জাপানের সীমানায় পড়লো উত্তর কোরিয়ার রকেট

  • ৬ মার্চ ২০১৭
দক্ষিণ কোরিয়ার টেলিভিশনে রকেটগুলোর গতিপথ দেখানো হচ্ছে। ছবির কপিরাইট AP
Image caption দক্ষিণ কোরিয়ার টেলিভিশনে রকেটগুলোর গতিপথ দেখানো হচ্ছে।

জাপান সাগর লক্ষ্য করে উত্তর কোরিয়া চারটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।

রকেটগুলোর মধ্যে তিনটি পড়েছে এক হাজার কিলোমিটার দূরে জাপানের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে একে হুমকির নতুন এক পর্যায় বলে অভিহিত করেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, চীনের সীমান্তবর্তী এক জায়গা থেকে উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে।

উত্তর কোরিয়া এর আগেও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি পরীক্ষার সাথে সাথে কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

Image caption উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির পাল্লা

উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর টোকিও, ওয়াশিংটন এবং সোল থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া এবং ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

তিন দেশের রাজধানীর মধ্যে জরুরি ফোনালাপ হয়েছে এ নিয়ে।

উত্তর কোরিয়ার ওপর ইতিমধ্যেই কঠোর সব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপিত আছে, এবং এসব নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করার ব্যাপারেও আলোচনা হয় তিনটি দেশের মধ্য।

রাশিয়াও এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র বলেছেন তারা উদ্বিগ্ন যে এতে ই এলাকায় উত্তেজনা বেড়ে যেতে পারে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে জাতিসংঘের প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে বলেন, উত্তর কোরিয়া একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক কাজ করেছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা এখন ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপের পর তার গতিপথ কি ছিল তা পরীক্ষা করে দেখছেন, যাতে উত্তর কোরিয়া মিসাইল প্রযুক্তিতে কোন উন্নতি করেছে কিনা তা বোঝা সম্ভব হয়।

দেশটি এর আগে বলেছিল, তারা আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত পর্বে রয়েছে, যে ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু বোমা বহন করতে পারবে - এবং তা আমেরিকার শহরগুলোতে আঘাত হানতে পারবে।

এ ছাড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার যে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হয়েছে - তার বিরোধিতা করতেই উত্তর কোরিয়ার এই পরীক্ষা। উত্তর কোরিয়া মনে করে , এটি আসলে উত্তর কোরিয়ার মাটিতে অভিযান চালানোর মহড়া।