'আমার এবং হাসিনার সরকারই পারবে তিস্তা চুক্তি করতে'

ছবির কপিরাইট Focus Bangla
Image caption দু দেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সই হলেও তিস্তা নিয়ে চুক্তি হয়নি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে চাওয়া-পাওয়ার হিসেব কতটুকু মিলবে, সফর শুরুর আগে থেকেই তা নিয়ে যথারীতি ছিল তীব্র আলোচনা আর জল্পনা।

অবশেষে সফরের মূল কার্যক্রমের দিনটিতে আজ দুই দেশ মিলে বাইশটি সমঝোতা স্মারক সই করল, যার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল প্রতিরক্ষা ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা।

ভারতের দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সাড়ে চারশো কোটি ডলারের ঋণ বা লাইন অব ক্রেডিটকে - যে অর্থ বাংলাদেশ তাদের দেশের বিভিন্ন প্রকল্পে খরচ করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, সহজ শর্তে দেওয়া এই ঋণ বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নে বিরাট সাহায্য করবে - এবং এই নিয়ে গত ছবছরের মধ্যে বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের মোট অঙ্ক আটশো কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেল।

এছাড়াও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য ভারত বাংলাদেশকে আলাদা একটি ৫০ কোটি ডলারের ঋণও মঞ্জুর করেছে।

পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, কানেক্টিভিটি ইত্যাদি নানা খাতে দুই দেশ বিভিন্ন সমঝোতা করলেও যেমনটা ভাবা হয়েছিল সেভাবেই তিস্তা নিয়ে কোনও সুখবর কিন্তু এদিন পাওয়া যায়নি।

তবে তা সত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাতে কোনও কার্পণ্যই করেননি প্রধানমন্ত্রী হাসিনা।

"প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের যে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, তার জন্য আমি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে, আমার সরকারের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।"

এদিন দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসের বৈঠকে সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে যোগ দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও - যাকে তিস্তা চুক্তির পথে প্রধান বাধা হিসেবে গণ্য করা হয়। মধ্রাহ্নভোজেও ছিলেন তিনি - আর তারপর মি মোদি ঘোষণা করেন, দিল্লিতে তার ও ঢাকায় শেখ হাসিনা সরকার মিলেই খুব শিগিগিরি তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে তিনি নিশ্চিত।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী তিস্তা প্রসঙ্গে বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যে আজ আমার আতিথ্য গ্রহণ করেছেন তাতে আমি খুব খুশি। আমি জানি বাংলাদেশের জন্য তার তার আন্তরিক হৃদ্যতা ও অনুভূতির উষ্ণতা আমার চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। আমি বাংলাদেশের মানুষকে কথা দিচ্ছি, তাড়াতাড়ি এই চুক্তি সম্পাদনের জন্য আমাদের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। এবং আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমার ও শেখ হাসিনার সরকারই পারবে এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে এবং আমরা তা করেও দেখাব।'

ভারতে বর্তমান নরেন্দ্র মোদি সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১৯-র মে মাসে, আর বাংলাদেশে শেখ হাসিনার এখনকার সরকারের মেয়াদ ফুরোবে তার মাস পাঁচেক আগে। কাজেই প্রধানমন্ত্রী মোদির কথা সত্যি হলে ধরে নেওয়া যায় ২০১৮-র শেষের মধ্যেই এই দুই সরকার মিলে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর করার কাজ শেষ করবে। বহু বছর ধরে অমীমাংসিত এই বিষয়টি নিয়ে অবশেষে একটি প্রকাশ্য সময়সীমা বা টাইমফ্রেম অন্তত ভারত ঘোষণা করল, এটিকে এই সফরের একটা ইতিবাচক দিক হিসেবে অনেকে তুলে ধরছেন।

সম্পর্কিত বিষয়