কিম জং নাম হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে মালয়েশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক বিরোধ

কিম জং নাম ছবির কপিরাইট AFP
Image caption কিম জং নাম

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আনের সৎ ভাই মালয়েশিয়ার রাজধানীর বিমানবন্দরে খুন হবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটো দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিবাদ তীব্র আকার নিচ্ছে।

মালয়েশিয়া আজ পিয়ং ইয়ং-এর রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং উত্তর কোরিয়া থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

গত সপ্তাহে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে কিম জং নামকে দৃশ্যত বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করা হয়।

কিন্তু উত্তর কোরিয়া নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে মৃতদেহটি তাদের হাতে তুলে দেবার দাবি করেছে।

কিম জং নামকে কে মারলো, ঠিক কিভাবে মারলো - সেসব প্রশ্ন ছাপিয়ে ঐ হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে মালয়েশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সৃষ্ট কূটনৈতিক সঙ্কট এখন প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিম জং নামের মৃতদেহ উত্তর কোরিয়ার সরকার ফেরত চাইছিল।

তদন্ত একটি পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত মালয়েশিয়া তা দিতে অস্বীকার করেছে।

ছবির কপিরাইট REX/Shutterstock
Image caption সিসিটিভিতে ধরা পড়া সন্দেহভাজন এক খুনীর ছবি

এছাড়াও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চারজন উত্তর কোরীয় নাগরিককে খোঁজার সিদ্ধান্ত একবারেই পছন্দ করেনি পিয়ং ইয়ং।

কুয়ালালামপুরে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত ক্যাং চোল এক সংবাদ সম্মেলনে খোলাখুলি সে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার তদন্তে তাদের আস্থা নেই।

রোহিঙ্গাদের কথা শুনতে ঢাকায় জাতিসংঘের দূত

"আমরা মালয়েশিয়ার পুলিশের ওপর ভরসা করছিলাম। ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করছিলাম সঠিক এবং নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে একটি ফলাফল পাবো। কিন্তু বদলে আমরা দেখছি তাদের সন্দেহের আঙ্গুল আমাদের দিকে। গণতান্ত্রিক কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এর দায় মালয়েশিয়ার পুলিশের ওপর বর্তাবে।"

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত এরপর বলেন, এ ধরণের, তার ভাষায়, মিথ্যা প্রচারণা তার দেশ গ্রহণ করবে না। তার দেশের একজন নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption কুয়ালালামপুরে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত ক্যাং চোল

"সবকিছু দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে মালয়েশিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যোগসাজশে এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক মোড়ক দিচ্ছে। আমরা মালয়েশিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে বলতে চাই আমরা যৌথ তদন্ত চাই," বলেন তিনি।

উত্তর কোরিয়ার এসব বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়েছে মালয়েশিয়া।

রাষ্ট্রদূত ক্যাং চোলকে কুয়ালালামপুরে বিদেশ মন্ত্রণালয়ে ডেকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

পিয়ং ইয়ং থেকে মালয়েশিয়া তাদের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট নাজিব রাজাক বলেছেন, উত্তর কোরিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো করার কোনো ইচ্ছা বা কারণ তার দেশের নেই।