এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন

  • ১ মার্চ ২০১৭

বাবার ইচ্ছাতে ডাক্তারি পড়েছিলেন নাজমুল কাওনাইন। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করার পর ডাক্তার না হয়ে ১৯৮৫ তে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে ফরেন সার্ভিসে ঢুকে পড়েন।

গত প্রায় ৩২ বছর ধরে নানা দেশে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন মি কাওনাইন। ইন্দোনেশিয়াতে রাষ্ট্রদূত হিসাবে দায়িত্ব শেষ করে অক্টোবরে কয়েকমাস আগে লন্ডনে হাইকমিশনার হিসাবে যোগ দিয়েছেন।

বিবিসি বাংলার শাকিল আনোয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কূটনীতিক অন্যান্য অনেক বিষয়ের মধ্যে বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করার 'প্রতিবন্ধকতা' সম্পর্কে বলেছেন।

"ইংল্যান্ড আমেরিকায় বোমা ফাটলে তাদের অত ব্যাখ্যা দিতে হয়না.. কিনতু আমাদের রেস্টুরেন্টে তেমন কিছু হলে প্রতিনিয়ত ব্যাখ্যা দিতে হয়।"

"উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে আমাদের প্রযুক্তি দরকার, প্রকল্প দরকার, বিনিয়োগ দরকার। ফলে সবসময় উন্নত দেশগুলোকে এসব প্রয়োজন নিয়ে কনভিন্স করতে হয়। ইউরোপ-আমেরিকার মানুষজনের কাছে ভিসা কোনো সমস্যা নয়। অথচ আমাদের প্রতিনিয়ত অন্যদের বোঝাতে হয় যে কাজের জন্য, ব্যবসার জন্য, বেড়ানোর জন্য আমাদের লোকজনকে বাইরে যেতে হবে।"

হরহামেশা প্রবাসীদের কাছ থেকে অভিযোগ শোনা যায় বিপদে তারা দূতাবাসের সাহায্য পাননা। এই অভিযোগ কেন - বিবিসি বাংলার এই প্রশ্নে মি কাওনাইন বলেন দূতাবাসগুলোতে জনবলের অভাব এই অবস্থার জন্য দায়ী। এ প্রসঙ্গে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার পাঁচ বছরের দায়িত্ব-কালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।

"ইউএইতে ১৫ লাখ বাংলাদেশী চাকুরী করেন। তাদের অনেকেই গ্রাম থেকে প্রথম বিদেশে গেছেন। তাদের নানা সমস্যা। ভাষার সমস্যা। কিন্তু দূতাবাসে জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১৫ জন। এই সংখ্যা নিয়ে এত লোককে যথাযথ সার্ভিস দেওয়া অসম্ভব।"

কূটনীতিক হিসাবে তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য কি ছিলো বলে তিনি মনে করেন?

মি কাওনাইন বলেন, পাঁচ বছর রাষ্ট্রদূত থাকা অবস্থায় ইউএইতে লাখ লাখ মানুষের চাকুরী হওয়ায় তিনি বিশেষভাবে তৃপ্ত হয়েছিলেন।

এছাড়া, জাকার্তায় রাষ্ট্রদূত থাকাকালে বাংলাদেশীদের জন্য ইন্দোনেশিয়াতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা চালু হওয়াকেও মি কাওনাইন তার পেশাজীবনের অন্যতম সাফল্য হিসাবে দেখেন।

পেশাজীবণে কোনো অপূর্ণতা, খেদ? এ এই প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত কাওনাইন বলেন অনেক সময় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতায় তিনি বিপন্ন বোধ করেন।

"অনেক সময় আমি যেভাবে কোনো সমস্যার সমাধান চাই সেভাবে করতে পারিনা, কারণ যে দেশে আমার পোস্টিং বা বাংলাদেশের -- দুই দেশের সরকারেই আমার কোনো ভূমিকা নেই।"

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা ঝিনাইদহে জন্ম এবং সেখানেই বড় হওয়া নাজমুল কাওনাইনের "বাংলাদেশের গ্রামের মাঠ-ঘাট, সুর আমাকে আন্দোলিত করে। চাকরি শেষে গ্রামে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রচন্ডভাবে আমাকে তাড়া করে।'