বাংলাদেশে মেয়েদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কেমন?

  • ৮ মার্চ ২০১৭
একটি প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন শাহেদা নাসরিন। ছবির কপিরাইট Farhana Parvin
Image caption একটি প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন শাহেদা নাসরিন।

আজ থেকে ২০ বছর আগে পড়াশোনা করা অবস্থায় বিয়ে হয়ে যায় শাহেদা নাসরিনের। সেসময়ে পড়াশোনা শেষ করে নিজে কিছু করার চিন্তা ছিল তার জন্য অকল্পনীয়।

বাঁধা ছিল স্বামী এবং বাবার বাড়ীর দুই পক্ষ থেকেই। কিন্তু তিনি এখন প্রতিষ্ঠিত, একটি প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। ২০ বছর আগে নারীদের প্রতি সমাজের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সেটা এখন কতটা পালটেছে?

নিজের জীবন থেকে অভিজ্ঞতা শেয়ার করছিলেন শাহেদা নাসরিন।

তিনি বলছিলেন "এখন দেখা যাচ্ছে ফ্যামিলিতে সেই আমার মতই একজন আসছেন কিন্তু তার জন্য পরিস্থিতিটা অনেক সহজ হয়ে গেছে যেটা আমার জন্য অনেক কঠিন ছিল। আমি যখন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চেয়েছি বা চাকরি করতে চেয়েছি তখন বলতে শুনেছি মানুষ কি বলবে!কিন্তু এখন মেয়েরা বিয়ে হয়ে গেলেও নিজে কিছু করার চিন্তা অনেক পরিবারই সমর্থন করে"।

পেশা নির্বচনের ক্ষেত্রেও তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ পেশাতে উৎসাহিত করা হয়। পেশায় প্রকৌশলী সাবরিনা আফরিন বলছিলেন বর্তমান সময়ে যেকোন পেশায় নারীদের যোগদানকে সামাজিক গ্রহণযোগতা তৈরি হয়েছে।

"আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় আসলাম তখন দেখতাম তিন বার চার জন মেয়ে এই পেশায়। আবার এই পেশায় নাইট-ডিউটি করতে হয় আমাদের। আগে মেয়েরা নাইট-ডিউটি করলে ভালো-ভাবে দেখা হত না। এখন একটা পেশাকে আলাদা করে মেয়েদের জন্য বা ছেলেদের জন্য এভাবে আমরা দেখছি না" বলছিলেন সাবরিনা।

নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ক্ষেত্রেই ইতিবাচক হওয়ার প্রমাণ রয়েছে অনেক। তারপরেও কিছু ক্ষেত্রে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা কম নয়।

ছবির কপিরাইট Farhana Parvin
Image caption ছেলে আর মেয়েদের জন্য আলাদা পেশা এটা মনে করি না- বলছিলেন সাবরিনা

উত্তরায় কথা হচ্ছিল গৃহিণী শাহনাজ চৌধুরির সাথে। তিন মেয়ের মা শাহনাজ বলছিলেন তাঁর দৈনন্দিন জীবনের নেতিবাচক ঘটনার কথা।

"ডোমিনেট করার প্রবণতা এখনো আছে। আমি পুরুষ তুমি নারী এই বিষয়টা এখনো আছে। আমি স্কুটি চালায়। আশে-পাশের মানুষ নেগেটিভ ভাবে দেখে। আবার যেহেতু আমার স্বামী নেই আমাকে সব কাজ একা করতে হয়। ঘরের একটা জিনিস কিনতে যদি রাতে বাইরে বের হয় তখন আমাকে দেখে মানুষের চোখে নানা জিজ্ঞাসা টের পায়" অনেকটা ক্ষোভ জানাচ্ছিলেন শাহনাজ।

সমাজের যখন নারীদের সমান অধিকারের কথা বলা হয় তখন অনেকের অভিযোগ এই নারীরাই অনেক ক্ষেত্রে বাধার কারণ হয়ে দাড়ায়।

ছবির কপিরাইট Farhana Parvin
Image caption মেয়েদের সফলতায় মেয়েরা বেশি ঈর্ষান্বিত হয়-বলছিলেন মুনমুন

নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বসে মুনমুন বলছিলেন একটি মেয়ের সফলতায় প্রথম ঈর্ষান্বিত হন আরেকজন মেয়ে।

" যখন আমি একটি পরিবারে আর দুইটা মেয়ের থেকে ভাল কিছু করবো তখন তারাই প্রথমে ঈর্ষান্বিত হয়। কারণ একই পরিবারে থেকে তারা পারলো না, আমি কিভাবে পারলাম। আবার অফিসেও সেই একই অবস্থা । সামনে এগিয়ে যান তারাই আপনার পিছনে কথা বলবে। মেয়েদের মধ্যে সবসময় জেলাসি কাজ করে"।

বাংলাদেশে নারীদের প্রতি সামাজিক একটা দৃষ্টিভঙ্গি ছিল একটি মেয়ে স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে সংসার জীবনে প্রবেশ করবে। বাংলাদেশের অনেক ছোট শহর ও গ্রামে সেই ধারণা এখনো রয়েছে।

তবে সময়ের সাথে সাথে সেই দৃষ্টিভঙ্গির যে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে সেটা এখনকার নারীরাই স্বীকার করছেন।