জঙ্গি মোকাবেলায় ইউরোপ অ্যামেরিকার চেয়েও দক্ষ বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী ইনু

  • ৪ মার্চ ২০১৭
ছবির কপিরাইট SITE
Image caption গুলশানে হামলার পর ইসলামিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠী তাদের বার্তা সংস্থা 'আমাক' এ পাঁচ হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করে।

বাংলাদেশে বিদেশী কোন জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা নেই, দেশটির কর্তৃপক্ষ সবসময় এমন দাবি করে এলেও যুক্তরাষ্ট্র মনে করে দেশটিতে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট এবং ভারতীয় উপমহাদেশের আল-কায়দার সঙ্গে যোগসূত্র আছে এমন চরমপন্থিরা তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশ করা মানবাধিকার চর্চা বিষয়ক কান্ট্রি রিপোর্টের বাংলাদেশ অংশে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। সেখানে বাংলাদেশে গত বছর বিচার-বহির্ভূত হত্যা,গুম, গণ-গ্রেপ্তার ইত্যাদি বৃদ্ধির বিষয়টি যেখানে উল্লেখ রয়েছে, তেমনি বলা হচ্ছে সেখানে অনলাইনে মত প্রকাশের এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর সরকারের হস্তক্ষেপ রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের নেতৃত্বাধীন এই দপ্তর তাদের মানবাধিকার বিষয়ক রিপোর্টটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার গভীর রাতে। সেখানে বাংলাদেশ অংশে বলা হয়, কথিত ইসলামিক স্টেট এবং ভারতীয় উপমহাদেশের আল কায়দার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করে এমন চরমপন্থি সংগঠনগুলো বাংলাদেশে তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে, তারা উচ্চপর্যায়ের হামলা চালাচ্ছে যেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, শিক্ষক, বিদেশী নাগরিক, মানবাধিকার কর্মী, সমকামী ও হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা নিহত হচ্ছেন।

জবাবে বাংলাদেশ সরকারও তার জঙ্গি-বিরোধী তৎপরতা বাড়িয়েছে, যার ফলে বেড়েছে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণ-গ্রেপ্তার, চাঁদার দাবিতে গ্রেপ্তার, গুম, নির্যাতনসহ নানা রকম মানবাধিকার-বিরোধী তৎপরতা।

ছবির কপিরাইট Police
Image caption ঢাকার কল্যাণপুরে 'জাহাজবাড়ি'তে পুলিশি অভিযানে নিহত হয়েছিল নয়জন জঙ্গি

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই রিপোর্টটি পড়েছেন মানবাধিকার সংস্থা আইন ও শালিস কেন্দ্রের নুর খান লিটন।

তিনি বলেন, "আমরা বিগত দিনে যে কথা বলেছি সেই কথারই পুনরাবৃত্তি লক্ষ করলাম। বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, পুলিশি হেফাজতে বন্দীদের মৃত্যু, তারপর এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স যেটাকে আমরা গুম বলি, এই ঘটনাগুলো প্রতিনিয়তই আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের এখানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সেটার অংশ বিশেষ স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদনে আমরা লক্ষ্য করছি। বাস্তবতা আরো অনেক খারাপ।"

অবশ্য বাংলাদেশের সরকার কখনই দেশটিতে বিদেশী জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতা থাকার কথা স্বীকার করে না, এমনকি আজও ভোলায় একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বাংলাদেশে আইএস বা আল কায়দার কোন তৎপরতা নেই বলে দাবি করেছেন।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই প্রতিবেদনের উপর মন্তব্য চাইতে চাইলে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বিবিসিকে বলেছেন, বাংলাদেশ ইউরোপ-আমেরিকার চাইতেও দক্ষতার সাথে জঙ্গি তৎপরতা মোকাবেলা করেছে।

"ইউরোপ আমেরিকায় যত বিপজ্জনক আক্রমণ হয়েছে অত বিপজ্জনক আক্রমণ বাংলাদেশে করতে পারেনি। আমরা ওদের চাইতে দক্ষতার সাথে জঙ্গি সন্ত্রাসীদের কাবু করেছি। এ ব্যাপারে আমি মনে করি আমাদের সরকার চমৎকার ভূমিকা রাখছে এবং শান্তি ফেরত এনেছে।"

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ক্ষমতা ও স্বাধীনতাকে দুর্বল বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচী পালনে সরকারি বাধার কথাও উল্লেখ করা হয়। আর অনলাইনে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ব্যাপারে দেশটিতে বিধিনিষেধ আরোপ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, "আমরা গণমাধ্যমের জগতে সংবিধানবিরোধী কোন আইনই তৈরি করিনি। বরঞ্চ সাংবাদিকদের জন্য হয়রানিমূলক কিছু আইন আগের সরকার করেছিল সেগুলো বাতিল করে দিয়েছি। আমরা সম্প্রচার নীতিমালা করেছি, সেটা সবাইকে নিয়েই করেছি। সে নীতিমালা আসার পরে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশ করার, সমালোচনা করার কোন হেরফের হচ্ছে না।"

ছবির কপিরাইট Focus Bangla
Image caption পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযান

"এই সরকারের আমলে আমরা ছ'শোর বেশী নতুন পত্রিকার নিবন্ধন দিয়েছি। আমরা কমিউনিটি রেডিও এফএম রেডিও ও টেলিভিশনকে ব্যক্তি মালিকানায় উন্মুক্ত করে দিয়েছি। সুতরাং গণমাধ্যমের উপর সংকোচন নীতির কোন তথ্য ওই প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এটা একটা ঢালাও মন্তব্য, দুঃখজনক মন্তব্য," বলেন তিনি।

মি. ইনু আরো জানান, বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে কোন আইন না থাকা সত্বেও সেগুলোকে এখনও চলতে দেয়া হচ্ছে, যদিও তিনি আশা করছেন, আগামী মাসেই এ সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

অবশ্য ৫৭ ধারা নামে পরিচিত একটি আইন নিয়ে দারুণ সমালোচনা রয়েছে, যার অধীনে বিগত বছরে বহু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারকারী ও সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।

এই আইনের অধীনে প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে অনলাইনে হুমকি দেয়ার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেককে কারাদণ্ডও দিয়েছে আদালত।