যে কারণে বাংলাদেশ সরকার ফেসবুক বন্ধ করতে চায় না

  • ৪ এপ্রিল ২০১৭
ছবির কপিরাইট AFP
Image caption এর আগে ২০১৫ সালে সরকারি নির্দেশে বাংলাদেশে ২২ দিন বন্ধ ছিল ফেসবুক

বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানিয়েছেন, বাংলাদেশে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ফেসবুক বন্ধ করার কোন চিন্তা সরকার করেনি।

মঙ্গলবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "এটা কখনো বন্ধ হবে না। বন্ধ করার প্রশ্নই আসে না। কখনো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়নি।"

এর আগে সোমবার বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত ফেসবুক বন্ধ রাখার যে প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটি বাস্তবায়ন ঠিক হবে না বলে মনে করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি।

গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পর বিটিআরসি তাদের মতামত জানিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিটিআরসি'র এক কর্মকর্তা ।

বিটিআরসি'র তরফ থেকেএ মতামত দেবার পর প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বিষয়টি আরো পরিষ্কার করে জানালেন যে সরকার ফেসবুক বন্ধ করার কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি।

শীঘ্রই মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ হতে পারে - এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকেই সরকারের তীব্র সমালোচনা করে।

সাধারণ মানুষের এই প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে বিটিআরসি'র তরফ থেকে মধ্যরাতে ফেসবুক বন্ধ না করার পক্ষে মত দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছিল, ছাত্র-ছাত্রীরা ফেসবুকে অনেক সময় নষ্ট করে, ফলে রাতে তাদের ঠিকমতো ঘুম হয় না। সেজন্য জাতির ক্ষতি হচ্ছে বলেও ঐ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিটি পাওয়ার পর বিটিআরসি'র তরফ থেকে প্রথমে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল যে বিষয়টি দুই-একদিনের মধ্যে কার্যকর হতে পারে।

কিন্তু দিন শেষে সংস্থাটি ফেসবুক বন্ধ না করার পক্ষে মত দেয়।

আরো পড়ুন হঠাৎ কিভাবে একের পর এক জঙ্গি আস্তানার সন্ধান

মদ্যপ পাইলটকে আট মাসের কারাদণ্ড

বিটিআরসি মনে করে, মধ্যরাতে বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ করে সমস্যার কোন কার্যকরী সমাধান হবে না । কারণ শিক্ষার্থীরা যদি রাত জেগে যোগাযোগ করতে চায়, তাহলে ফেসবুক ছাড়াও ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ইমোর মতো আরো ইন্টারনেট-ভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যম আছে।

মধ্যরাতে ফেসবুক বন্ধ করা হলে অনেকের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে বলেও বিটিআরসি মত দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশে অনেকেই ফেসবুকের সাহায্যে নানা ধরনের ব্যবসার সাথে জড়িত।

বিটিআরসি জানিয়েছে, মধ্যরাতে ফেসবুক বন্ধ না করে শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা কার্যকরী সমাধান হতে পারে। তাছাড়া প্রযুক্তিগত কারণে শুধু নির্দিষ্ট বয়সের ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক বন্ধ করার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

বিটিআরসি বলছে তারা তাদের মতামত জানিয়ে দিয়েছেন, বাকি সিদ্ধান্তের নেয়ার দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, "আমার মনে হয় না এটা (ফেসবুক) বন্ধ হবে।"

তিনি জানিয়েছেন, বিটিআরসি'র মতামত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে মধ্যরাতে ফেসবুক বন্ধ না করার পক্ষে মত দেয়া হয়েছে।

এছাড়া বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে ফেসবুক বন্ধ করার চুড়ান্তে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

এর আগে ২০১৫ সালে সরকারি নির্দেশে বাংলাদেশে ২২ দিন বন্ধ ছিল ফেসবুক। তখনও সরকারের ঐ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।

সম্পর্কিত বিষয়