রোগীদের জিম্মি করে চিকিৎসকদের ধর্মঘট বেআইনি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • ৫ মার্চ ২০১৭
ছবির কপিরাইট PID
Image caption চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশের কয়েকটি সরকারী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি পালনকে 'বেআইনি' বলে উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের ওপর ইন্টার্ন ডাক্তারদের হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করছেন সেখানকার ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আরো ৫ টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও শনিবার থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।

"রোগীকে সেবা দেয়ার দায়িত্বে রয়েছেন চিকিৎসকরা। রোগীর স্বজনরা যদি আহত হয়, লাঞ্ছিত হয় এবং রোগীও মৃত্যুবরণ করেছে এটাতো উপেক্ষা করা সম্ভব না। এর প্রতিবাদে যদি চিকিৎসকরা কর্মবিরতি করে সেটাওতো দুখ:জনক। রোগীকে জিম্মি করেতো কোন চিকিৎসক এভাবে ধর্মঘট করতে পারে না। এটা শুধু বেআইনি-ই নয়, অমানবিক"। বলেন মি. নাসিম।

বগুড়ার সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন রোগীর স্বজনকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা পিটিয়েছে এই অভিযোগ ওঠার পর এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর স্বজনদের পেটাচ্ছে এমন একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের চারজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

শাস্তির প্রতিবাদেই কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। যার ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় সংসবাদদাতারা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ঘটনার পর তদন্তের ভিত্তিতেই চারজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে ছয় মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে তাদের ভিন্ন চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ছবির কপিরাইট Focusbangla
Image caption বগুড়ায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি (শনিবারের ছবি)

এবিষয়ে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা মন্তব্য করতে রাজী হননি।

বগুড়ায়ও ঐ ঘটনায় রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ তুলছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডাক্তার ইহতেশামুল হক চৌধুরীও বলেন, বিষয়টিকে পূর্ণাঙ্গভাবে দেখা হয়নি।

"যে ইভটিজিং করলো, তার বেলায় কি হলো জাতি জানতে পারলো না। সরকার শুধু একপাক্ষিকভাবে বলবে যে, আমরা ভালো ব্যবহার করবো। কীভাবে?" বলেন ডা. চৌধুরী।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজ বন্ধ রাখায় হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবে না বলে দাবী করছেন তিনি।

বাংলাদেশে চিকিৎসক এবং রোগীদের স্বজনদের মধ্যে সংঘাত প্রায় নিয়মিত ঘটনাই হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে বহুবার।

ছবির কপিরাইট Focusbangla
Image caption বগুড়ায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি (শনিবারের ছবি)

ডা. চৌধুরী বলেন, চিকিৎসকদের যে সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয় সেটি সরকার, রোগী এবং চিকিৎসক সমাজ সবাইকেই বুঝতে হবে।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলছিলেন, এখানে দুই পক্ষের মধ্যেই অনেকসময় অসহিষ্ণুতা দেখা যায়।

তিনি বলেন- "চিকিৎসকদেরও একটু ধৈর্যশীল বেশি হওয়া দরকার। কিন্তু অন্যদেরও বুঝতে হবে যে আত্মীয়-স্বজন অসুস্থ হতে পারে, পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে এটাতে সবসময় চিকিৎসকদের ওপর দোষ দেয়াটাও ঠিক না"।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, চিকিৎসক এবং রোগীদের সুরক্ষায় একটি নতুন আইন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আইনটি পাশ হলে বিষয়গুলো অনেক কমে আসবে বলে আশা করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

সম্পর্কিত বিষয়