ভারতে রাম জন্মভূমিবিরোধী মুসলিম নেতা সৈয়দ সাহাবুদ্দিন মারা গেছেন

দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকায় দাফন করা হয়েছে সৈয়দ সাহাবুদ্দিনকে। ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকায় দাফন করা হয়েছে সৈয়দ সাহাবুদ্দিনকে

ভারতের প্রভাবশালী এক মুসলিম নেতা সৈয়দ সাহাবুদ্দিন আজ সকালে দীর্ঘ রোগভোগের পরে মারা গেছেন।

প্রাক্তন কূটনৈতিক ও তিনবারের সংসদ সদস্য মি. সাহাবুদ্দিনের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

সালমান রুশদির লেখা 'স্যাটানিক ভার্সেস' ভারতে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন।

রাম-জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্কেও তিনি মুসলমান সমাজের পক্ষে অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন প্রাক্তন এই কূটনৈতিক।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সৈয়দ সাহাবুদ্দিনের জানাজায় যোগ দেয় বহু মানুষ

তার জন্ম ১৯৩৫ সালে বিহারের (বর্তমানে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাজধানী) রাঁচিতে। দশম শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষায় সারা রাজ্যে প্রথম হওয়া মি. সাহাবুদ্দিন যোগ দিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিসে।

কিন্তু চাকরি ছেড়ে ৭০-এর দশকে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি।

বিহারের কিষণগঞ্জ থেকে তিনবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

তবে ১৯৮৮ সালে সালমান রুশদির লেখা 'দা স্যাটানিক ভার্সেস' বইটি নিষিদ্ধ করার দাবী তুলে তিনি প্রথম বিশ্বব্যাপী প্রচারের আলোয় আসেন।

ভারতই প্রথম দেশ, যেখানে মি. সাহাবুদ্দিনের চাপে পড়েই সরকার 'স্যাটানিক ভার্সেস' নিষিদ্ধ করেছিল। তারপরে ইরান নিষেধাজ্ঞা জারী করে।

বহুল চর্চিত শাহ বানো মামলা নিয়েও সরব ছিলেন মি. সাহাবুদ্দিন। ওই মামলাটি আদতে ছিল এক তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম নারীর খোরপোষের মামলা, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল মিসেস বানোর পক্ষে।

Image caption ভারতে স্যাটানিক ভার্সেস বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে করেছিলেন সৈয়দ সাহাবুদ্দিন

কিন্তু রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন সরকার মি. সাহাবুদ্দিনসহ মুসলমান সমাজের একাংশের চাপে সেই রায়কে উল্টে দিতে নতুন আইন করেছিল।

অযোধ্যার রাম-জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কেও দীর্ঘদিন মুসলমান সমাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন সৈয়দ সাহাবুদ্দিন। বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটির প্রধান ছিলেন তিনি।

নয়ডার একটি হাসপাতালে আজ সকালে মৃত্যুর পরে দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকায় দাফন করা হয়েছে সৈয়দ সাহাবুদ্দিনকে।

সম্পর্কিত বিষয়