'মুফতি হান্নানের ভাবান্তর নাই'

হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান (ফাইল ছবি) ছবির কপিরাইট STR
Image caption হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান (ফাইল ছবি)

রাষ্ট্রপতির কাছে করা প্রানভিক্ষার আবেদন খারিজ হয়ে গেছে, ফলে এখন যেকোনো মূহুর্তেই কার্যকর হতে পারে হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড।

কিন্তু এমন সময়ও কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে স্বাভাবিক অবস্থাতেই আছেন।

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, "রাষ্ট্রপতি তার প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন জানার পরও তার মধ্যে ভাবান্তর নেই।"

দুই একদিনের মধ্যে কোন আত্মীয়স্বজন তার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এর আগে শনিবার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, প্রাণভিক্ষা চেয়ে হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

ছবির কপিরাইট এএফপি
Image caption ২০০৪ সালে সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজারে গ্রেনেড হামলার পর ঘটনাস্থলের দৃশ্য

এখন জেল কোড অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়।

এরপর সেখান থেকে কারাগারে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র পাঠানো হয়। এরপরই ব্যবস্থা নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

আরো পড়ুন:কী আছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবে?

হাসিনা-মোদিকে 'স্টেপ ডাউনে'র অনুরোধ নিয়ে হাস্যরোল

মি. রহমান জানিয়েছেন, এখনো কারাগারে তাদের হাতে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র এসে পৌঁছয়নি।

কাগজপত্র হাতে পেলেই জেল কোড অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২০০৪ সালে বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজারে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে।

এ বছরের মার্চের ১৯ তারিখে ঐ মামলায় মুফতি আব্দুল হান্নানসহ তিনজনকে আপিল বিভাগের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

২২শে মার্চ তাকে কারাগারে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায় পড়ে শোনানো হয়।

এরপর ২৭শে মার্চ প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন মুফতি হান্নান।

এদিকে, মুফতি হান্নানসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধের আহবান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

তার বিরুদ্ধে যশোরে উদীচির অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, গোপালগঞ্জে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং রমনা বটমূলে বোমা হামলাসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে।

এর মধ্যে রমনা বটমূলে বোমা হামলার মামলাতেও বিচারিক আদালত তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়