন মিঃ হোসেন।

নির্বাচন কমিশনের সচিব মো: আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, "বিশেষজ্ঞ কমিটিটি দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান বের করবে। কমিটি মার্চ মাসে কমিশনে সুপারিশ দেবে। এটির নাম ইভিএম এর বদলে ডিজিটাল ভোটিং মেশিন বা ডিপিএম হবে।"

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, কমিশন এই ব্যবস্থায় আগামী সংসদ নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেবে। তবে নিবন্ধিত সব দল এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে আলোচনা করেই নতুন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

সম্পর্কিত বিষয়