ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বেসরকারি হাসপাতাল ‘ব্যবসা’য় নিয়ন্ত্রণ আনছেন মমতা

কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতাল ছবির কপিরাইট অমিতাভ ভট্টশালী
Image caption কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতাল

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, তারা যেন রোগীদের হেনস্তা করা বন্ধ করে।

তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ আর নজরদারী বাড়াতে আইন পরিবর্তন করা হবে।

এছাড়া বিশেষ একটি কমিশনও তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অকারণে চিকিৎসার বিল বাড়ানো, আপদ-কালীন চিকিৎসা না দেয়া, বিনা কারণে নানা ধরণের পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা, এমনকি টাকা না পেলে মৃতদেহ আটকে রাখাসহ সরকারের কাছে জমা পড়া নানা অভিযোগ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে বুধবার বৈঠক করেছেন মিজ ব্যানার্জী।

বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগীর পরিবারের ওপর অহেতুক বাড়তি বিল চাপাচ্ছে বলে, তার কাছে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে আসা মানুষেরাও অভিযোগ করেছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় ওই বৈঠকের লাইভ সম্প্রচার করে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদ টেলিভিশন।

বৈঠকে বিভিন্ন হয়রানি ও হেনস্তার জবাব দিতে গিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের মালিক ও কর্মকর্তাদের গলদঘর্ম হতে দেখা যায়।

ঐ বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী জানান বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কয়েকদিনের মধ্যেই আইন পরিবর্তন করা হবে। গঠিত হবে নজরদারীর জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিশনও।

যারা প্রত্যেকটি হাসপাতালের কাজকর্ম নিয়ে মাসিক রিপোর্ট তৈরি করবে।

গত সপ্তাহে কলকাতার বড় একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পরেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সব বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্তদের সঙ্গে এরকম একটি বৈঠক করবে।

তার আগেই প্রায় হাজার খানেক বেসরকারি হাসপাতালে নিজস্ব সমীক্ষা চালিয়েছে সরকার। শো-কজ আর লাইসেন্স বাতিলও হয়েছে অনেকের।

পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শুধু কলকাতা বা পার্শ্ববর্তী জেলা বা রাজ্যের মানুষ নয়, বাংলাদেশ থেকেও হাজার হাজার রোগী নিয়মিত চিকিৎসা করাতে যান।

বাংলাদেশের রোগীদের কেন্দ্র করে দক্ষিণ আর দক্ষিণ পূর্ব কলকাতায় রীতিমতো গড়ে উঠেছে মেডিকেল-হাব।

এর মধ্যে হাসপাতাল ছাড়াও সেখানে গেস্ট হাউস-খাবার দোকান, বিদেশী মুদ্রা বিনিময় সহ আনুষঙ্গিক ব্যবস্থার জন্য তৈরি হয়েছে নানা পরিষেবা ক্ষেত্র।