ডর্টমুন্ডের বাসে বোমা: চিঠি বলছে ইসলামপন্থীরা জড়িত নয়

  • ১৫ এপ্রিল ২০১৭
ঘটনার স্থানে পাওয়া চিঠি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীদের ধারণা এই ঘটনার দায় আইএস গোষ্ঠী-র দিকে চাপিয়ে দেবার কৌশল নেয়া হয়েছিল ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ঘটনার স্থানে পাওয়া চিঠি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীদের ধারণা এই ঘটনার দায় আইএস গোষ্ঠী-র দিকে চাপিয়ে দেবার কৌশল নেয়া হয়েছিল

জার্মান ফুটবল ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের টিম বাসে বিস্ফোরণে ইসলামি মৌলবাদীদের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়নি তদন্তকারীরা

জার্মান ফুটবল ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের টিম বাসের কাছে যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে তাতে কোনো উগ্র ইসলাম পন্থীদের যোগসূত্র সম্পর্কে নিশ্চিত নয় দেশটির তদন্তকারী সংস্থা।

ঘটনার স্থানে পাওয়া চিঠি বিশ্লেষণ করে তাদের ধারণা এই ঘটনার দায় আইএস গোষ্ঠী-র দিকে চাপিয়ে দেবার কৌশল নেয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মোনাকোর বিরুদ্ধে খেলতে হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে যাচ্ছিল জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। যাবার পথে টিম বাসের সামনে পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে বাসের কাঁচ ভেঙে হাতে আঘাত পান দলটির স্প্যানিশ ফুটবলার মার্ক বার্টা। তাঁর হাতে একটি অপারেশনও করতে হয়েছে।

সেদিনের মতো ম্যাচটি বাতিল করা হয় আর এই ঘটনায় তদন্তে নামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার পরপরই সেখান থেকে কয়েকটি চিঠি উদ্ধার করা হয়- যেখানে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস'এর পক্ষে কিছু দাবি জানিয়ে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়।

সম্প্রতি তদন্তকারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই চিঠিগুলি সম্ভবত আইএস গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে পাঠানো হয়নি। একটি চিঠিতে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে যে, জার্মানির একটি বিশেষ বিমান ঘাঁটি বন্ধ না করলে খেলোয়াড়সহ অন্যান্য তারকাদের আরো বিপদ ঘটবে। ঐ ঘাঁটিটি সিরিয়ায় বিমান হামলার জন্যে ব্যবহার করা হয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে তথাকথিত ইসলামি স্টেট গোষ্ঠী এভাবে সাধারণত কোনো দাবি জানিয়ে থাকে না। তদন্ত দলের সন্দেহ কোনো উগ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী কিংবা কোনো উগ্র ফুটবল সমর্থক দলও এই বিস্ফোরণের জন্যে দায়ি হতে পারে।

একজন বিশ্লেষক বলেছেন যে, চিঠির লেখক একজন জার্মান এবং ইচ্ছে করেই সে কিছু ভুল করেছে লেখার সময়, যাতে মনে হয় যে চিঠির লেখক জার্মান ভাষায় কাঁচা।

এদিকে, একটি জার্মান সংবাদপত্র জানিয়েছে তারা একজন ডান-পন্থী রাজনীতি সমর্থকের ই-মেইল পেয়েছে। যেখানে এই হামলাকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বলা হয়েছে।

এর আগে এই ঘটনার জন্যে একজনকে আটক করেছিল পুলিশ। যিনি ইরাকে আইএস-এর সদস্য ছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল।