ইসরায়েল ও সিরিয়ার পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা

  • ১৭ মার্চ ২০১৭
ইসরায়েলের অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র (ফাইল চিত্র) ছবির কপিরাইট AP
Image caption ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী সরঞ্জাম বিশ্বে অন্যতম সবচেয়ে উন্নত

ইসরায়েলী সংবাদমাধ্যম বলছে ইসরায়েল এই প্রথমবারের মত তাদের সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করে সিরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।

ইসরায়েলী সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে তাদের যুদ্ধবিমান সিরিয়ার বেশকিছু লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে হামলা চালিয়েছিল।

অন্যদিকে সিরিয়ার সেনাবাহিনী বলছে, ইসরায়েলী যুদ্ধবিমান তাদের আকাশ সীমায় ঢোকার পর তারা সেগুলো লক্ষ্য করে বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে।

তবে শেষ পর্যন্ত সব কয়টি ইসরায়েলী যুদ্ধ বিমানই নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে গেছে বলে দাবি করছে ইসরায়েল।

বিবিসি বাংলা অন্যান্য খবর পড়তে ক্লিক করুন:

ঢাকায় র‍্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে বোমা বিস্ফোরণ আইএস চালিয়েছে বলে তাদের দাবি

সোশাল মিডিয়ায় 'ধর্মীয় অবমাননা' বন্ধে ফেসবুকের সাহায্য চায় পাকিস্তান

সিরিয়ার যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আসাদের পক্ষে অংশ নেওয়া হেযবোল্লাহকে টার্গেট করে ইসরায়েল আগেও হামলা করেছে বলে মনে করা হয়, তবে এই প্রথম ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এরকম স্বীকোরোক্তি পাওয়া গেল।

সিরীয় লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে একটি জর্দানে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অন্য দুটি ইসরায়েলে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

কারও আহত হবার খবর পাওয়া যায় নি।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এপর্যন্ত ইসরায়েলী যুদ্ধ বিমান সিরিয়ায় হেযবোল্লাহকে টার্গেট করে অন্তত চারটি হামলা চালায় বলে মনে করা হয়। কিন্তু গতরাতে সর্বশেষ হামলার পর এই প্রথম এ নিয়ে প্রকাশ্যে ইসরায়েলে কোন কথা বলল।

সিরিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কে উত্তেজনা এর ফলে এখন বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরায়েল সিরিয়ার বিরুদ্ধে তাদের সামরিক হামলা জোরদার করেছে মাত্র দশ দিন আগে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক বৈঠকের পর।

ছবির কপিরাইট AFP

সিরিয়ার আকাশসীমার একটা বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে রুশ যুদ্ধবিমান এবং রুশ নির্মিত রাডার ব্যবস্থা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল হয়তো এমন একটা সংকেত দিতে চাইছে যে সিরিয়ায় হেযবোল্লাহর কাছে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত থাকলে তারা তাদের বিমান হামলা তীব্র করতে দ্বিধা করবে না।

অন্যদিকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা শুক্রবার জানিয়েছে সিরীয় বাহিনী গতরাতে হামলা চালানো চারটি ইসরায়েলী বিমানের মধ্যে একটি তারা ভূপাতিত করেছে।

ইসরায়েল এ দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছে তাদের জঙ্গী বিমানগুলো অভিযান চালানোর পরই নিরাপদে ইসরায়েলী আকাম সীমার মধ্যে ভেতর ফিরে গেছে।

এপি সংবাদ সংস্থার খবরে জর্দানের সামরিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দেশের উত্তরে গ্রামএলাকায় গিয়ে পড়েছে।

সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি ভবনের পাশে বিধ্বস্ত ধাতুর টুকরোকে ঘিরে রয়েছে একদল লোক। বলা হচ্ছে এগুলো ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ।

সম্পর্কিত বিষয়