'ভূত তাড়ানো'র নামে আগুনে পোড়ানো হলো এক নারীকে

নিহতের মরদেহ গ্রহণ করছেন তার স্বামী ছবির কপিরাইট EPA
Image caption নিহত ভিলমা ত্রুজিল্লোর স্বামী স্থানীয় মর্গ থেকে তাঁর স্ত্রীর মরদেহ বুঝে নেন।

নিকারাগুয়ায় এক তরুণীর শরীর থেকে 'ভূত তাড়ানো'র নামে চিকিৎসা হিসেবে তাকে আগুনে পোড়ানো হয়।

আর আগুনে পোড়ানোর এক সপ্তাহ পর মারা গেছেন ভিলমা ত্রুজিল্লো নামের ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণী।

ভিলমা ত্রুজিল্লোর পরিবারের কয়েকজন সদস্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জুয়ান রোচা একজন ধর্মযাজক। চারজন সহযোগী নিয়ে তিনি ত্রুজিল্লোর ওপর হামলা চালিয়েছিলেন।

তবে মিসেস ত্রুজিল্লোকে আগুনে পোড়ানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রোচা।

তিনি বলেছেন, "অশুভ আত্মা ত্রুজিল্লোকে আগুনের ওপর ঝুলিয়ে রাখে। তারপর তাঁকে নিচে আগুনের ভেতর ফেলে দেয়"।

ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর মিসেস ত্রুজিল্লোর আগুনে পোড়া দেহ উদ্ধার করে তাঁর আত্মীয়স্বজন।

এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন জুয়ান রোচাসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ওই তরুণীর স্বামী রেনালদো পেরালতা রদ্রিগেজ জানান, তাঁদের দুটি সন্তান আছে।

কিছুদিন আগে মিসেস ত্রুজিল্লোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে সে সবাইকে ছুরি দিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করছিল। ত্রুজিল্লোর ওপর অশুভ আত্মার প্রভাব রয়েছে ভেবে গত সপ্তাহে তাঁকে স্থানীয় একটি গির্জায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মি: রদ্রিগেজ বলেন, "তারা যা করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। তারা আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। সে আমার দুই সন্তানের মা। এখন আমি আমার সন্তানদের কী বলবো?"

নিকারাগুয়ার মানবাধিকার কমিশনের একজন মুখপাত্র পাবলো কুইভাস বলেছেন, "আজকের দিনেও এমন হয়! সত্যিই অবিশ্বাস্য। সব সম্প্রদায় ও ধর্মের এসব বিষয় খতিয়ে দেখা উচিত"।

"এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে সেদিকেও নজর দেয়া উচিত" বলেন মি: কুইভাস।

অন্যদিকে দেশটির নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, ধর্মান্ধতা ও স্ত্রী-বিদ্বেষের অন্যতম একটি উদাহরণ এই ঘটনা।

আরো পড়ুন:

লিফট-গাড়ি নিয়ে ইন্দোনেশিয়া যাচ্ছেন সৌদি বাদশাহ

কোকা-কোলা, পেপসি নিষিদ্ধ হলো তামিলনাডুতে

ইয়াহিয়ার জন্য রান্না বন্ধ করে দিয়েছিলেন বাবুর্চিরা