জুলিয়ান অ্যাসঞ্জের জন্যে পামেলা এন্ডার্সনের ভালোবাসা

ছবির কপিরাইট PA
Image caption পামেলা এন্ডার্সন ও জুলিয়ান অ্যাসঞ্জ

পামেলা এন্ডার্সনকে আমরা সবাই কমবেশি চিনি। বেওয়াচ খ্যাত তারকা অভিনেত্রী তিনি। চিনি জুলিয়ান অ্যাসঞ্জকেও। পশ্চিমা বিশ্বের গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়ে আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা।

গ্রেফতার এড়াতে লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসের ভেতরে কয়েক বছর ধরে অবস্থান করছেন মি. অ্যাসঞ্জ। বলা যায় এক ধরনের বন্দী জীবনই যাপন করছেন তিনি।

এই জুলিয়ান অ্যাসঞ্জের জন্যে পামেলা এন্ডার্সন তার ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন। তাকে উল্লেখ করেছেন 'বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত শরণার্থী' হিসেবে।

'সিলেটের হামলাকারীরা বড়হাটে আশ্রয় নিয়েছিলো'

'শিশুদের মাঝখানে বসিয়ে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ'

পামেলা এন্ডার্সন তার ব্লগে মি. অ্যাসঞ্জের জন্যে এই ভালোবাসার কথা লিখেছেন।

তিনি লিখেছেন, মি. অ্যাসঞ্জের সাথে তার সম্পর্ক 'গোপন কিছু নয়' এবং সে আমার প্রিয় ব্যক্তিদের একজন।

এর আগে জুলিয়ান অ্যাসঞ্জের সাথে পামেলা এন্ডার্সনের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে নানা রকমের গসিপ ছড়িয়ে পড়েছিলো।

মাস পাঁচেক আগে ইকুয়েডর দূতাবাসে গিয়ে পামেলা এন্ডার্সনকে দেখা গেছে জুলিয়ান অ্যাসঞ্জের জন্যে খাবার নিয়ে যেতে।

এই দূতাবাসের ভেতরে মি. অ্যাসঞ্জ পাঁচ বছর ধরে অবস্থান করছেন।

শ্রীলঙ্কার সাথে শেষ ম্যাচে কেন পারলো না বাংলাদেশ

২০১২ সালে তিনি এখানে আশ্রয় নেন। কারণ একটি ধর্ষণ মামলায় সুইডেনের পুলিশ তাকে ফেরত চাইছে।

তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন এক নারী। কিন্তু মি. অ্যাসঞ্জ শুরু থেকেই সেটা অস্বীকার করে আসছেন।

ছবির কপিরাইট PA
Image caption ইকুয়েডর দূতাবাসে মি. অ্যাসঞ্জকে দেখতে যান পামেলা অ্যান্ডার্সন

অভিনেত্রী পামেলা এন্ডার্সন লিখেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করে দেওয়ায় তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।"

সুইডেনের হাতে তুলে দেওয়া হলে শেষ পর্যন্ত মি. অ্যাসঞ্জকে আটলান্টিকের ওপারে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেওয়া হবে কীনা সেবিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এই লেখায় মি. অ্যাসঞ্জের একটি ছবিও তিনি প্রকাশ করেছেন। লিখেছেন, "আমাদের সময়ে তিনিই হয়তো সবচে বিখ্যাত শরণার্থী যিনি সবচেয়ে বেশি রাজনীতির শিকার হয়েছেন।"

"জুলিয়ান একজন মানুষ যিনি এই বিশ্ব নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করেন।"

"তার কাজের মধ্য দিয়ে তিনি কয়েকটি দেশে কিছু শত্রু তৈরি করেছেন যারা খুবই ক্ষমতাবান। তাদের একটি হচ্ছে অ্যামেরিকা।"

পামেলা এন্ডার্সন লিখেছেন তার বিশ্বাস আছে সুইডেন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে ভেঙে পড়বে না। তিনি বলেন, "নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্যে সুইডেনের সামনে এটা একটা ভালো সুযোগ।"

তিনি লিখেছেন, "শিক্ষার মাধ্যমে জুলিয়ান এই বিশ্বকে মুক্ত করতে চাইছেন। এটা এক রোমান্টিক সংগ্রাম। এজন্যে আমি তাকে ভালোবাসি।"

এর আগে পামেলা এন্ডার্সন জুলিয়ান অ্যাসঞ্জকে সম্বোধন করতেন 'প্রিয় বন্ধু' হিসেবে। এবং তিনি বলেছিলেন, লোকজন যদি তাদের সম্পর্ককে শুধু যৌন সম্পর্কের মধ্যে সীমিত করে ফেলে তাহলে তাতেও তিনি অবাক হবেন না।