"জেন্ডার বিষয়ক ক্লাসে ধর্ষণ নিয়ে আলোচনা কি দোষের": বরখাস্ত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের প্রশ্ন

ছবির কপিরাইট Shafiqul Alam
Image caption ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে 'অশ্লীল চিত্র' প্রদর্শনের অভিযোগ এনে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের যে শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে তিনি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে বর্ণনা করেছেন।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ড: মোহাম্মদ রিয়াজুল হক বলেছেন, যে অভিযোগে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, সেই অভিযোগ সম্পর্কেই তিনি কিছু জানেন না।

"আমি আমার বিভাগ থেকেও কিছু জানতে পারিনি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও আমি এখনো কোন চিঠি পাইনি এবং কিছু জানতে পারিনি।"

পুরো বিষয়টিকে মিথ্যে অভিযোগ হিসেবে বর্ণনা করে ড: রিয়াজুল হক বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কেউ তাঁর বিরুদ্ধে এটা সাজিয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

"এটা কোন ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হতে পারে। হয়তো কোন শিক্ষকের ব্যক্তিগত আক্রোশ থাকতে পারে। আমি ডিপার্টেমেন্টের পরবর্তী চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছি। হয়তো কেউ কেউ নাও চাইতে পারে।"

উল্লেখ্য শিক্ষক ড: মোহম্মদ রিয়াজুল হককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সিন্ডিকেট সভায়। ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন "সংশ্লিষ্ট বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখে মনে করেছে তিনি একটি কোর্স পরিচালনা করার সময় শিক্ষার্থীদের এমন কিছু জিনিস দেখিয়েছেন যেগুলো অত্যন্ত অশ্লীল।"

"সেগুলোর সঙ্গে জেন্ডার ও ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক ওই কোর্সের কোনও সম্পর্ক তো নেইই, বরং সেগুলো প্রায় পর্নোগ্রাফির পর্যায়ে পড়ে", জানিয়েছেন মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটও প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছে যে ড: মোহম্মদ রিয়াজুল হক ক্লাসে যে সব হ্যান্ড-আউট, কপি বা পোর্ট্রেট দেখিয়েছেন সেগুলো অত্যন্ত অশ্লীল।

এর জবাবে ড: মুহাম্মদ রিয়াজুল হক বলেন, তিনি যেসব বিষয় ক্লাসে দেখিয়েছেন বা আলোচনা করেছেন তা পুরোপুরি তার কোর্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে অশ্লীল বা আপত্তিকর কিছু আছে এমন অভিযোগ তিনি কখনো কোন শিক্ষার্থী বা সহকর্মীর কাছ থেকে পাননি।

"আমি যে কোর্সটা পড়াই তার নাম হচ্ছে জেন্ডার স্টাডিজ। গত বছর যাদের আমি এই কোর্সটা পড়িয়েছি, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা ব্যাচ ছিল। আরেকটা ছিল বিভিন্ন প্রোগ্রামের প্রফেশন্যালস, এরা সবাই চাকরি-বাকরি করেন, তাদের একটা ব্যাচ। কারা অভিযোগ করেছে, আমি সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানি না।"

"আমার শিক্ষার্থী যারা, তারা সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক। এখন প্রস্টিটিউশন নিয়ে আলোচনা করা কি দোষের ? ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে আলোচনা করা কি দোষের ? ধর্ষণ নিয়ে আলোচনা করা কি দোষের? আপনি কি মনে করেন ঘেটুপুত্র কমলা অশ্লীল সিনেমা ? যদি অশ্লীল হয়ে থাকে, এই ছবি মুক্তি পেল কিভাবে?"

তিনি আরও বলেন, "আমি যদি পর্ণোগ্রাফির পর্যায়ে পড়ে এমন কিছু দেখিয়ে থাকি, তাহলে তো তার পরের সপ্তাহেই ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট এডভাইজর বা ব্যাচ কো-অর্ডিনেটর আমাকে তা জানাতেন।"

তিনি প্রশ্ন তোলেন কোর্স শেষ হওয়ার এতদিন পর কেন এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

উল্লেখ্য উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিভাগীয় চেয়ারপার্সন ও সহকর্মীরাও তাকে অনেকদিন ধরেই বলে আসছিলেন ক্লাসে যেন তিনি ওই ধরনের আপত্তিকর জিনিসপত্র না দেখান।

"কিন্তু মৌখিকভাবে সতর্ক করার পরও তিনি সে কথায় কর্ণপাত করেননি, তাকে সহকর্মীরা সংশোধন করে নিতে বললেও তিনি সে কথা গায়ে মাখেননি", জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে ড: মোহম্মদ রিয়াজুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগটা প্রথম এসেছিল তার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই।

কোর্স পরিচালনা করার সময় তিনি ক্লাসে যে ধরনের 'কনটেন্ট' দেখাতেন তা তার ছাত্রছাত্রীরাই ভালভাবে নেয়নি।

ওই শিক্ষক নিজের ফেসবুক পেজে নানা আপত্তিকর উদ্ধৃতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সে ব্যাপারে অভিব্যক্তি চাইতেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে অ্যাকাডেমিক কমিটি দেখতে পেয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়