আজাদির সীমা নিয়ে উত্তপ্ত দিল্লির ক্যাম্পাস রাজনীতি

ছবির কপিরাইট SAJJAD HUSSAIN
Image caption দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপির ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে বামপন্থীদের বিক্ষোভ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বেশ কয়েকটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আজ শাসক দল বিজেপি-র ছাত্র শাখা এবিভিপি-র বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছে।

তবে কার্গিল যুদ্ধে নিহত এক ভারতীয় সেনার কুড়ি বছর বয়সী মেয়ে গুরমেহার কাউর - যিনি গত কয়েকদিনে এবিভিপি-বিরোধী প্রতিবাদের মুখ হয়ে উঠেছিলেন - সোশ্যাল মিডিয়াতে অবিরাম 'ট্রোলড' হওয়ার পর তিনি নিজেকে আজ সেই প্রতিবাদ থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

এদিকে গুরমেহার কাউরের পক্ষে-বিপক্ষে ভারতের অনেক তারকা এদিনও মুখ খুলেছেন, যদিও মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে দেশের বিরোধিতা করা চলবে না - সরকার এই বক্তব্যেই অনড় আছে।

দিল্লি ইউনিভার্সিটির খালসা কলেজের সামনে থেকে এদিন শুরু হয়েছিল আজকের ছাত্র বিক্ষোভ - যেখান থেকে ঘন ঘন উঠছিল আজাদির শ্লোগান।

জেএনইউ-এর ছাত্র নেতা কানহাইয়া কুমারের শ্লোগানে যে আজাদি মানে স্বাধীনতা, এই ছাত্রছাত্রীদের ভাষায় অবাধে নিজেদের কথা বলার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

কিন্তু এই আজাদির সীমা কতটা - তা নিয়েই গত বেশ কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত হয়ে আছে দিল্লির ক্যাম্পাস রাজনীতি, আর আজ বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসা-র নেতৃত্বে তা তুঙ্গে ওঠে।

কিন্তু সেই মিছিলে লেডি শ্রীরাম কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী গুরমেহার কাউর ছিলেন না - কারণ গত দুদিন ধরে ধর্ষণ ও সহিংসতার অজস্র হুমকি আর সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যঙ্গবিদ্রূপের পর সকালেই তিনি টুইট করে জানিয়ে দেন তার পক্ষে 'আর সহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না'।

অন্যদের মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রণে ভঙ্গ দেন গুরমেহার - যদিও তার সমর্থনে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনও এদিন দিল্লিতে অনশন বিক্ষোভ বসেছিল। দিল্লির ক্ষমতায় থাকা আম আদমি পার্টিও এগিয়ে আসে তার সমর্থনে।

দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রধান ও আম আদমি পার্টির নেত্রী স্বাতী মালিওয়াল জানান, দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে চিঠি লিখে তারা ইতিমধ্যেই দাবি জানিয়েছেন যারা গুরমেহারকে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছে - তারা যে দলেরই হোক, যতই প্রভাবশালী হোক তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে ও তাদের জেলে ভরতে হবে।

তবে নতুন করে আর ধর্ষণের হুমকি না-পেলেও গুরমহোরকে নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপ থেমে নেই - আজ তাতে যোগ দিয়েছেন অলিম্পিকে পদকজয়ী ভারতীয় কুস্তিগীর যোগেশ্বর দত্ত।

তার একটু পরেই বলিউডের বিখ্যাত গীতিকার ও কবি জাভেদ আখতার অবশ্য গুরমেহারের সমর্থনে টুইট করেন - বলেন অল্পশিক্ষিত খেলোয়াড় ও কুস্তিগীররা পর্যন্ত তাকে ট্রোল করছে! অভিনেত্রী পূজা ভাটও তার পাশে এসে দাঁড়ান।

আসলে এখন মূল বিষয়টা দাঁড়িয়েছে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার ফিরে পাওয়া - বলছিলেন আজকের বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক আইসা-র কাওয়ালপ্রীত কাউর।

এই ছাত্র নেত্রীর কথায়, "বিশ্ববদ্যালয় হল বিতর্ক-সংলাপ ও আলোচনার জায়গা। আপনি আমার কথায় একমত না হতে পারেন, কিন্তু সেই ভিন্নমতকে আপনি মর্যাদা দেবেন সেটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতি। এবিভিপি সেই অধিকার কেড়ে নিতে চাচ্ছে, আর তা বহাল রাখতেই আমাদের আন্দোলন।"

কিন্তু স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু - যিনি গতকাল কে গুরমেহার কাউরের মাথা খাচ্ছে বলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন - তিনি এদিনও পরিষ্কার জানিয়েছেন ভিন্নমত প্রকাশের নামে দেশের বিরোধিতা বরদাস্ত করা যাবে না।

মি রিজিজু এদিন বলেন, "আমার একমাত্র অনুরোধ হল নিজের মতাদর্শ প্রচার করার সময় দেশকে অপমান করবেন না। প্রধানমন্ত্রী, সরকার, দরকে রোজ তো কত লোকে গালিগালাজ করছে - কোনও সমস্যা নেই।"

"কিন্তু ভুললে চলবে না গুরমেহার কাউর একজন শহীদের কন্যা - আর সীমান্তে যখন আমাদের সেনারা মারা যায় তখন এই অতি-বামপন্থীরা, মাওবাদীরা উল্লাস করে।"

সরকারের এই বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার, তাদের দেশপ্রেমের ন্যারেটিভ আর বামপন্থীদের ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারের ব্যাখ্যায় ফারাক বিস্তর - আর সেই সংঘাতেরই প্রতিফলন এখন দেখা যাচ্ছে দিল্লি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে বা গুরমেহার কাউরের ফেসবুক পেজে!

সম্পর্কিত বিষয়