লাহোরে পিএসএল ফাইনাল: হোটেলে আর স্টেডিয়ামের কাছে হচ্ছে অস্থায়ী হাসপাতাল

  • ৪ মার্চ ২০১৭
ছবির কপিরাইট AP
Image caption লাহোরের ম্যাচটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে

পাকিস্তান সুপার লীগ বা পিএসএল- এর ফাইনাল দিয়েই বহু বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পেতে যাচ্ছে পাকিস্তান।

লাহোরে রোববারের এই ম্যাচটিকে ঘিরে সাড়া পড়েছে দেশটিতে, মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

খেলার চেয়ে আসলে তাদের কাছে বড় বিষয় হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে পাকিস্তানে প্রায় সাত বছর পর।

যদিও বিদেশীদের অনেকেই নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, তারপরেও নিরাপত্তায় নেয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা চাঁদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। পুরো এলাকায় দোকান রেস্তোরা সব বন্ধ করে মানুষ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে লাহোর সব হাসপাতালকেও।

দলগুলো যেখানে থাকবে সেই হোটেলেও পাঁচ শয্যার হাসপাতাল বানানো হচ্ছে। আর স্টেডিয়ামের নিকট দূরত্বে করা হচ্ছে আরেকটি ২০ শয্যার অস্থায়ী হাসপাতাল।

ছবির কপিরাইট EPA
Image caption স্টেডিয়ামের কাছেই হবে ২০ শয্যার আরও একটি অস্থায়ী হাসপাতাল

আর টিকেটের জন্য লাহোর ও করাচী সহ সর্বত্র ব্যাংকগুলোতে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। বেশি সংখ্যক দর্শককে সুযোগ দিতে কর্পোরেটদের জন্য বরাদ্দ করা টিকেট কমিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

দুবাইতেই এতদিন হয়ে আসছিলো পিএসএল, আর তাতে অংশ নিচ্ছিলেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল সহ বিভিন্ন দেশের অনেক তারকা খেলোয়াড়।

কিন্তু এসব তারকাদের অধিকাংশই লাহোরের ম্যাচ থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

কোয়েটা গ্লাডিয়েটরস ও পেশোয়ার জালমির মধ্যকার এ ম্যাচে কোয়েটার পাঁচ বিদেশী খেলোয়াড়ের কেউই থাকবেনা।

তবে পেশোয়ারের মালিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তার দলের পাঁচ বিদেশী ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানে যাবেন।

এর মধ্যে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন সামি এবং মারলন স্যামুয়েলস।

তবে এখন পর্যন্ত যেটুকু জানা যাচ্ছে তা হলো বিদেশীরা সেখানে খেললে বাড়তি ১০ হাজার ডলার পাবেন।

এদিকে পাকিস্তান সরকার লাহোর ম্যাচের নিরাপত্তার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে।

ছবির কপিরাইট AP
Image caption টিকেটের জন্য দর্শকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে ব্যাংকের সামনে

২০০৯ সালে শ্রীলংকা দলের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ রয়েছে।

যদিও ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ে সেখানে সফর করেছে।

এর মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ আরব আমিরাতকেই তাদের হোম ম্যাচের জন্য ভেন্যু হিসেবে বেছে নেয় এবং পিএসএলও সেখানেই হচ্ছিলো।

এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আবার পাকিস্তানে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে পিএসএল-এর ফাইনাল লাহোরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।