হ্যাকিং নিয়ে ঝামেলায় সিআইএ

  • ৯ মার্চ ২০১৭
সিআইএর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সমালোচনা করা হচ্ছে এই বলে যে, যাদের কাজ অন্যদের তথ্য চুরি করা, তারা নিজেরাই নিজেদের তথ্য রক্ষা করতে পারছে না ছবির কপিরাইট AP
Image caption সিআইএর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সমালোচনা করা হচ্ছে এই বলে যে, যাদের কাজ অন্যদের তথ্য চুরি করা, তারা নিজেরাই নিজেদের তথ্য রক্ষা করতে পারছে না

সিআইএর বিরুদ্ধে আধুনিক প্রযুক্তি পণ্য হ্যাকিং করে গুপ্তচরবৃত্তির তথ্য উইকিলিকসে ফাঁস করার পর সিআইএ বড় ধরণের ঝামেলায় পড়েছে।

সিআইএর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সমালোচনা করা হচ্ছে এই বলে যে, যাদের কাজ অন্যদের তথ্য চুরি করা, তারা নিজেরাই নিজেদের তথ্য রক্ষা করতে পারছে না।

ওই তথ্য কিভাবে ফাঁস হয়েছে, কিভাবে হাজার হাজার ফাইল উইকিলিকসে গেল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সিআইএ এবং এফবিআই।

যদিও ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো সঠিক কিনা, তা নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কোন সংস্থাই।

আরো পড়তে পারেন:

শরণার্থী হতে গিয়ে জাপানে প্রতারণার শিকার দুই বাংলাদেশি

টিভি থেকেও তথ্য চুরি করছে সিআইএ: উইকিলিকস

সৌদিতে আসছে নতুন ইমিগ্রেশন আইন: বিপদের মুখে ৫০ লক্ষ অভিবাসী

১১ বছর হাসপাতালে কাজ করেছে ভুয়া ডাক্তার!

তবে সিআইএর একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, উইকিলিকস যেসব তথ্য প্রকাশ করেছে, তা সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে আমেরিকান জনগণকে রক্ষায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ক্ষমতাকে খর্ব করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা বৃত্তির দায়িত্ব এনএসএ। আর মানুষ গোয়েন্দা গিয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে সিআইএ।

কিন্তু ফাঁস হওয়া তথ্যে সিআইএ তাদের সেই সীমা ডিঙ্গিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption অ্যাপল বলেছেন, তারা এর মধ্যেই তাদের পণ্যের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে

সিআইএর এভাবে আড়িপাতা কতটা উদ্বেগের?

যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরওয়ার্ক নামের একটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ডিন স্মিথ বলছেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সবরকম উপায়েই সন্দেহভাজন লোকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে। তারা যদি এটি না করে, তাহলে তারা ঠিকভাবে কাজ করছে না।

যুক্তরাজ্যের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা অ্যালান উডওয়ার্ড মনে করেন, ফাঁস হওয়া বেশিরভাগ তথ্যে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে নজরদারি করা হয়েছে। এমন না যে ব্যাপকভাবে, সবার উপর নজরদারি করা হচ্ছে। ওয়ারেন্ট নিয়ে, অনুমতি নিয়ে তো সবসময়ে অপরাধীদের ফোনে আড়িপাতা যায় না।

তবে এডওয়ার্ড স্নোডেন বলছেন, এভাবে আড়ি পেতে তারা মানবাধিকার আর ডিজিটাল নিরাপত্তা লঙ্ঘন করছে।

ছবির কপিরাইট SAMSUNG
Image caption মোবাইল ফোনের পাশাপাশি স্যামসাংয়ের আধুনিক টিভির মতো পণ্যেও সিআইএ আড়ি পেতেছে বলে উইকিলিকস বলছে

প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিক্রিয়া

অ্যাপল বলেছেন, তারা এর মধ্যেই তাদের পণ্যের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তাদের সব পণ্য আর সফটওয়্যার নিয়মিত নিরাপত্তা হালনাগাদ করা হয়। সবার উচিত হালনাগাদ ভার্সন ব্যবহার করা।

স্যামসাংয়ের টিভিতে সিআইএ আড়ি পেতেছিল বলে উইকিলিকসে তথ্য ফাঁস হয়েছে। স্যামসাং বলছে, গ্রাহকদের গোপনীয়তা আর নিরাপত্তাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য চুরির যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেটিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি আর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, উইকিলিকসের প্রতিবেদনের বিষয়ে তারা জেনেছে এবং খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অ্যান্ড্রুয়েড ফোনে আড়িপাতার অভিযোগ উঠলেও, গুগল এসব বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

সম্পর্কিত বিষয়