ইংলিশ 'অ্যাশেসের' মতো শ্রী লঙ্কা ক্রিকেটের শেষকৃত্য!

  • ২১ মার্চ ২০১৭
ছবির কপিরাইট The Island
Image caption কলম্বোর পত্রিকা দ্য আইল্যান্ড ১৯শে মার্চের পরাজয়কে শ্রী লঙ্কা ক্রিকেটের মৃত্যুঘণ্টা হিসেবেই দেখছে।

সম্প্রতি কলম্বোতে হয়ে যাওয়া টেস্টে ম্যাচে বাংলাদেশের বিজয়ে টাইগার সমর্থকরা আনন্দে বাগবাগ। কিন্তু স্বাগতিক দেশে চলছে কান্নার বন্যা। তবে শুধু একটি হারের জন্যই নয়।

এই টেস্ট ছিল বাংলাদেশের শততম টেস্ট এবং সেই ম্যাচে বিজয়টাকে সমর্থকরা স্বাভাবিক কারণেই ঐতিহাসিক বলে গণ্য করছে।

কিন্তু শ্রী লঙ্কার গণমাধ্যম এটাকে দেখছে একটি লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবে।

কলম্বোর পত্রিকা দ্য আইল্যান্ড ১৯শে মার্চের পরাজয়কে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের মৃত্যুঘণ্টা হিসেবেই দেখছে।

'মার্চ ১৯, ২০১৭ ইতিহাসের শ্রী লঙ্কা ক্রিকেট ইতিহাসে সব চেয়ে অন্ধকার অধ্যায় বলে গণ্য হবে, যেদিন বিশ্বের সব চেয়ে কনিষ্ঠ ক্রিকেট দেশ বাংলাদেশ স্বাগতিক দেশের বিরুদ্ধে প্রথম বিজয় অর্জন করে সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে,' দ্য আইল্যান্ডের রিপোর্ট শুরু হয় এই বাক্য দিয়ে।

রিপোর্টর সাথে যে ছবিটি ছাপানো হয় সেটি ছিল ১৮৮২ সালের ২৯শে অগাস্ট অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইংল্যান্ড হারার পর লন্ডনের দ্য স্পোর্টিং টাইমসে যে 'মৃত্যু নোটিস' ছাপানো হয়েছিল, হুবহু তারই আদলে।

ইংলিশ ক্রিকেটের শেষকৃত্য হিসেবে একটি স্টাম্প পোড়ানো হয়েছিল এবং তার ছাই - বা অ্যাশেস - একটি ছোট আর্ন-এ ভরে রাখা হয়। ছাই ভরা সেই আর্নটিই এখন ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে 'অ্যাশেস সিরিজের' কাপ।

ছবির কপিরাইট .
Image caption ইংল্যান্ডের হারে মৃত্য নোটিস, ১৮৮২ সালে।

সবাই যে পত্রিকার সাথে একমত, তা নয়।

প্রাক্তন অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা এক টুইটে বলেন যে সিরিজে তিনটি ম্যাচ রাখা উচিত ছিল, যাতে সিরিজ জয়-পরাজয়ের বিষটির ফয়সালা করা যেত।

তবে কলম্বোর দ্য আইল্যান্ড কোন রসিকতায় না যেয়ে বাংলাদেশের বিজয়কে শ্রী লঙ্কার ব্যর্থতা হিসেবেই ব্যাখ্যা করে - দুটি ব্যতিক্রম ছাড়া।

প্রথমত, তারা চতুর্থ দিনে মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিংকে শ্রী লঙ্কার ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে তুলে ধরে।

দ্বিতীয়ত, তাদের মতে বাংলাদেশের প্রধান কোন চন্দিকা হাতুরুসিংঘের বিচক্ষণতা শ্রী লঙ্কা কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দেয়।

'বাংলাদেশের কোচ বেশ কয়েক মৌসুম পি সারা ওভালে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেছেন এবং তিনি এই মাঠের পিচকে নিজের হাতের তালুর মত চেনেন।

'কিন্তু মূল দোষ তারা চাপায় দলের ওপরই।

ছবির কপিরাইট .
Image caption কুমার সাঙ্গাকারার টুইট

'শ্রী লঙ্কা ছিল নাক উঁচু এবং তাদের মনোভাব ছিল অবিশ্বাস্য'।

তারা বলে বাংলাদেশের বিজয় ব্যাখ্যা করা 'খুবই কঠিন', কিন্তু দোষারোপের পর্ব শীঘ্রই শুরু হবে।

'কিন্তু তাতে কারো কোন ক্ষতি হবে না। আর যাই হোক না হোক, আমরা তো শ্রী লঙ্কান', পত্রিকাটি লেখে একটু ব্যঙ্গাত্মক সুরে।

পত্রিকাটির মতে, শ্রী লঙ্কায় ফার্স্ট ক্লাস প্রদেশ-ভিত্তিক ক্রিকেটের জায়গায় ক্লাবদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে যার ফলে খেলার অনেক বেশি দলে ভিড় হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়