রোমান্টিক সম্পর্ক নেই, কিন্তু একই সন্তানের অভিভাবক?

একই সন্তানের দুজন অভিভাবক
Image caption একই সন্তানের দুজন অভিভাবক

নাতাশা বখত ও লিন্ডা কলিন্স একে অন্যের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। শিক্ষাজীবন শেষে কর্মস্থলেও তারা একে অন্যের সবচেয়ে কাছের মানুষ।

দুই বছর ধরে আইনি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত নাতাশার প্রতিবন্ধী সন্তানের কো-পেরেন্ট বা সহ অভিভাবক হিসেবে আইনগত অভিভাবকত্বের স্বীকৃতি মিলেছে তাদের।

আর এর মাধ্যমে দুজন ব্যক্তির মধ্যে কোন ধরনের রোমান্টিক সম্পর্কের বাইরে একই সন্তানের অভিভাবকের প্রথম স্বীকৃতির ঘটনা ঘটলো কানাডায়।

নাতাশা ও লিন্ডা এক সাথেই নিজেদের ছোট্র শিশু এলানের মা দাবি করেন।

কিন্তু দুজন নারী কী করে একটি সন্তানের যৌথ অভিভাবক হন? তাদের মধ্যে কী সম্পর্ক ?

নাতাশা বখত বলছেন "আমাদের মধ্যে কোন দাম্পত্য সম্পর্ক নেই। আমরা শুধু ভালো বন্ধু। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা এলানকে একসাথে বড় করে তুলবো"।

কিন্তু ছোট এলানের মা হওয়া এবং অভিভাবকত্বের এই সুযোগ সহজভাবে হয়নি।

এক সন্তানকে ঘিরে দুই নারীর এই পরিবার এখন কানাডার আইনি ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। রীতিমত ইতিহাস গড়ে নিয়েছে এ ঘটনা।

Image caption নাতাশা বখত

নাতাশা ও লিন্ডাই প্রথম দুই নারী যাদের মধ্যে কোন হৃদয়ঘটিত সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও তারা একই সন্তানের আইনগত অভিভাবক। আর সেটি আদালত কর্তৃক স্বীকৃত।

সাত বছর আগে এলানের যখন জন্ম হয় তখন বেশ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলো শিশুটি।

কিন্তু কিছুদিন পরই চিকিৎসকরা আবিষ্কার করলো যে এলানের মস্তিষ্কের কিছু অংশ একেবারেই কাজ করছে না।

আর এর সূত্র ধরেই নাতাশার সন্তানটির আরেকটি মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন লিন্ডা।

"যখন দেখা গেলো বাচ্চাটার মধ্যে কিছুটা প্রতিবন্ধিতা আছে তখন আসলে নাতাশার আরও সহায়তার দরকার হয়ে পড়লো। এমনকি যে যতটুকু সহায়তার প্রয়োজন বোধ করছিলো তার চেয়েও বেশি।

আর আমারও তাকে সাহায্য করার ইচ্ছা ছিলো। দুজনের দুই প্রয়োজন থেকেই এখানে আমার বেশি করে আসা। এক সময় দেখলাম আমরা দুজনই এলানের অভিভাবক হতে পেরে বেশ খুশী"।

Image caption লিন্ডা কলিন্স

গত নভেম্বরেই যৌথ মাতৃত্বের এক বছর উদযাপন করেছেন নাতাশা ও লিন্ডা। কিন্তু এটি করতে দু‌ই বছর ধরে আদালতে লড়তে হয়েছে তাদের দুজনকে।

বিশ্ববিদ্যালয়েই পরিচয় হবার পর দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এখন তারা সেই অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক।

নাতাশা বলছেন-"আমরা সম্পর্কটি চাই আমাদের উভয়ের জন্যই এবং আমরা খুবই এক্সাইটেড যে একটি পরিবার গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ পরিবারে যারাই আসবে তাদের জানাতে চাই যে, আমরা যার সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ে তুলিনা কেন, আমরা কিন্তু এলানের অভিভাবক"।

Image caption এলানের সঙ্গে লিন্ডা কলিন্স

নাতাশা ও লিন্ডার মতে পরিবারের জন্য এটা আরও সহজ হতে পারে যদি এলানের অভিভাবক হিসেবে তার একটি আইনগত স্বীকৃতি থাকে। লিন্ডার মতে এ ধরনের সহায়তার ব্যবস্থা থাকা উচিত।

"পারিবারিক আইনের মামলাগুলো আসলে ভর্তি থাকে এমন বিষয়ে যে দেখা যায় অনেক বাবা মা সন্তানের দায়িত্ব নিতে চায় না। যদি এমন কেউ থাকে যে তার দায়িত্ব নেয়ার কেউ নেই তাকে সহায়তা দেয়া আইন ও সামাজিক কাঠমোর একটি বড় দায়িত্ব"-বলছেন লিন্ডা।

আগামী বছর স্কুলে যাবে এলান।

আর নাতাশা ও লিন্ডা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান তাদের অসাধারণ জয়ের গল্প।

যে গল্পের মূল চরিত্র ছোট্র এলান, যার শৈশব রঙিন হয়ে উঠেছে দুই মায়ের ভালোবাসায়।

আর এভাবে দিনে দিনে বেড়ে উঠছে নাতাশা, লিন্ডা আর তাদের সন্তান এলানের পরিবার।