ফুরিয়ে আসছে এন্টিবায়োটিকের ক্ষমতা
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ফুরিয়ে আসছে এন্টিবায়োটিকের ক্ষমতা

নতুন নতুন এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারের ওপর জোর দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানের বহু এন্টিবায়োটিকই এখন আর কাজ করছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এর ফলে ব্যাকটেরিয়া মোকাবেলায় নতুন নতুন এন্টিবায়োটিকের আবিষ্কার খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক এই সংস্থাটি এরকম ১২টি ব্যাকটেরিয়া পরিবারের তালিকা প্রকাশ করেছে।

মানবদেহে রোগের সৃষ্টি করতে পারে এরকম ১২টি জীবাণুকে তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে।

ডাব্লিউ এইচ ওর কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানের অনেক এন্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে এসব জীবাণু। ফলে মানব স্বাস্থ্যের জন্যে এটা বড় রকমের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘের উদ্ভাবন বিষয়ক সহকারী মহাপরিচালক ম্যারি পল কিয়েনি, নতুন নতুন এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারের লক্ষ্যে গবেষণার জন্যে অর্থ বিনিয়োগের ব্যাপারে সব দেশের সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে এখন আর বাজারে এন্টিবায়োটিকের চাহিদা অনুসারে এই ওষুধ উৎপাদন করলে চলবে না।

ছবির কপিরাইট SPL
Image caption নতুন নতুন এন্টিবায়োটিকের গবেষণার ওপর জোর দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

কারণ ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলি শুধুমাত্র সেসব এন্টিবায়োটিকই উৎপাদন করতে আগ্রহী বাজারে যেগুলোর চাহিদা আছে এবং এসব বিক্রি করে তারা প্রচুর মুনাফা অর্জন করতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় যেসব ব্যাকটেরিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলো নিউমোনিয়া এবং সেপটিসেমিয়া এবং খাবারের কারণে পেটের পীড়ার মতো অসুখের জন্যে দায়ী।

এসব নিয়ে শুনুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের সাক্ষাৎকার।

শুনতে চাইলে আপনাকে উপরের অডিও লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

বায়ু দূষণ কমাতে গাছপালা

আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, বায়ু দূষণ-জনিত কারণে প্রতি বছর ৩০ লাখের মতো মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে।

এর ফলে পরিবেশগত কারণে এই দূষণ মানুষের জন্যে সবচে বড়ো হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখন এই বায়ু দূষণ কিভাবে কমানো যেতে পারে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর একটি সমাধান হতে পারে প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানো। কারণ গাছপালা এসব দূষণ শুষে নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ফরেস্ট সার্ভিসের শীর্ষস্থানীয় একজন বিজ্ঞানী ড. ডেভিড নোভাক এবিষয়ে একটি গবেষণা চালিয়েছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শহরাঞ্চলে গাছপালা বায়ু দূষণের মাত্রা এক শতাংশ হলেও কমিয়ে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র ১ শতাংশ কমানো গেলেও সামান্য এই ব্যবধানই বড় রকমের স্বাস্থ্য সুবিধা বয়ে আনতে পারে।

গাছপালা কি আসলেই বায়ু দূষণ কমাতে পারে? পারলেও কতোখানি? ড. ডেভিড নোভাক এর ওপরে গবেষণা করছেন, তিরিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে।

তিনি বলেন, "শহরাঞ্চলে গাছপালা বায়ু দূষণের মাত্রা গড়ে প্রায় এক শতাংশেরও কম কমাতে পারে। এটা অবশ্য নির্ভর করে দূষণকারী উপাদানগুলোর উপর। তবে গবেষণায় আমরা বেশি উন্নতি যেটা দেখেছি সেটা হলো প্রায় ১৫ শতাংশ।"

Image caption বায়ু দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্যে বড় রকমের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে

উন্নতির এই মাত্রা খুবই কম। তারপরেও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এই উন্নতি বড়ো রকমের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

"এবিষয়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়েই আমরা গবেষণা চালিয়েছি। বিশেষ করে ৪৮টি অঙ্গরাজ্যে। গবেষণায় আমরা দেখেছি এসব গাছপালা প্রায় পৌনে দু'কোটি টন বায়ু দূষণ শুষে নিতে পারে। সামগ্রিকভাবে আমরা দেখেছি এর ফলে গোটা দেশে স্বাস্থ্য খাতে যে পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব সেটা হচ্ছে প্রায় সাতশো কোটি ডলার। এছাড়াও এসব গাছপালার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বছরে সাড়ে আটশোর মতো মানুষের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হয়," বলেন তিনি।

তবে এই দূষণের মাত্রা সব গাছই সমান পরিমাণে কমাতে পারে না। কোন কোন গাছ এই দূষণ শুষে নেওয়ার ব্যাপারে অনেক বেশি দক্ষ।

এরকম একটি গাছের নাম কনিফার। এর নরম ও আঠালো পাতার কারণে এটি সহজেই দূষণ শুষে নিতে পারে। বড়ো বড়ো এল্ম গাছ কমাতে পারে বাতাসে ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমাণ, এগুলো শুষে নিয়ে এবং এই গ্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়ে।

এছাড়াও বহু গাছ আছে যা পরিবেশকে ঠাণ্ডা রাখে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বিজ্ঞানীরা বলছেন, গাছপালা দূষণ শুষে নিয়ে বায়ু বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে

বিজ্ঞানী স্টিফেন নোভাক বলেন, "দিনের বেলায় এই গাছের পাতা বাতাস থেকে ক্ষতিকর গ্যাস শুষে নেয়। সেখান থেকে নির্গত হয় জলীয় বাষ্প। ফলে বাতাসের তাপমাত্রা কমে যায়। বায়ু দূষণের মাত্রা কতোটা তীব্র হবে সেটা পরিবেশের তাপমাত্রার ওপরেও নির্ভর করে।"

আবার কিছু কিছু গাছ আছে যেটা বায়ু দূষণের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও ফেলতে পারে। যেমন ওক গাছ থেকে এমন এক উপাদান নির্গত হয় যা তৈরি করে বায়ু দূষণকারী ওজন। ফলে কমে যেতে পারে বায়ু দূষণ কমাতে এই গাছের ইতিবাচক ভূমিকাও।

শুধু তাই নয়- গাছপালা কিন্তু বায়ু দূষণের মাত্রাকে আরো বাড়িয়েও দিতে পারে যদি গাছ ভুল জায়গাতে লাগানো হয়।

যেমন আপনি যদি এমন কোন রাস্তা দিয়ে যান যার ওপর শামিয়ানার মতো গাছপালা ছড়িয়ে আছে সেখানে দূষণকারী গ্যাস আটকা পড়ে থাকতে পারে। ফলে বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোথায় গাছ লাগাবো আর কোথায় রাস্তা বানাবো সেবিষয়ে চিন্তাভাবনা করারও প্রয়োজন রয়েছে।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান

সম্পর্কিত বিষয়