তিন মেয়রকে বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করলো হাইকোর্ট

ছবির কপিরাইট FARJANA KHAN GODHULY
Image caption বাংলাদেশের উচ্চ আদালত

বাংলাদেশে পর পর তিনটি শহরের নির্বাচিত মেয়রকে বরখাস্ত করার সরকারি আদেশ স্থগিত করে দিয়েছে হাইকোর্ট। এই মেয়ররা সবাই বিগত সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিরোধীদল বিএনপি-র মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।

বাংলাদেশের সিলেট, ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং হবিগঞ্জ পৌরসভার তিন মেয়র নির্বাচিত হবার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাদের বরখাস্ত করে ।এর বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতের নির্দেশে তারা আবার দায়িত্বে ফিরে আসেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় তাদের আবার বরখাস্ত করে।

এর পর বরখাস্তের সর্বশেষ সরকারি আদেশও হাইকোর্ট স্থগিত করে দিয়েছে। এ ঘটনায় সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে, কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ঐ জনপ্রতিনিধিরা ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় আইনের বাধ্যবাধকতার কারণেই এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন : শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে কি?

যে কারণে সরকার ফেসবুক বন্ধ করতে চায় না

আরো পড়ুন: যে কারণে বাংলাদেশ সরকার ফেসবুক বন্ধ করতে চায় না

ভারতীয় সাংবাদিকের চোখে বাংলাদেশের জঙ্গীবিরোধী অভিযান

দুই বছরেরও বেশি সময় বরখাস্ত থাকার পর আদালতের নির্দেশে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক এবং রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দায়িত্ব নিয়েছিলেন গত রোববার।

মেয়রের চেয়ারে বসার কয়েক ঘন্টার মধ্যে তাদের আবার সাময়িক বরখাস্ত করার সরকারি পদক্ষেপ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।এমন ঘটনা সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে অস্বস্তিতে ফেলেছে বলেও দলটির নেতাদের অনেকে মনে করেন।

এমনকি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের প্রশ্নে মন্তব্য করেছিলেন যে, বিষয়টি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী কিছু জানেন না।

তিনি দায়িত্ব চাপিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের উপর।স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিদেশে সফরে রয়েছেন। সেখান থেকে তিনি বিবিসিকে বলেছেন, আইনের বাইরে তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নেননি।

সাবেক অর্থমন্ত্রী এস এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় সিলেটের মেয়রকে বরাখাস্ত করার কথা সরকার বলেছে।আর রাজশাহীর মেয়র নাশকতার কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত।দ্বিতীয় দফায় বরখাস্ত হয়ে সিলেটের মেয়র গতকালই হাইকোর্টে গিয়ে স্থগিতাদেশ পান।

আর হবিগঞ্জের পৌর মেয়র এবং রাজশাহীর মেয়র আজ হাইকোর্টের আশ্রয় নিয়ে বরখাস্তের সরকারি আদেশের উপর স্থগিতাদেশ পেয়েছেন।

তাঁরা তিনজনই বিরোধীদল বিএনপি নেতা।রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্দ্দেক হোসেন বুলবুল বলছিলেন,তাঁর মেয়াদের অর্ধেক সময়ই তিনি বরখাস্ত থাকলেন রাজনৈতিক কারণে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে আইন এবং তার বাধ্যবাধকতার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধে আইনের অপপ্রয়োগের অভিযোগ উঠছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি মনে করেন,আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণয়ন করা আইনটি রাজনৈতিক বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন অবশ্য আইনের দুর্বলতার বিষয় তুলে ধরে তা পর্যালোচনা করার কথা বলেছেন।

সম্পর্কিত বিষয়