বেডরুমে বসে সারা দুনিয়ায় হ্যাকিং
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিজ্ঞানের আসর: বেডরুমে বসে সারা দুনিয়ায় হ্যাকিং

ব্রিটিশ এক কিশোর কম্পিউটার হ্যাকিং সফটওয়্যার তৈরি করে এর মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে পাঁচ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ বানিয়েছে।

এর ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্বের বহু প্রতিষ্ঠান। এসবের মধ্যে রয়েছে - বহু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, গেইম খেলার ওয়েবসাইট, স্থানীয় কাউন্সিল এবং আরো কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

যেমন- ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, সনি প্লে স্টেশন, এক্স বক্স, মাইনক্রাফ্ট ইত্যাদি। এমনকি সে নিজে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা করতো সেখানেও সে সাইবার হামলা চালিয়েছে।

নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এসব প্রতিষ্ঠানকেও গুণতে হয়েছে বড়ো অঙ্কের অর্থ।

লন্ডনের একটি আদালতে এডাম মুড নামের এই তরুণের বিচার চলছে।

এসব অপরাধ যখন সে করছিলো তখন সে তার বাবা মায়ের সাথে বসবাস করতো, বয়স ছিলো মাত্র ১৬। কোর্টের কাছে সে কম্পিউটার অপব্যবহার আইনের আওতায় তার অনেক অপরাধের কথা স্বীকারও করেছে। ‌

আগামী সপ্তাহে দিকে তার সাজা ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

ছবির কপিরাইট NCA
Image caption সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান

এই কিশোর তার শোওয়ার ঘরে বসে নিজের ব্যক্তিগত কম্পিউটার ব্যবহার করে এমন একটি প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলো যা দিয়ে সম্পন্ন হয়েছিলো সারা বিশ্বে প্রায় কুড়ি লাখের মতো সাইবার আক্রমণ।

তার এই ম্যালাওয়্যার প্রোগ্রামের নাম - টাইটানিয়াম স্ট্রেসার। এটি সে বিক্রি করেছিলো সারা বিশ্বের সাইবার অপরাধীদের কাছে। এবং তা থেকে সে প্রচুর অর্থ বানাতে সক্ষম হয়।

এই প্রোগ্রামের নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যাই ছিলো এক লাখেরও বেশি, যারা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রায় কুড়ি লাখ সাইবার হামলার জন্যে দায়ী।

২০১৫ সালের মার্চ মাসে তাকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন সে তার শোওয়ার ঘরেই ছিলো।

পুলিশ তাকে তার কম্পিউটার আনলক করতে বললেও সেটা করতে সে রাজি হয়নি। পরে তার বাবার অনুরোধে সেটা সে করে এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এই হ্যাকিং নিয়ে শুনুন আয়ারল্যান্ডে একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী, অপটাম-গ্লেবাল সলিউশন্স ইউনাইটেড হেলথ গ্রুপের ড্যাটা সায়েন্টিস্ট ড. নাসিম মাহমুদের সাক্ষাৎকার।

শুনতে চাইলে উপরের অডিও লিঙ্কে ক্লিক করুন।

আলঝোইমার ও পারকিনসন্স চিকিৎসায় নতুন ওষুধ

ব্রিটেনে চিকিৎসকরা এমন দুটো ওষুধ আবিষ্কার করেছেন যা কীনা মস্তিষ্কের কোষকে নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে।

তাদের এই আবিষ্কারকে দেখা হচ্ছে, আলঝেইমার এবং পারকিনসন্সের মতো রোগের চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে।

এসব রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর মস্তিষ্কের কোষগুলো নিজেদের প্রোটিন উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এবং এক পর্যায়ে এসব কোষের মৃত্যু ঘটে।

ছবির কপিরাইট SPL
Image caption প্রোটিনের অভাবে মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু ঘটে

চার বছর আগে মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের বিজ্ঞানীরা একটি ওষুধ তৈরি করেছিলেন যা প্রোটিন তৈরির ব্যাপারে মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সক্রিয় রাখতে পারে। এর ফলে এসব কোচ বেঁচে থাকে।

কিন্তু ওই ওষুধটি ছিলো মানুষের জন্যে বিষাক্ত। কিন্তু আরো গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে বিজ্ঞানীরা এখন এমন দুটো ওষুধ আবিষ্কার করেছেন যা মানুষের ব্যবহারের জন্যে নিরাপদ।

এই গবেষণা দলের প্রধান লেস্টার শহরে মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল টক্সিকোলজি ইউনিটের অধ্যাপক জিওভান্না মাল্লুচ্চি।

তিনি বলেছেন, এই দুটো ওষুধ রোগীর শরীরে যতো আগে প্রয়োগ করা যাবে ততোই মঙ্গল।

তিনি বলেন, এই ওষুধ আলঝেইমার ও পারকিনসন্সের মতো রোগ প্রতিরোধে রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

"সাধারণত, এসব রোগ শুরু হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই এরকম প্রাথমিক পর্যায়ের অসুখ নিয়েই চলাফেরা করছি।"

"এখন আমি যদি আমার রোগীর শরীরে এই প্রাথমিক পর্যায়ে এসব ওষুধ প্রয়োগ করতে পারি তাহলে রোগটির বেড়ে ওঠা থামিয়ে দেওয়া সম্ভব। এটা একটা বড়ো ধরনের অগ্রগতি। এর ফলে রোগীর জীবনে আমূল পরিবর্তন ঘটবে। বৃদ্ধি পাবে তাদের জীবনের গুণগত মান। এর মূল কথা হচ্ছে - এই ওষুধের মাধ্যমে আপনি রোগ সারিয়ে তুলছেন না কিন্তু একটি রোগকে পরিবর্তন করে দিচ্ছেন। এই একইভাবে এইচ আই ভি রোগকেও মোকাবেলা করা হয়েছে," বলেন তিনি।

তিনি বলেন, "আপনি জানেন যে এই রোগ থেকে আপনি সেরে উঠেন নি কিন্তু এর ফলে আপনার শরীরে ভাইরাসের মাত্রা এমন নিচু এক পর্যায়ে থাকে যে আপনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে সক্ষম হবেন। অর্থাৎ আপনি এতে ঠিক আক্রান্ত হবেন না। এই যে প্রতিকার না করে পরিবর্তন ঘটানো - এটাও চিকিৎসার একটি উপায়।"

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান।