গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মাঠে নামল বিএনপি

ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption বৃহস্পতিবারের অবস্থান বিক্ষোভে ভাষণ দিচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিরোধী দল বিএনপি ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় দুই ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। দলটি অভিযোগ করেছে,সিলেটসহ কয়েকটি জেলায় উন্মুক্ত জায়গায় তাদের এই অবস্থানে পুলিশ বাধা দিয়েছে।

তবে দীর্ঘ সময় পর সুনির্দিষ্ট কোনো একটি ইস্যু নিয়ে বিএনপি মাঠে এই কর্মসূচি নিয়েছিল। বিএনপি নেতারা বলেছেন, তাদের নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া অবাধে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হয় না।

যদিও সরকার দাবি করেছে বিরোধী দলগুলোর নিয়মতান্ত্রিক পথে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বাধা নেই।

বিএনপি ঢাকায় তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি সমাবেশ করেছিল ২০১৬ সালের ৫ই জানুয়ারি। এর এক বছরেরও বেশি সময় পর এখন দলটি মাঠে কোনো কর্মসূচি পালন করলো।

তবে সারাদেশে তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি ছিল নির্দিষ্ট একটি জায়গার ভিতরে। ঢাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা দুই ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে।

সিলেটে শহীদ মিনারে পুলিশের বাধা পেয়ে দলটির নেতা-কর্মীরা একটি কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা আরও কয়েকটি জায়গাতেও তাদের এই কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে।

ছবির কপিরাইট Sk Hasan Ali
Image caption বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "সরকার কয়েক বছর ধরে উন্মুক্ত স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দিচ্ছে না। গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হচ্ছে। গণতান্ত্রিক স্পেস বন্ধ করে কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"

বিএনপির আগের তৎপরতা ছিল মূলত নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা বা নির্বাচন কমিশন নিয়ে।

অনেকে এমন অভিযোগও করেন, দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বাড়ি রক্ষা বা তারেক রহমানের মামলার ইস্যুসহ নিজেদের বিষয় নিয়েই দলটি আগে ব্যস্ত ছিল।

এরই মাঝে অবশ্য সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে বামপন্থীদের আন্দোলনের পক্ষে বিএনপি তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি ইস্যু, জ্বালানি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দলটি মাঠে নামলো।

ইংরেজী দৈনিক নিউজ টুডে-র সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, সরকারের দমননীতির কারণে বিএনপি-র কর্মীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কর্মীরা সক্রিয় না হওয়ায় দলটি সংকটে পড়েছে।

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম

বিএনপি যে কোনও কর্মসূচি পালন করতে পারছে না, সেই দায় এই দলের উপরই চাপাচ্ছে সরকার বা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, "বিএনপি যদি কথা নাই বলতে পারে, তাহলে তারা যে সব অভিযোগ তুলছে, সেই স্পেস কীভাবে পাচ্ছে?"

"আমরা একটা বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি, সেটা হচ্ছে,রাস্তায় সমাবেশ না করা। কারণ এমনিতেই যানজট সমস্যা আছে। কিন্তু খোলা জায়গায় বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে কোনো বাধা দেওয়া হয় না।"

এদিকে, বিএনপির অনেক নেতা সরকারের আচরণের মুখে তাদের অসহায়ত্বের কথাও তুলে ধরেন। তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকে আবার মনে করেন, বিএনপি তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে শক্তভাবে দাঁড়াতে পারে না। সেই সুযোগই নিচ্ছে সরকার।

এ ধরনের বক্তব্যগুলোকে সুবিধাবাদীদের কথা বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মি: আলমগীর।

তাঁর বক্তব্য হচ্ছে, "অনেকবার আমাদের আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর সাথে সংঘাত হয়েছে।আমাদের বিরুদ্ধে কত মামলা হয়েছে, গুলি হয়েছে এবং কত লোক মারা গেছে।"

"আমাদের অফিসের সামনে থেকে নেতা-কর্মীদের তুলে নিয়ে যায়। এই অবস্থার মধ্যে আমাদের পক্ষে কতটুকু আর করা সম্ভব?" বলছেন মি আলমগীর।

সম্পর্কিত বিষয়