‘এখনতো আমরা পানির ওপর ভেসে আছি’

  • ৭ এপ্রিল ২০১৭
বোরো ধান কাটার সময় কিছু দিন পরে কিন্তু তার আগেই সব ফসল এখন পানির নীচে ছবির কপিরাইট Shakir Hossain
Image caption বোরো ধান কাটার সময় কিছু দিন পরে কিন্তু তার আগেই সব ফসল এখন পানির নীচে

বাংলাদেশের উত্তর- পূর্বাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি জেলায় হাওরের পানিতে ফসল ডুবে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পরেছে সেখানকার কৃষকরা। সিলেটের সুনামগঞ্জে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে এই বন্যা হয়েছে বলে বলা হলেও স্থানীয় কৃষকরা ফসল রক্ষার্থে স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ করছে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাঙ্গাই হাওরে প্রতিবছর বোরো ধানের আবাদ করেন জসিমউদ্দিন। এবারে একশ বিশ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন তিনি।

আসছে বৈশাখের মাঝামাঝি সময় ধান কাটার প্রস্তুতি রয়েছে তাঁর। কিন্তু সাঙ্গাই হাওরে এখন কোমর সমান পানি। সমস্ত ফসল এখন পানির নীচে।

"একশ বিঘা জমিতে ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছি। ধান পাইলে দুই হাজার বা ২২শ মণ ধান পাইতাম। এখন এক টা ধানও উঠাতে পাড়ি নি" বলছিলেন জসিমউদ্দিন।

ছবির কপিরাইট Shakir Hossain
Image caption ব্যাপক ক্ষতির মুখে পরেছে সেখানকার কৃষকরা

আরও দেখুন:

জঙ্গলে বানরের সাথে বসবাস করতো যে মেয়েটি

সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করছে রাশিয়া

"এখনতো আমরা পানির ওপর ভেসে আছি" বলছিলেন তিনি।

সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ৪২টি হাওর রয়েছে। আর শুকনা মৌসুমে হাওরে ধান চাষিদের অবস্থা এখন জসিমউদ্দিনের মতই।

সুনামগঞ্জ ছাড়াও মৌলভিবাজার,কিশোরগঞ্জ,নেত্রকোনায় হাওর গুলোর পানিতে ভেসে গেছে। এর কারণ হিসেবে পাহাড়ি-ঢলে আগাম বন্যা ও বৃষ্টিকে কারণ হিসেবে দেখছেন সরকারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

তবে কৃষক ও স্থানীয়রা একে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসল রক্ষার বাধ নির্মাণের গাফিলতি ছিল বলে অভিযোগ করছেন। স্থানীয় সাংবাদিক সাকির হোসেন বলছিলেন ৪৪টি বাধ দেয়ার কথা থাকলেও একটিও দেয়া হয় নি।

ছবির কপিরাইট Shakir Hossain
Image caption স্থানীয় কৃষকরা ফসল রক্ষার্থে স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ করছে।

তিনি বলছিলেন "পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে যে কাজ গুলো দেয়া হয়েছিল সেসব কিছুই করা হয়, স্থানীয় ঠিকাদাররা রয়েছে এর পিছনে"।

মৌলভীবাজার জেলায় ৪৩ হাজার ৫৮০ একর মাঠের ধান পানিতে তলিয়ে রয়েছে। সিলেট অঞ্চলে আড়াই লাখ হেক্টরের ৯০ শতাংশ ফসল পানির নীচের রয়েছে, টাকার মূল্যে আড়াই হাজার কোটি টাকার মত ক্ষতি হয়েছে বলা জানা যাচ্ছে।

এদিকে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলছিলেন বাধের মান নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে সেটা সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ কে জানানো হয়েছে।

হাওরগুলোতে এখন বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে এই জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন। একই অবস্থা কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের হাওর গুলোর।

সম্পর্কিত বিষয়