বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদন ছাড়া আওয়ামী লীগে নতুন সদস্য নিষিদ্ধ

  • ১৮ এপ্রিল ২০১৭
ছবির কপিরাইট AFP
Image caption দলের প্রতীক হাতে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে সুবিধাবাদীদের অনুপ্রবেশ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিতর্ক হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের অনেকেই মনে করেন, বিভিন্ন দল থেকে যোগ দেয়া লোকজন একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী তৈরি করায় ত্যাগী নেতা-কর্মিরা দলে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।

বোঝাই যাচেছ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও এখন এই উদ্বেগে শরিক হয়েছেন।

সম্প্রতি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলে 'নব্য সুবিধাবাদী' আওয়ামী লীগারদের 'কাউয়া' এবং 'ফার্মের মুরগি'র সাথে তুলনা করেছেন।

আর আজকে নতুন সদস্যপদের ওপর ই বিধিনিষেধ।

মি: কাদেরের কণ্ঠে এই সব বিশেষণের সাথে তৃণমূলের অনেক নেত-কর্মি এখন নিজের এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সাথে মিল খোঁজার চেষ্টা করছেন।

উত্তরের একটি বিভাগীয় শহর রংপুর থেকে সেখানকার মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউর রহমান বলছিলেন, সুবিধাবাদীদের দাপটের কাছে তিনি নিজেও একজন ভুক্তভোগী।

"আমরা রংপুর অঞ্চলেও দেখছি, হঠাৎ করে কিছু লোক যাদের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কখনও দেখা যায়নি।তারা বিশাল ক্ষমতা নিয়ে আমাদের রংপুরে হাজির হচ্ছে।তারা নিজেদের প্রমাণ করতে চাইছে যে , তারা আওয়ামী লীগের অনেক বড় নেতা।এদের কারণে ত্যাগী নেতা-কর্মিরা অনেক সময় কোণঠাসা হচ্ছে।"

প্রতিপক্ষ বিএনপি এবং এমনকি জামায়াতে ইসলামী থেকেও মাঠ পর্যায়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার কয়েকটি ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটেছিল। এনিয়ে দলটিকে সমালোচনা মোকাবেলা করতে হয়েছে।

তৃণমূলের নেতা-কর্মিদের অনেকে অভিযোগ তুলেছেন,অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এবং দল প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই পটভূমিতে অন্য দল থেকে নব্য আসা বা সুবিধাবাদীরা গোষ্ঠী তৈরির সুযোগ পাচ্ছে।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption মহিলা আওয়ামী লীগের মিছিল (ফাইল ফটো)

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের যশোর থেকে সেখানকার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারুল ইসলাম বলেন, "আমার এলাকায় নব্য এবং সুবিধাবাদীরা আমাদের নেত্রীর সকল অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই সুবিধাবাদীরা হালুয়া-রুটি খাওয়ার জন্য আমাদের দলে আসছে। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে এমপিরা বিএনপি-জামায়াত বা যে কোন দলের লোক নিয়ে একটা নিজস্ব বলয় তৈরি করছে। এগুলো দলের জন্যই ক্ষতি করছে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, দেশে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি, এই প্রধান দু'টি দল মূলত ক্ষমতার রাজনীতি করে। আর পরিবেশটাও এমন তৈরি হয়েছে, যে দল যখন ক্ষমতায় যায়, তখন দলীয় নেতা-কর্মিদের সুবিধা দেয়ার বিষয় আসে। রাস্তাসহ অবকাঠামো নির্মাণে টেন্ডারবাজি বা ব্যবসায় সুবিধা, সবকিছু চলে যায় ক্ষমতাসীনদের দখলে। ফলে সুবিধাবাদীরা ক্ষমতাসীন দলেই ভেড়ে।

আওয়ামী লীগেও এমন একটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফও বলেন, "স্বাভাবিকভাবে সবসময় লক্ষ্য করি যে, একটি দল যখন ক্ষমতায় আসে, তখন সুবিধা নেয়ার জন্য অন্য দল থেকে অনেকেই ক্ষমতাসীন দলে যোগ দিতে চায়। এই সুযোগ সন্ধানীরা যাতে আমাদের দলে যোগ দিতে না পারে, শুরু থেকেই এমন নির্দেশ দেয়া ছিল।এরপরও বেশকিছু জায়গায় কিছু কিছু নেতাদের ছত্রছায়ায় কিছু লোক হয়তো যোগ দিয়েছে। তারাই সুযোগ সুবিধা নিয়ে দুই এক জায়গায় হয়তো পরিবেশটা নষ্ট করেছে।"

বিষয়গুলো নিয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের অনেকে বিব্রত।ত বে তারা মনে করেন, হঠাৎ আসা বা অনুপ্রবেশকারীদের দলে কোথাও নেতৃত্বে নেই। সেকারণে পরিস্থিতিকে তাঁরা এখনও উদ্বেগজনক বলে মনে করেন না।

তবে এনিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতেও সম্প্রতি আলোচনা হয়েছে। মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন,"দলে কাউকে নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দলের গাইডলাইন অনুসরণ করে কেন্দ্রের অনুমতি নিয়ে তাকে নিতে হবে। অন্য দল থেকে কেউ আসতে চাইলে স্থানীয়ভাবে যাচাই করার পর কেন্দ্রের অনুমতি নিয়ে তারপর তাকে নিতে হবে। দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নির্দেশনা সারাদেশের নেতা কর্মিদের পাঠানো হয়েছে।"

সম্পর্কিত বিষয়