ব্রেক্সিট শুরু: ইইউকে ব্রিটেনের আনুষ্ঠানিক চিঠি

ব্রাসেলসে ডোনাল্ড টাস্কের হাতে ব্রেক্সিটের আনুষ্ঠানিক চিঠি তুলে দিয়েছেন স্যার টিম ব্যারো। ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ব্রাসেলসে ডোনাল্ড টাস্কের হাতে ব্রেক্সিটের আনুষ্ঠানিক চিঠি তুলে দিয়েছেন স্যার টিম ব্যারো।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেনের ৪৪ বছরের সদস্যপদের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

জোটের মূল সনদ লিসবন চুক্তির ৫০ ধারা কার্যকর করার জন্য ব্রাসেলসে চিঠি পাঠিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে।

এই চিঠি দেয়ার মাধ্যমে ব্রেক্সিট বলে পরিচিতি পাওয়া ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হল।

ব্রাসেলসে ব্রিটেনের দূত স্যার টিম ব্যারো ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কের কাছে বুধবার এই চিঠি হস্তান্তর করেন।

সমকালীন ব্রিটিশ ইতিহাসের এক যুগ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দিনটিকে।

যারা ব্রেক্সিটের সমর্থক, বা যারা এর বিরোধিতা করেছিলেন, উভয়পক্ষই এখন স্বীকার করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এত বড় চ্যালেঞ্জ আর এত বেশি অনিশ্চয়তার মুখে আর পড়েনি ব্রিটেন।

যখন গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে রায় দিলেন ব্রিটেনের জনগণ, তা যেন ভূমিকম্প ঘটিয়ে দিয়েছিল ইউরোপের ভূ-রাজনীতিতে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আজ ব্রাসেলসে চিঠি পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ারই সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে।

যখন ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কের হাতে তুলে দেয়া হয় তাঁর এই চিঠি, প্রায় একই সময়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে ঘোষণা দেন, এখান থেকে আর পেছন ফেরার কোন সুযোগ নেই।

আরো পড়ুন:

জঙ্গি: কুমিল্লাতেও একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ

চট্টগ্রামে আবর্জনার স্তুপে ফেলে যাওয়া শিশুটি পরিবার পেল

বাসা-ভাড়া নেয়ার 'নাটক' করে খুন: সাবেক প্রেমিকাসহ ৪জন আটক

অবশেষে নোবেল নিতে রাজি হলেন বব ডিলান

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption জোটের মূল সনদ লিসবন চুক্তির ৫০ ধারা কার্যকর করার জন্য ব্রাসেলসে এই চিঠি পাঠিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে।

টেরেসা মে বলেন, "৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ব্রিটিশ জনগণের ইচ্ছে অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এখান থেকে আর পেছন ফিরে যাওয়া যাবে না। এটি এক ঐতিহাসিক মূহুর্ত। এখন থেকে আমরা নিজেরাই সব সিদ্ধান্ত নেব, আমরা নিজেরাই আমাদের আইন তৈরি করবো"।

প্রধানমন্ত্রী মে আরও বলেছেন, তিনি আশাবাদী যে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা ব্রিটেনকে আরও সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী করতে পারবেন বলে আশা করেন।

কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা এটা গোপন করার কোন চেষ্টাই করেননি যে, ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তে তারা একেবারেই খুশি নন।

প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে'র চিঠি গ্রহণ করার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, এটি ইউরোপের জন্য এক বিষাদময় দিন।

তিনি বলেন, "এমন ভান করার কোন কারণ নেই যে এটি একটি সুখের দিন। এটা লন্ডন কিংবা ব্রাসেলস কারও জন্যই কোন সুখের দিন নয়। ইউরোপের সব দেশ, এবং ব্রিটেনেরও প্রায় অর্ধেক জনগণ চেয়েছিলেন, ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নেই থাকুক। আজকের দিনে আমি সুখী, এমন ভান ধরার কোন চেষ্টাই আমি করবো না"।

ব্রেক্সিটের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এখন আগামী দুবছর ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিটেনের আলোচনা শুরু হবে।

কিন্তু যে বিষয়টির সুরাহা এখনো হয় নি, তা হল, বিচ্ছেদের আলোচনা এবং নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি, এই দুটি'র আলোচনা কি এক সঙ্গে চলবে, নাকি বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল নতুন চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু হবে।

সবচেয়ে বড় মতবিরোধ দেখা দিতে পারে, ব্রিটেনকে এখন ঠিক কি পরিমাণ বকেয়া শোধ করতে হবে তা নিয়ে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোন কোন নেতা বলেছেন, এই বিচ্ছেদ বিল হতে পারে ৬০ বিলিয়ন পাউন্ড বা ছয় হাজার কোটি পাউন্ড পর্যন্ত।

যদিও ব্রিটেন এতে ঘোরতর আপত্তি জানাচ্ছে।

অন্য যে বিষয়টি নিয়ে গোল বাধতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে, তা হল ব্রিটেনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে নাগরিকরা থাকেন এবং কাজ করেন এবং একইভাবে ইউরোপে যে ব্রিটিশরা থাকেন, কাজ করেন, তাদের কি হবে?

আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের অক্টোবর নাগাদ একটা চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে। যাতে করে ২০১৯ সালের মার্চ নাগাদ সেটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অনুমোদন করা যায়।

গত জুন মাসে এক গণভোটে সিংহভাগ ভোটার ব্রেক্সিটের পক্ষে অর্থাৎ ইইউ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেয়।