এমপি লিটন হত্যামামলায় জাপার সাবেক এমপি আটক

ছবির কপিরাইট ফোকাসবাংলা
Image caption আটককৃত সাবেক এমপি আবদুল কাদের খান

বাংলাদেশে এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার মামলায় জাতীয় পার্টির একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন অজ্ঞাত আততায়ীর গুলিতে নিহত হন ডিসেম্বর মাসে।

এ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল আবদুল কাদের খান নামে এই সাবেক এমপিকে আটকের আগে তাকে পাঁচ দিন বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে তার পরিবার অভিযোগ করে।

তাকে কেন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিলো সেবিষয়ে পুলিশ কিছু বলছে না।

আব্দুল কাদের খান পেশায় একজন চিকিৎসক।তিনি সেনাবাহিনীতে চিকিৎসক হিসেবে ছিলেন।সেখান থেকে অবসর নিয়ে বগুড়া শহরে নিজে একটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন। বগুড়া শহরেই তাঁর বাসভবন পাঁচদিন ধরে পুলিশ এবং গোয়েন্দারা ঘিরে রেখেছিল।

শেষপর্যন্ত ২১শে ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার তাঁকে আটক করা হয়।তাঁর স্ত্রী এ জেড ইউ নাসিমা বেগমও পেশায় চিকিৎসক।

তিনি বলছিলেন, "ঘটনা কি দাঁড়ালো আমরা বুঝতে পারছিনা।গত বৃহস্পতিবার ১৬ই ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ আমাদের বাসা ঘিরে ফেলে।কয়েকজন গোয়েন্দা পুলিশ বাসার ভিতরে এলে তাদের কারণ জিজ্ঞাসা করেছিলাম।তারা তখন বলেছিল, আপনাদের নিরাপত্তার জন্য এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।"

আরো পড়ুন: 'গুলিবিদ্ধ বরকত মারা যান আমার চোখের সামনেই'

'অস্ত্র কেনায় ভারতই পৃথিবীতে এক নম্বর'

আহত ফিলিস্তিনিকে হত্যাকারী

শিক্ষকরাই পড়তে পারছেন না পাহাড়ি ভাষায় বর্ণমালার বই

তিনি আরও বলেছেন, "সেই থেকে পাঁচদিন আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখার পর এখন পুলিশ আমার স্বামীকে নিয়ে গেলো। এখনও কারণ কিছু বললো না।"

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ এলাকার আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে তাঁর নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে গত ৩১শে ডিসেম্বর।

ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption এমপি মঝঞ্জুরুল ইসলাম লিটন

সেই হত্যাকান্ডের ঘটনায় এর আগে কুড়ি জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়া আব্দুল কাদের খানের গাড়ির চালক এবং সুন্দরগঞ্জের বাড়ির কেয়ারটেকারসহ তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে গত বৃহস্পতিবার।

তারা মঙ্গলবার আদালতে এমপি লিটন হত্যা মামলায় জবানবন্দী দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

একদিন আগেই গত সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পুলিশের আইজি শহীদুল হক বলেছিলেন, এমপি লিটন হত্যায় জড়িতদের পুলিশ চিহ্নিত করেছে এবং শিগগিরই তাদের আটক করা হবে।এমন প্রেক্ষাপটে এখন আব্দুল কাদের খানকে আটকের পর গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম বলেছেন,এমপি লিটন হত্যা মামলায় অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুল কাদের খানকে আটক করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির নেতা আব্দুল কাদের খান ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে প্রার্থী হয়ে সুন্দরগঞ্জের সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।তাঁর স্ত্রী এ জেড ইউ নাসিমা বেগম বলেছেন, "আমার স্বামী এবার সুন্দরগঞ্জে শূণ্য আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখায় যেহেতু বাসা থেকে বেরুনো যায়নি। সেকারণে তিনি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন।তিনি আর মনোনয়নপত্র নেননি।"

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, আব্দুল কাদের খানকে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার জন্য সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনিই মনোনয়নপত্র নেননি বা জমা দেননি।

তবে আটকের আগে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়ে পুলিশ পরিস্কার করে কিছু বলেনি।

এদিকে, একটি হত্যা মামলায় জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল কাদের খানকে আটকের এই ঘটনায় দলটির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, "অভিযোগটা আসলে কি আনা হচ্ছে তা আমাদের দেখতে হবে।কারণ আইনগত বিষয়।

এটা একটা স্পর্শকাতর মামলা। ফলে মন্তব্য করা কঠিন।তবে অতীতে আমরা তাঁকে যেভাবে দেখেছি, তাতে কাউকে আঘাত করার প্রবণতা তাঁর মধ্যে দেখিনি।"

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা গাইবান্ধার সরকারি দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা ঘটনা ঘটে ৩১শে ডিসেম্বর শনিবার।

পুলিশ বলছে, অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা সেদিন সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জে মঞ্জুরুল ইসলামের বাসায় ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

এর কিছুদিন আগে এই এমপির ছোঁড়া গুলিতে এক শিশু গুরুতর আহত হওয়ার পর সেখানকার স্থানীয় রাজনীতিতে দলীয় কোন্দলের বিষয়টিও সামনে এসেছিল।

সম্পর্কিত বিষয়