‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির অপেক্ষা

আতিয়া মহলে কমান্ডো অভিযান ছবির কপিরাইট ISPR
Image caption আতিয়া মহলে চালানো কমান্ডো অভিযানের আরো ছবি অবমুক্ত করেছে সেনাবাহিনীর আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ দপ্তর।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় আতিয়া মহল নামে একটি ভবনকে ঘিরে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া 'অপারেশন টোয়াইলাইট' নামের কমান্ডো অভিযান আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করে ভবনটিকে পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হতে পারে, এমন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

গতকালই সন্ধেবেলাতেই সেনাবাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়, ভবনটির ভেতরে চারজন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ একজন নারী।

এরা ছাড়া ভেতরে আর কোন জঙ্গি থাকার সম্ভাবনা নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

গত কয়েকদিনের মত মঙ্গলবার সকালবেলায় সিলেবাসীকে মুহুর্মুহু বোমা আর গুলির শব্দে দিন শুরু করতে হয়নি।

যদিও সেনাবাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের 'অপারেশন টোয়াইলাইট' অব্যহত আছে।

সব জঙ্গি নিহত হবার পরও গতকাল অভিযান শেষ না হওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে বলা হয়, ভবনটি বিস্ফোরকে ভরা, এটিকে এখনো পুরোপুরি নিরাপদ করা যায়নি।

কিন্তু সিলেট থেকে বিবিসির সংবাদদাতা আকবর হোসেন এখন জানাচ্ছেন, কর্মকর্তাদের সাথে কথাবার্তা বলে যেটুকু ধারণা পাওয়া যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে, সেনাবাহিনী হয়তো মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ভবনটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে পারে।

আরো পড়ুন:

সিলেটের 'সূর্য্য দীঘল বাড়ি' থেকে 'আতিয়া মহল'

ভিডিও: এক নজরে সিলেটে 'জঙ্গিবিরোধী অভিযান'

ছবিতে: সিলেটে 'জঙ্গি আস্তানা'য় অভিযান

ছবির কপিরাইট ISPR
Image caption সেনাবাহিনী বলছে, আতিয়া মহল নামের এই ভবনটি বিষ্ফোরকে পূর্ণ থাকায় এখনই এটির ভেতরে ঢুকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, ভবনটির নিচতলা থেকে নিহত দুজন জঙ্গিদের মৃতদেহ গতকালই বের করে এনে পুলিশকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদের একজন মহিলা একজন পুরুষ।

বাকী দুজন নিহত জঙ্গির শরীরে বিস্ফোরকের বেল্ট বাঁধা থাকায় তাদের বের করে আনতে সময় লাগছে।

এর আগে অভিযানের প্রথম দিকে ওই ভবনটির ভেতর থেকে এক নারী জঙ্গি চিৎকার করে পুলিশের উদ্দেশ্যে কথাবার্তা বলেছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছিলেন।

পরে এও জানা গিয়েছিল, যে ফ্ল্যাটটিকে ঘিরে এই জঙ্গি কর্মকাণ্ড চলেছে, সেটি মর্জিনা নামে এক নারী ভাড়া নিয়েছিল।

ফলে নিহত নারীটি সেই মর্জিনা বলেই মনে করা হচ্ছে

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, যতদূর জানা যাচ্ছে, নিহত জঙ্গিদের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ মোটামুটি নিশ্চিত।

হয়তো আজই কোন এক সময় তাদের পরিচয় সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবগত করবে তারা।

তবে যেটুকু বোঝা যাচ্ছে নিহতরা সবাই নব্য জেএমবি নামে কথিত জঙ্গি সংগঠনটির সাথে যুক্ত এবং এদের মধ্যে এই সংগঠনের অত্যন্ত উঁচু পর্যায়ের একজন নেতা রয়েছে।

গত বছর জুলাই মাসে ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান নামের রেস্তোরায় জঙ্গি হামলার সাথেও এদের কারো কারো যোগসাজশ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।