৭ই মার্চে মানুষের 'বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল বিপ্লবের, প্রতিরোধের'

  • ৭ মার্চ ২০১৭
শেখ মুজিবুর রহমান
Image caption বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দিচ্ছেন। (ফাইল ফটো)

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান - যে ভাষণকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের প্রথম আহ্বান বলে অভিহিত করেন অনেকেই।

"অনেকে বলছিলেন আজই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেবেন, কেউ বলছিলেন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার ডাক দেবেন। একটা উত্তেজনা ছিল সবার মধ্যে"।

সেদিনের জনসমাবেশে একজন শ্রোতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সেসময় যিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের একজন নেতা।

"মানুষের বডি ল্যাঙ্গুয়েজটা ছিল বিপ্লবের, প্রতিরোধের"- ৪৬ বছর আগের উত্তাল দিনটির স্মৃতিচারণ করে বলছিলেন মাহফুজ আনাম।

তিনি বলেন, মানুষের এতটাই ভিড় ছিল যে বেলা বারোটার দিকে বর্তমান সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে গিয়ে তারা উপস্থিত হলেও মাঠের একেবারে এক প্রান্তে শেষ পর্যন্ত জায়গা পেয়েছিলেন তিনি ও তাঁর সাথের লোকজন। এর আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে গিয়েছিল পুরো ময়দান।

'৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর যে বিপ্লবী রূপ ছিল তা আগে পাইনি'

৭ই মার্চের ভাষণের জন্য মুজিব যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন

Image caption ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম

"একজন যুবক আমরা স্বাধীনতার কথা বলছি, দেশ স্বাধীন হবার দ্বারপ্রান্তে। এটা যে কী ধরণের একটা অনুভূতি সেটা বলে বোঝানো কঠিন" - বলছিলেন মাহফুজ আনাম।

"যারা আশা করছিলেন তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেবেন, সেই ধরণের বাক্যচয়ন না হলেও, উনার বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষণার আর বাকীটা কী রইলো"।

শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সেই মুহূর্তে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন বলে মনে করেন মাহফুজ আনাম।

তিনি বলেন- "কিছুটা অস্পষ্টতা রেখে দিয়ে রাজনৈতিক কৌশলের একটি নিপুণ উদাহরণ হিসেবে আমি ঐ বক্তব্যটাকে মনে করি"।

সম্পর্কিত বিষয়