বাংলাদেশে ভাষা ব্যবহারের কী অবস্থা এখন?

শহীদ মিনার ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বলা হয়ে থাকে, একুশের চেতনাই বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটিয়েছে

বিশ্বব্যাপী আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাদেশের ভাষা শহীদ দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো দিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সম্মান।

বলা হয়ে থাকে, একুশের চেতনাই বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটিয়েছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় এক সময় স্বাধীন একটি রাষ্ট্র 'বাংলাদেশ'এর জন্ম হয়েছে।

কিন্তু যে ভাষার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন বহু মানুষ, আজ সেই ভাষা ব্যবহারের কী পরিস্থিতি দেশে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলছিলেন "বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষ মাতৃভাষায় কথা বলছে এটা ইতিবাচক দিক"।

"কিন্তু ভাষা ব্যবহার নিয়ে আমার মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ আছে, কিছুটা বেদনার দিকও আছে। আমাদের আইন-আদালতে, শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো আমরা এখনও বাংলা ভাষাকে সার্বিক অর্থে প্রয়োগ করতে পারিনি, ব্যবহার করতে পারিনি। ভাষা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে তবে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে"-বলেন তিনি।

কথ্য ভাষায় উচ্চারণ এবং বিকৃতি নিয়ে যে অভিযোগ শোনা যায়, সেটা কতটা যৌক্তিক এমন প্রশ্নের জবাবে মি: চৌধুরী বলেন- "প্রমিত ভাষার প্রয়োজনীয়তা বিশেষ পরিস্থিতিতে"।

"আমার অঞ্চলের ভাষা কিন্তু মূল ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। প্রমিত ভাষা যেটি আমরা আনুষ্ঠানিকতায় ব্যবহার করছি, পত্রপত্রিকা, রেডিও-টেলিভিশনে ব্যবহার করছি সেখানে সীমাবদ্ধতা রয়েছে"। আর এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী।

আরও পড়ুন:

পাকিস্তানে কিভাবে পালিত হয় একুশে ফেব্রুয়ারি?

বইমেলায় 'বিক্রির শীর্ষে এখনো হুমায়ুন আহমেদ'

বাংলা বানানের ক্ষেত্রে ভুলের ছড়াছড়ি কেন?

সম্পর্কিত বিষয়