বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতনের বর্ণনা শুনেছে মিয়ানমারের তদন্ত দল

  • ২০ মার্চ ২০১৭
নারী ও শিশুরা
Image caption এসব নারী ও শিশুরা নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে বলে বিবিসিকে জানায়

মিয়ানমার সরকারের গঠিত একটি কমিশনের সদস্যরা সোমবার কক্সবাজারে সম্প্রতি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেছেন।

এই কমিশনের মুখোমুখি হয়েছিলেন এমন ক'জন রোহিঙ্গা বিবিসিকে বলেছেন, আরাকানে তাদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া, হত্যা-নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন তারা।

আরাকানে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মাঝে অং সাং সু চি এই তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন।

কমিশনের সদস্যরা রোববার কক্সবাজারে পৌঁছান। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, তদন্ত কমিশনের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে তাদের দেশ ছেড়ে আসার কারণ জানার চেষ্টা করেছেন।

মিয়ানমারের সরকারি তদন্ত কমিশনের ছয়জন সদস্য এখন কক্সবাজারে রয়েছেন। তাঁরা এই সফরে দু'দিন ধরে উখিয়া এবং টেকনাফে অনিবন্ধিত তিনটি ক্যাম্পে নতুন আসা ৩০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গার বক্তব্য নিয়েছেন।

চারমাস আগে মিয়ানমারে ভিটে মাটি ফেলে গ্রামের অনেকের সাথে দু'টি শিশু সন্তান নিয়ে টেকনাফে এসে একটি অনিবন্ধিত ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন একজন রোহিঙ্গা নারী। তাঁর স্বামী এবং কিশোর সন্তানকে মিয়ানমারেই ধরে নিয়ে যাওয়ার পর এখনও খোঁজ জানেন না।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "আমি কেন মিয়ানমার ছেড়ে এসেছি, সেটা তারা জানতে চেয়েছিল''।

''আমি বলেছে, বাড়ি-ঘরে আগুন দিয়েছে।আমার স্বামী -সন্তানসহ পুরুষদের ধরে নিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হত্যা করেছে।নারীদের ধরে নির্যাতন করেছে।এই পরিস্থিতিতে জীবন হাতে নিয়ে পালিয়ে কক্সবাজারে এসে আশ্রয় নিয়েছি।এগুলো তাদের জানিয়েছি।"

আরো পড়তে পারেন: বাংলাদেশে জঙ্গি-বিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন কেন?

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption টেকনোফের একটি শরণার্থী শিবির

এটি ছিল মূলত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা এবং রোহিঙ্গাদের উত্তর। এ সময় মিয়ানমারের তদন্ত কমিশনের সদস্যদের সাথে বাংলাদেশের কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম এর প্রতিনিধিরা ছিলেন।

কিন্তু কমিশনের সদস্যরা মিয়ানমারের ভাষায় প্রশ্ন করেছেন এবং সেই ভাষাতেই রোহিঙ্গাদের জবাব দিতে হয়েছে।

কক্সবাজারের দু'টি ক্যাম্পে ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন কয়েক দশক ধরে।এছাড়াও অনিবন্ধিত ক্যাম্প এবং এর বাইরে থাকা রোহিঙ্গাদের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই।

এই রোহিঙ্গাদের একজন নেতা আব্দুল মোতালেব বলছিলেন, তাঁরা রোহিঙ্গাদের কয়েকজন নেতা মিয়ানমারের তদন্ত কমিশনের সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, তাঁরাও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত থাকার কথা তুলে ধরেছেন।তবে তারা তাদের মিয়ানমারে ফেরতা নেয়ার দাবি জানিয়ে তদন্ত কমিশনের কাছে কোনো জবাব পাননি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন বলছিলেন, সম্প্রতি আসা রোহিঙ্গারা কেন দেশ ছেড়ে এসেছেন এবং তাদের পরিস্থিতি জানার জন্যই মিয়ানমারের কমিশন এসেছে।

তবে মিয়ানমারের কমিশনের সদস্যদের পক্ষ থেকে এবং ঢাকায় তাদের দূতাবাসে যোগাযোগ করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত বিষয়