সীমান্ত টপকানো তরুণদের পাকিস্তানে ফিরিয়ে দিল ভারত

  • ১১ মার্চ ২০১৭
আহসান খুরশিদ (বামে) এবং ফয়সাল আওয়ান (ডানে) ছবির কপিরাইট Other
Image caption আহসান খুরশিদ (বামে) এবং ফয়সাল আওয়ান (ডানে) সেপ্টেম্বর ২০১৬ থেকে ভারতে আটক ছিল

যে দুই পাকিস্তানি তরুণ কাশ্মীরে বিতর্কিত সীমান্ত পার হয়ে ভারতীয় ভূখন্ডে ঢুকে পড়েছিল এবং যাদের বিরুদ্ধে জঙ্গী হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল ভারত তাদের পাকিস্তানে ফিরিয়ে দিয়েছে।

লাহোরের কাছে ওয়াগা সীমান্তে তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে পাকিস্তানি একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ভারত শাসিত কাশ্মীরের উরিতে এক সেনা ঘাঁটির উপর হামলায় ১৯জন সৈন্য নিহত হবার কয়েকদিন পর ওই দুই তরুণকে আটক করা হয়।

কিন্তু পরে তদন্তে দেখা যায় ওই জঙ্গী হামলার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না।

গত বছর ১৮ই সেপ্টেম্বর উরির সেনা ঘাঁটিতে যে সশস্ত্র হামলা হয়, সেটা ছিল কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হামলা। ওই হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবার উত্তেজনা তৈরি হয়।

ভারতীয় কর্মকর্তারা প্রথমদিকে সন্দেহ করেছিল আহসান খুরশিদ এবং ফয়সাল আওয়ান পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গী গোষ্ঠী জয়েশ-ই-মোহাম্মদ-এর সদস্যদের 'গাইড' হিসাবে কাজ করছিল। এই মর্মে খবর দিয়েছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

তবে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার একজন মুখপাত্র গত সপ্তাহে ঘোষণা করেন যে তাদের তদন্তে ''উরি হামলার সঙ্গে এই দুই সন্দেহভাজন তরুণের কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায় নি।''

ওই দুই তরুণ তাদের পড়াশোনার ব্যাপারে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।

আহসানের মা রাকিবা বিবি তার ছেলের মুক্তির আগে বিবিসিকে বলেন তিনি খুশি। "আমি সবসময়ই জানতাম আমার ছেলে নিরাপরাধ। এখন সেটাই প্রমাণ হোল।"

তিনি বলেন তার ছেলে তাকে বলেছিল নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছেই পীর কান্থি নামে এক সুফি মাজারে সে যাচ্ছে।

আহসানের চাচা চৌধরি কাসেম বিবিসিকে বলেন দুদেশেরই উচিত ''পরস্পরের দেশের কোনো নাগরিককে 'সন্ত্রাসী' ঘোষণা করার আগে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া। কারণ এধরনের ঢালাও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জন্য খুবই দুবির্ষহ ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।''

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মুসলমান অধ্যুষিত কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক চলছে কয়েক দশক ধরে।

খবরে বলা হচ্ছে ভারতীয় কর্মকর্তারা এখন মনে করছে অন্য একটি পাকিস্তান ভিত্তিক গোষ্ঠী উরির ওই হামলার জন্য দায়ী। তবে পাকিস্তান ওই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখান করে আসছে।

সম্পর্কিত বিষয়