ভবন ভাঙ্গতে তিনবছর সময় চাইছে বিজিএমইএ

  • ৯ মার্চ ২০১৭
ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় একটি জলাশয়ের মধ্যে যথাযথ অনুমতি ছাড়াই ১৬ তলা এই ভবনটি নির্মাণ করেছিল বিজিএমইএ ছবির কপিরাইট BBC BANGLA
Image caption ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় একটি জলাশয়ের মধ্যে যথাযথ অনুমতি ছাড়াই ১৬ তলা এই ভবনটি নির্মাণ করেছিল বিজিএমইএ

পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, তাদের যে অফিস ভবনটি আদালত ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে, সেটি ভাঙ্গার জন্য আদালতের কাছে তারা আরও তিন বছর সময় চাইছে।

বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে আবেদনটি উপস্থাপনের পর এ বিষয়ে শুনানির জন্য ১২ই মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় একটি জলাশয়ের মধ্যে যথাযথ অনুমতি ছাড়াই ১৬ তলা এই ভবনটি নির্মাণ করেছিল বিজিএমইএ। ভবনটির মোট আয়তন ২ লাখ ৬৬ হাজার বর্গফুট। এখানে বিজিএমইএর অফিস, সভাকক্ষ ছাড়াও সদস্যদের জন্য অ্যাপারেল ক্লাব রয়েছে। অন্যান্য ফ্লোরে বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে।

আদালতে আইনি লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর বিজিএমইএকে আজকের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে, কখন তারা ঢাকার বিজিএমইএ ভবন থেকে তাদের অফিস সরিয়ে নেবে।

আরো পড়তে পারেন:

শরণার্থী হতে গিয়ে জাপানে প্রতারণার শিকার দুই বাংলাদেশি

হ্যাকিং নিয়ে ঝামেলায় সিআইএ

১১ বছর হাসপাতালে কাজ করেছে ভুয়া ডাক্তার!

সৌদিতে আসছে নতুন ইমিগ্রেশন আইন: বিপদের মুখে ৫০ লক্ষ অভিবাসী

বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বিবিসিকে বলছেন, ''আদালত যে রায় দিয়েছেন, আমরা মেনে নিয়েছি। আদালত জানতে চাইছেন, এখান থেকে সরে যেতে আমাদের কতদিন লাগবে। সেখানে আমরা তিনবছর সময় চেয়ে পিটিশন করেছি। আমরা এখানে কিছু জরুরি কাজ করি। এজন্য আমাদের কিছু সময়ের প্রয়োজন। এখন মহামান্য আদালত যেটা বলবেন, আমরা সেটাই করবো।''

কিন্তু দপ্তর সরাতে কেন এতদিন সময় লাগবে? জিজ্ঞেস করা হলে মি. রহমান বলছেন, ''এটা সাময়িকভাবে সরিয়ে নেয়ার মতো বিষয় না। আমাদের আরেকটা স্থায়ী ভবন তৈরি করে সেখানে স্থায়ীভাবে সরে যেতে হবে। সেজন্যই এই সময় দরকার। আমাদের অফিসটা একেবারে ছোট না, তিনশোর মতো কর্মী আছে। এখানে আমরা ইউডি, ইউপি ও সিও ইস্যু করি। সবসময়েই আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়।''

কিন্তু এত লম্বা সময় চাওয়া পুরো বিষয়টি দীর্ঘায়িত করার মতো একটি ব্যাপার হিসাবে অনেকে দেখতে পারেন। কিন্তু বিজিএমইএ সভাপতি বলছেন, তাদের এ রকম কোন উদ্দেশ্য নেই। আদালতের রায় তারা মেনে নিয়েছেন। এর মধ্যেই তারা জমি দেখেছেন। কিন্তু সেখানে স্থায়ীভাবে চলে যেতে তাদের সময় দরকার।

ছবির কপিরাইট BBC BANGLA
Image caption বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান

তবে ভবন ভাঙ্গার খরচ দিতে আদালত যে আদেশ দিয়েছেন, সে বিষয়টি তারা কি করবেন? জানতে চাওয়া হলে মি. রহমান বলেন, ''এটা যেহেতু একটি সমিতি, আমাদের বসতে হবে, আলাপ করতে হবে। তারপরে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। আদালতের সঙ্গে, সরকারের সঙ্গে কথা বলতে হবে।''

বিজিএমইএ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন। কিন্তু রাজউকের অনুমোদন ছাড়া একটি জলাশয়ের মধ্যে ভবন তৈরি করে এখন যে সরে যেতে হচ্ছে। এটা কি একটি ভুল ছিল বলে তারা মনে করেন?

বিজিএমইএ সভাপতি বলছেন, ''না, আমি কোনভাবেই বলবো না যে আমরা ভুল করেছি। আমরা পাঁচ কোটি ১৭ লাখ টাকা দিয়ে আমরা জমি বরাদ্দ নিয়েছিলাম। তার উপরেই ভবন নির্মাণ করেছি। আমাদের সব কাগজপত্র আছে। তবে আদালতের বিষয় হওয়ায় এই বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।''

২০১১ সালের ৩রা এপ্রিল জমির স্বত্ব না থাকা ও জলাধার আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করায় বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গার রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে আপিল খারিজ হয়ে যায়। রিভিউ আবেদনও ৫ই মার্চ খারিজ হয়ে যায়।

এর আগে বাংলাদেশের একটি ইংরেজি দৈনিকে আইন না মেনে ভবন নির্মাণের বিষয়ে খবর ছাপা হলে তা আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।

সম্পর্কিত বিষয়