কেন একজন এশিয়ান নারীকে ‘ন্যানি’ ভাবা হলো?

Image caption বিবিসিতে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন অধ্যাপক রবার্ট কেলি, পেছনে দুই বাচ্চাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন এক নারী।

ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই অনেকে বিবিসি ওয়ার্ল্ড টেলিভিশনের একটি ভিডিও দেখে ফেলেছেন-যেখানে দেখা গেছে বিবিসিতে সরাসরি সাক্ষাৎকার দেবার সময় একজন বাবার কী অবস্থা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রবার্ট কেলি তাঁর বাসায় ঘরে বসে দক্ষিণ কোরিয়ার বিষয়ে বিবিসির সঙ্গে সরাসরি একটি সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন।

হঠাৎ করে তাঁর দুই শিশুসন্তান ঘরে ঢুকে পড়ে এবং তাঁর স্ত্রী তীব্রগতিতে ঘরে ঢুকে বাচ্চা দুজনকে টেনে বাইরে নিয়ে যান।

এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন ফেলে দিয়েছে, ফেসবুকে এটি শেয়ারের সংখ্যা তিন কোটি ছাড়িয়েছে।

কিন্তু মজার এই ভিডিওটি নিয়েও হয়েছে বিতর্ক। বিতর্কের বিষয়-নারীটি কে ছিল?

অনেকে অধ্যাপক কেলির স্ত্রী জাং-এ কিম-কে ভেবেছিলেন ওই সন্তান দুজনের 'ন্যানি', মানে যিনি ওই শিশুদের দেখাশোনার কাজটি করেন।

আর এ নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় চলেছে বিতর্ক।

অনেকে বলছেন - এ ধরনের ধারণা বর্ণবৈষম্য, লিঙ্গ বৈষম্যকে তুলে ধরে এবং মিশ্র-জাতির দম্পতিকে যে কেউ ভালোভাবে নেয় না সেটাও এখানে প্রকাশ পেয়েছে।

কিন্তু মিস কিমকে একজন 'ন্যানি' ভাবা কি যৌক্তিক ছিল?

দক্ষিণ কোরিয়ার যেসব পরিবারে বাবা-মা দুজনেই চাকরির কাজে ব্যস্ত থাকেন, সেসব পরিবারগুলোতে সন্তানকে দেখাশোনা করার জন্য 'ন্যানি' বা শিশু দেখাশোনার জন্য একজন আয়াকে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে।

কিন্তু অনেকে বলছেন, মিস কিমকে শিশু দুজনের মা না ভেবে 'ন্যানি' ভাবার কারণ হলো তিনি এশিয়ান। দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন অনেকে।

আসিথা নাগেশ নামে একজন লিখেছেন "বিবিসির ওই ভিডিওর নারীটিকে নিয়ে ধারণা করা বন্ধ করুন, তিনি ওই অধ্যাপকের স্ত্রী 'ন্যানি' নন"।

নাতাশিয়া গুতিয়েরেজ নামে একজন ব্যবহারকারী টুইটারে লিখেছেন "বিবিসি ভিডিওটি দারুণ। কিন্তু এশিয়ান নারীকে সাদা চামড়ার মানুষের সাথে দেখে তাকে ন্যানি ভাববেন না। কী বর্ণবৈষম্য!"

অনেকে এই বলে তর্ক করেছেন যে-মিস কিমের চেহারায় যে আতঙ্কের ছাপ ছিল, যেভাবে তিনি ঘরে ঢুকে শিশু দুজনকে নিয়ে গেলেন তাতে মনে হচ্ছিল তিনি তাঁর চাকরি বাঁচানো নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

কিন্তু অন্য পক্ষ বলছেন-মিস কিম একজন মা-সুলভ আচরণই করেছেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর স্বামীর সাক্ষাৎকারে বাধা পড়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

তবে কোরিয়ান ভাষাভাষীদের জন্য এটা বুঝতে পারা খুব সহজ ছিল, কারণ কোরিয়ান ভাষায় সন্তান দুজনের একজন বলছিল, "কেন ? কী ভুল হয়েছে?" এবং আরেকজন বলছিল "মা, কেন?"

একজনের টুইট বার্তা ছবির কপিরাইট TWITTER/@ASHNAGESH
টুইটার বার্তা ছবির কপিরাইট TWITTER/NATASHYA_G

এশিয়ান নারীদের নিয়ে সাধারণত কী ধারণা করা হয়?

সচেতন বা অসেচতনভাবে মানুষ অনেক কিছুই আন্দাজ করে।

বিবিসির সাংবাদিক হেলিয়ার চিয়াং যখন লন্ডনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিলেন, বেশিরভাগ মানুষ তখন তাঁকে দেখে মনে করতেন তিনি হয় অর্থনীতি নিয়ে পড়ছেন নয়তো চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়ছেন। অথচ তিনি ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়ছিলেন।

এটা কিছুটা বিরক্তিকর বিষয় হলেও বড় কোন কিছু নয়।

কিন্তু মাঝেমধ্যে এ ধরনে আন্দাজ বা ধারণা মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে দাড়ায়।

যেমন ভারতে বিবিসির একজন সাংবাদিক পড়েছিলেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। আঞ্চলিক একটি পত্রিকা অফিসে যাবার পর সেই অফিসের রিসিপশনিষ্ট তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন "তুমি কি এখন অফিস পরিষ্কার করতে আসছো?"

অন্যদিকে জাপানি বংশোদ্ভুত একজন শিক্ষাবিদ কুমিকো তোডাকেও পড়তো হয় নানা প্রশ্নের মুখে। যুক্তরাজ্যে জন্ম নিয়ে সেখানে বেড়ে উঠলেও কারো সাথে প্রথম দেখাতেই তাঁকে শুনতে হয় তিনি কোন দেশ থেকে এসেছেন?

আরো পড়তে পারেন:

মার্কিন সেনাবাহিনীতে নগ্ন ছবি শেয়ার কেলেঙ্কারি

নৌবাহিনীতে আজ থেকে যুক্ত হচ্ছে দুটি সাবমেরিন

ধর্ষণের অভিযোগ করে হেনস্থার শিকার রোহিঙ্গা নারী

বাংলাদেশি ওষুধ কিনে ব্রিটিশ নারীর রোগমুক্তি

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য