ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্পের নতুন আদেশও চ্যালেঞ্জ করলো কয়েকটি রাজ্য

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রথম আদেশ স্থগিত হবার পর দুই সন্তানকে কাছে পেয়ে তাদের জড়িয়ে ধরেছেন বাবা ছবির কপিরাইট AP
Image caption ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে নিউ ইয়র্সকের জনএফকেনেডি বিমানবন্দরে অনেকক্ষণ আটকে থাকেন ইসমাইল ইসাক, সন্তানকে কাছে পেয়ে তাদের জড়িয়ে ধরেছেন তিনি।

ছয়টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দ্বিতীয় দফায় যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটি আরও বেশি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

নতুন ওই নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে হাওয়াই মামলা করার একদিন পরই ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস ও ওরেগন মামলা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম দফায় নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে যে আইনি লড়াই চলেছিল তাতে নেতৃত্ব দিয়েছিল ওয়াশিংটন এবং ওই মামলায় জয়ও পেয়েছিল তারা। একজন ফেডারেল জজের নির্দেশে ওই নির্বাহী আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়।

আর এখন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় নির্বাহী আদেশ কতটা যুক্তিসম্পন্ন তাও চ্যালেঞ্জ করছে ওয়াশিংটন। প্রদেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল বব ফার্গুসন বিচারকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন এই আদেশটিও যেন স্থগিত করা হয়, মি: ফার্গুসনের মতে এটিও সংবিধানপরিপন্থী নির্বাহী আদেশ।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের যুক্তি হচ্ছে -আমেরিকাকে সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে নিরাপদ রাখার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।

আর মার্কিন অনেক নাগরিকও মি: ট্রাম্পের এই আদেশের পক্ষে নিজেদের মতামত দিয়েছেন। একজন যেমন বলছেন - "দেশের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো করা প্রয়োজন, আর প্রত্যেকের নিরাপত্তার জন্যই এমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে"।

আরেক নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলছেন--"মধ্যপ্রাচ্যে গত প্রায় চার/পাঁচ বছর ধরে যে পরিস্থিতি চলছে তার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। যে ধরনের ব্যবস্থা আগে কখনো নেয়া হয়নি"।

আর নিরাপত্তার কারণে মি: ট্রাম্পের এই নতুন নিষেধাজ্ঞা সময়োপোযোগী বলেই মনে করছেন এই ব্যক্তি।

আরো পড়তে পারেন:ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধেও মামলা

ছবির কপিরাইট Twitter
Image caption নতুন আদেশে সই করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম নির্বাহী আদেশে সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, দ্বিতীয় দফার আদেশ ইরাককে বাদ দেয়া হয়েছে।

বাকি ছয়টি দেশ হলো ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, লিবিয়া এবং সোমলিয়া।

এছাড়া নতুন আদেশে বলা হচ্ছে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচি বন্ধ রাখা হবে। নতুন আদেশে শরণার্থীদের ক্ষেত্রে ১২০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কিন্তু এই নতুন নিষেধাজ্ঞাও আইনি বাধার মুখে পড়ছে। প্রথমেই নতুন আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হাওয়াই অঙ্গরাজ্য।

এরপর নিউ ইয়র্ক এই আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করে বলেছে এটি আসলে মুসলিমদের ওপরেই নিষেধাজ্ঞা।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন বলছে-এ ধরনের আদেশ রাজ্যের জন্য ক্ষতিকর।

এরপর ম্যাসাচুসেটস, মিনেসোটা ও ওরেগন অঙ্গরাজ্যও নতুন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মামলা করে এটি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

মি: ট্রাম্পের জারি করা নতুন এই আদেশটি আগামী ১৬ই মার্চ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়