মহাকাশে রকেট পাঠানোর বিজ্ঞানে বিপ্লব
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

মহাকাশে রকেট পাঠানোর বিজ্ঞানে বিপ্লব

ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কোম্পানি মহাকাশে আগে পাঠানো হয়েছিলো এমন একটি রকেট আবারও উৎক্ষেপণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই কোম্পানিটির নাম স্পেস এক্স। তারা রকেটের সবচে দামী অংশ বুস্টার, রকেটটিকে মহাকাশের অভিমুখে পাঠিয়ে দেওয়ার পর, যাতে আবার নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে এরকম কিছু প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী এলন মাস্ক বলেছেন, মহাকাশে যান পাঠানোর ক্ষেত্রে এটি একটি বৈপ্লবিক ঘটনা।

ব্যবহৃত একটি রকেট মহাকাশে পাঠানোর পর আটলান্টিক মহাসাগরের উপরে ভাসমান একটি জাহাজে বুস্টারটি ঠিকমতো ফিরে আসার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

রকেটটির নাম ফ্যালকন নাইন। প্রায় এক বছর আগে এটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছিলো।

এবার এর সাহায্যে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে একটি টেলিযোগাযোগ স্যাটেলাইট পাঠানো হলো।

সাধারণত একটি রকেটকে যখন মহাকাশে পাঠানো হয় তখন তার বুস্টার রকেটটিকে অরবিটের দিকে ঠেলে দিয়ে নিজে ধ্বংস হয়ে সমুদ্রে পড়ে যায়।

ছবির কপিরাইট Space X
Image caption কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী এলন মাস্ক বলেছেন, মহাকাশে যান পাঠানোর ক্ষেত্রে এটি একটি বৈপ্লবিক ঘটনা।

বারবার ব্যবহার করা সম্ভব এরকম রকেট তৈরি নিয়ে স্পেস কোম্পানিগুলোর মধ্যে বহুদিন ধরেই প্রতিযোগিতা চলছে। নাসা যে খরচে মহাকাশে যান পাঠায় তার চেয়ে বহু কম খরচে নভোখেয়া পাঠানোর জন্যে এই চেষ্টা।

স্পেস এক্স- এর এই সাফল্যের তাৎপর্য নিয়ে শুনুন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষের সাক্ষাৎকার। শুনতে চাইলে উপরের অডিও লিঙ্কে ক্লিক করুন।

ইঁদুরের আর্বিভাব কোথায় কিভাবে

আমাদের বাসা বাড়িতে হয়তো আমরা সবাই ইঁদুরের উৎপাত দেখেছি। কিন্তু কখনও কি আমাদের মনে এই প্রশ্নটা তৈরি হয়েছে যে এই ইঁদুরের জন্ম কবে ও কিভাবে?

ঠিক কতো বছর আগে থেকে এই প্রাণীটি মানুষের পাশাপাশি আমাদের এই পৃথিবীতে বসবাস করছে?

ইঁদুরের ফসিল বা জীবাশ্ম গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সম্ভবত ১৫ হাজার বছর ধরে এই প্রাণীটির অস্তিত্ব। আগে তাদের ধারণা ছিলো এই সময় হয়তো আরো অনেক কম।

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন,পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের লেভান্থ অঞ্চলে মানুষের বসতিতে প্রথম বুনো ইঁদুরের আবির্ভাব হয়েছিলো।

মূলত আদি বাসিন্দারা এসব অঞ্চলে যেসব শস্য ও বীজ মজুদ করেছিলো সেসব চুরি করার জন্যে এদের আগমন।

তারপর থেকেই মানুষের বাসাবাড়িতে এদের উৎপাত শুরু।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ইঁদুরের ফসিল বা জীবাশ্ম গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সম্ভবত ১৫ হাজার বছর ধরে এই প্রাণীটির অস্তিত্ব।

মূলত মানুষের সাথে সাথে এই প্রাণীটি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা গেছে। এর মূল কারণই হচ্ছে আশ্রয় ও খাবার।

প্যারিসে জাতীয় প্রাকৃতিক ইতিহাস যাদুঘরের একজন বিজ্ঞানী ড. টমাস চুচি এবিষয়ে একটি গবেষণা করেছেন।

তিনি বলেছেন, "মানুষের সাথে ইঁদুরের সম্পর্ক বহু দিনের। আজকের দিনে পৃথিবীর সর্বত্রই এই ইঁদুর পাওয়া যায়। মানুষের মতো এটিও, একই সময়ে এবং সর্বব্যাপী উপস্থিত।"

"পৃথিবীতে সর্বত্রগামী ও আক্রমণাত্মক যতো স্তন্যপায়ী প্রাণী আছে তার একটি এই ইঁদুর," বলেন তিনি।

ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের দেশগুলোতে যা লেভান্থ নামে পরিচিত তার দক্ষিণাঞ্চলে পাওয়া ইঁদুরের জীবাশ্ম থেকে সংগৃহীত দাঁতের ওপর ভিত্তি করে তিনি এই গবেষণা পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন, "মানব জাতি যখন থেকে বসতি গড়ে তুলতে শুরু করেছে, বাসা-বাড়িতে খাবার মজুদ করে রাখতে শুরু করেছে, তখন থেকেই এই ইঁদুর মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। তখন মানুষ বসবাস করতো পাথর ও কাদামাটির তৈরি গোলাকৃতির বাড়িঘরে।"

"গবাদিপশুর জন্যে তারা খাবার বা বিচালি জমা করতো। নিজেদের খাওয়ার জন্যে সংগ্রহ করে রাখতো গম ও বার্লি। শিকার করতো হরিণ ও বুনো শূকর। এই পরিবেশেই ইঁদুরের বিকাশ ঘটতে শুরু করে। কারণ সেখানে তাদের জন্যে ছিলো পর্যাপ্ত খাবার।"

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption "মানুষের সাথে ইঁদুরের সম্পর্ক বহু দিনের। আজকের দিনে পৃথিবীর সর্বত্রই এই ইঁদুর পাওয়া যায়। মানুষের মতো এটিও, একই সময়ে এবং সর্বব্যাপী উপস্থিত।"

তিনি বলেন, "তাদেরকে খেয়ে ফেলতে পারে এরকম প্রাণীর সংখ্যাও তখন ছিলো খুব কম। তখনও কিন্তু বিড়াল ও কুকুরের আবির্ভাব ঘটেনি।"

যুক্তরাষ্ট্রে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জেরেমি সিয়ারেল, যিনি এই গবেষণার সাথে জড়িত নন, তিনি বলেছেন, এই গবেষণা থেকে কৃষি-পূর্ব সময়ে মানুষের সাথে ইঁদুরের সম্পর্ক নিয়ে চমকপ্রদ ও নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ইঁদুরের সাথে বীজের মজুদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এটা কৃষি উৎপাদন থেকে সংগৃহীত শস্য নাও হতে পারে। হতে পারে বন জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা খাবারও। শিকারিরা এসব খাবার জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করে আনতো।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইঁদুর আসলে বন্যপ্রাণী হলেও সময়ের সাথে খাবার ও আবাসনের কারণে এটি মানুষের সাথেও সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।

অনেকে পোষা প্রাণী হিসেবেও ইঁদুর পুষছে আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণাতেও ল্যাবরেটরিতে এই ইঁদুর এক গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান।

সম্পর্কিত বিষয়