বাংলাদেশে আলেমদের দাবির মুখে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ন্যয়বিচারের প্রতীক গ্রিক দেবী থেমিসের আদলে গড়া ভাস্কর্যটির অপসারণ চান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও

  • ১১ এপ্রিল ২০১৭
বায়তুল মোকাররম মসজিদে ভাস্কর্য-বিরোধী সমাবেশ ছবির কপিরাইট এএফপি
Image caption বায়তুল মোকাররম মসজিদে ভাস্কর্য-বিরোধী সমাবেশ

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গণে ন্যয়বিচারের প্রতীক গ্রিক দেবী থেমিসের আদলে গড়া একটি ভাস্কর্য সরিয়ে নিতে প্রধান বিচারপতির সাথে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকায় মঙ্গলবার বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার আলেমদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি একথা জানান।

এই ভাস্কর্যটি আদালত প্রাঙ্গণ থেকে সরানোর দাবিতে ওলামারা আন্দোলন করছিলেন।

বিরোধিতাকারীদের সাথে একমত পোষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, এটি সরাতে তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলবেন।

ভাস্কর্যটির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, "সত্যি কথা বলতে কি আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি এবং প্রধান বিচারপতিকে আমি এই খবরটা দিয়েছি।"

ভাস্কর্যটি কয়েক মাস আগে স্থাপন করা হয়।

ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে ঢাকায় সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের সামনের চত্বরে।

প্রধান গেট দিয়ে আদালত সীমানায় প্রবেশ করলেই চত্বরে এই ভাস্কর্য চোখে পড়বে।

এরপর থেকেই কয়েকটি ইসলামী সংগঠন এটিকে সরানোর দাবিতে আন্দোলনে নামে।

সরকারপন্থী ওলামা লীগও তা অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিল।

আরো দেখুন:

গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য ভাঙ্গার দাবিতে হেফাজতের বিক্ষোভ

দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রি এখন মাস্টার্সের সমমানের

অপু-শাকিব উপাখ্যান নিয়ে বুবলির বক্তব্য

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সারাবিশ্বে গ্রীক দেবির যে ভাস্কর্যকে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে দেখা হয় তারই আদলে ভাস্কর্য নির্মাণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। (প্রতীকী ছবি)

বাংলাদেশে এর আগেও বিভিন্ন সময় ইসলামপন্থী বিভিন্ন সংগঠন বা দল থেকে ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষক নাসিমুল খবিরও মনে করেন, ভাস্কর্য এবং ধর্মীয় প্রতিমা মিলিয়ে ফেলে এসব বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলছিলেন, "ভাস্কর্য এবং ধর্মীয় প্রতিমাকে গুলিয়ে ফেলার একটা প্রবণতা আমাদের সমাজে আছে। সেই সুযোগ নেয় ধর্মীয় উগ্রবাদিরা।এখনও তাই হয়েছে"।

এদিকে হেফাজতে ইসলাম এই ভাস্কর্য অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি নেয়ার হুমকিও দিয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়