সিটিং বনাম লোকাল: বাসে হয়রানি কমবে?

  • ১৬ এপ্রিল ২০১৭
বিবিসি ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption সিটিং সার্ভিস বন্ধে ঢাকার রাস্তায় চলছে অভিযান।

বাংলাদেশের ঢাকায় বাস, মিনিবাসে নানা ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বাস মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযান শুরু করা হয়েছে । আর এতে সহায়তা দিচ্ছে সরকার।

বাস মালিকদের একটি অংশের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি বলছে, অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া ঠেকানো সহ অনিয়ম রোধে তারা এই অভিযান পরিচালনা করছে। আর একাজে বিআরটিএ এবং পুলিশ সহযোগিতা করছে।

মালিকদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান

ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বিবিসিকে বলেন, "গ্যেটলক, সিটিং সার্ভিস, স্পেশাল সার্ভিস এমন নামে যেসব গাড়ি চালানো হত সেগুলোতে ভাড়ার তারতম্য ছিল, কোথাও কোথাও বেশি ভাড়া নেয়া হতো। আর সিটিং সার্ভিসের নামে বাস চালানো হলেও সেরকম কোনও নামে পারমিশন কর্তৃপক্ষ দেয়নি"।

তিনি দাবি করেন সবার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে এটি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরব মধুচন্দ্রিমা কতদিন টিকবে?

উত্তর কোরিয়ার ব্যর্থ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার অর্থ কী?

কিন্তু পরিবহন মালিকদের আরেকটি অংশের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য অস্বীকার করা হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব বাস কোম্পানিজ নামের সংগঠনের একজন নেতা রফিকুল হোসেন কাজল বিবিসিকে বলেন, " আমরা বিরোধিতা করছি- এটা ঠিক না। কিন্তু সাধারণ মালিকদের প্রতারিত করা হচ্ছে। কারণ এই গাড়িগুলোর মালিক ক্ষুদে বিনিয়োগকারী । তারা এটা করেছে আগের অনিয়মের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে"।

ছবির কপিরাইট ফোকাস বাংলা
Image caption মুছে ফেলা হচ্ছে 'স্পেশাল' সিটি সার্ভিস

যারা এই অভিযানের উদ্যোগ নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায় করার অভিযোগ তুলেছেন রফিকুল হোসেন কাজল। "এই যে যারা বলছে যে সিটিং সার্ভিস বন্ধ করবে তারা যে প্রতিদিন বড় আকারের চাঁদা নেয় আজ থেকে সেটা বন্ধ হয়ে যাবে?"

তিনি প্রশ্ন তোলেন, "মালিকের কাজ কী পুলিশের কাজ করা?"

তবে এই অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অনিয়মের ঘটনায় বিভিন্ন বাসের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা করেছে।

যাত্রীদের ভোগান্তি

রোববার দুপুরের দিকটায় ফার্মগেট এলাকায় লোকজনকে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তারা জানান, অন্যদিন এ‌ সময়টা সহজে বাস পাওয়া গেলেও আজ মিলছে না।

বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন যাত্রী বলছিলেন, "ফার্মগেট থেকে মোহাম্মদপুর যেতে সময় লাগে ত্রিশ মিনিট। দুপুরে সাধারণত ১০ মিনিটেই বাস পাওয়া যায়। কিন্তু আজ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অনেকক্ষণ"।

আরেকজন যাত্রী বলেন, "এখন থেকে যেহেতু সিটিং সার্ভিস চলবে না তাই বাড়তি ভাড়া গুণতে হবে। আগে মোহাম্মদপুর থেকে গুলিস্তান যেতাম ২০ টাকায় সেটা এখন দিতে হবে ২৫ টাকা। আর মিরপুর থেকে মতিঝিল ২৯ টাকা"।

অভিযানের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে বিবিসি বাংলার সাইয়েদা আক্তার রোববার রাস্তায় যে কয়েকজন চালক এবং শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন, তারা সবাই স্বীকার করছেন, বাসের সংখ্যা আজ অনেক কম।

মোবাইল কোর্টের ভয়ের কারণে অনেক কোম্পানি তাদের বাস নামাতে পারেনি। একটি পরিবহনের কর্মীরা জানান, তাদের মালিকের ৩০টি বাস চলে। আজ নেমেছে মাত্র ৮টি।

ছবির কপিরাইট ফোকাসবাংলা
Image caption বিআরটিএ'র ভ্রাম্যমাণ আদালতের মোবাইল কোর্ট বিভিন্ন অনিয়মে অনেকগুলো বাস সার্ভিসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

কারওয়ানবাজারের মোড়ের কাছে একজন নারী বাসের জন্য অপেক্ষায়। সাথে একটি শিশু। অভিযানের কারণে বাসগুলো দ্রুতগতিতে চলে যাওয়ায় উঠতে পারেননি তিনি।

"আব্দুল্লাহপুরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি। সাথে শিশু আছে। কিন্তু বাস গুলো থামছে না"

একজন যাত্রী বলেন, "লোকাল বাসেও তো অনেক সময় 'সিটিং' লিখে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হয়"।

আবার অন্য একজন যাত্রীর বক্তব্য "তা-ও সিটিং বাসে উঠলে লোকাল বাসের মত এখানে-ওখানে থামে না বলে সময়মত জায়গামতো যাওয়া যায়"।

তবে তার মত অন্য যাত্রীদের একটাই প্রশ্ন, বাস সিটিং বা লোকাল যাই হোক না কেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় আর বাসে হয়রানি কমবে তো?

সম্পর্কিত বিষয়