বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, সুস্থতা বেড়েছে কতটা?

বিবিসি ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বাংলাদেশে গড় আয়ু ৭১ বছরের চেয়ে বেশি এখন। তবে কতটা সুস্থ জীবন-যাপন করছেন বয়স্করা সেটাই বড় প্রশ্ন মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ বছর ছয় মাসে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল মঙ্গলবার ঢাকায় এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

অর্থাৎ গত সাড়ে চার দশকে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে ২৪ বছরের বেশি।

কিন্তু গড় আয়ু বাড়ার কথা বলা হচ্ছে ঠিকই কিন্তু মানুষ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত জীবন-যাপন করছে সেটাই বড় ব্যাপার। এমনটাই মনে করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড: বিল্লাল হোসেন।

তিনি বলেন, "আপনি ৭০ বছর বাঁচছেন কিন্তু সেই সত্তর বছরের মধ্যে কতটা স্বাস্থ্যবান হয়ে আপনি বাঁচছেন?"

এই গড় আয়ু বাড়ার পেছনে শিশুমৃত্যুর হার কমে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক হোসেন।

কিন্তু মি. হোসেনের মূল্যায়ন, "অন্যান্য রোগের যে প্রাদুর্ভাব এবং ক্রনিক ডিজিজ(দুরারোগ্য ব্যাধি) এবং নন-কমিউক্যাবল ডিজিজ(অসংক্রামক রোগ) বাড়ার ফলে একটা উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী সত্তর বছর বেঁচে থাকলেও তার কর্মক্ষমতা কিন্তু অনেক কম"।

আরও পড়ুন: ডায়েরিতে নারী পুলিশ লিখে গেলেন আত্মহত্যার কারণ

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ শুরুর আদেশ

সেজন্য শুধু গড় আয়ু বাড়ালে হবে না, মানুষের জন্য সুস্থ জীবন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। কারণ, এই বেঁচে থাকা অবস্থায় কর্মক্ষমতা কম থাকলে সেটার অর্থনৈতিক একটি নেতিবাচক প্রভাব থাকে।

Image caption বিশ্বজুড়ে বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা।

গড় আয়ু বাড়ার পেছনে কোন বিষয়গুলো কাজ করেছে?

এমন প্রশ্নে মি হোসেন বলেন, এজন্য আসলে স্বাস্থ্য সেবা, পুষ্টির মান বৃদ্ধি, শিক্ষা, আয়-উপার্জন বেড়ে যাওয়া, জীবন মানের উন্নতি- এই সব বিষয়ই কাজ করেছে। পাশাপাশি বৈদেশিক সাহায্য, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত উন্নয়নও এখানে কাজ করেছে বলে তিনি মনে করেন।

তার মতে, "এটাকে নাটকীয় বলা যাবে না এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যতিক্রম সেটাও বলা যাবে না। কারণ বিশ্বব্যাপী গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকেই গড় আয়ু বাড়ছে। যে সমস্ত দেশ পঞ্চাশের দশকে পিছিয়ে ছিল পরবর্তী সময় তাদের তুলনামূলক বেশি বেড়েছে। বাংলাদেশেও সেটি হয়েছে"।

২০১১ সালে বাংলাদেশে ৬.৯ ছিল বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। ২০৫০ সাল নাগাদ সে অনুপাত ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

অর্থাৎ এক-চতুর্থাংশই তখন হবে বয়স্ক জনগোষ্ঠী।

এখন এই বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে কিভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে সেটার ওপর অনেককিছু নির্ভর করে।

অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে এমন একটি মেকানজিম আনতে হবে যাতে এই জনগোষ্ঠী যেন সুস্থ থাকে এবং কর্মক্ষম থাকে। তাদের যেন কারও ওপর নির্ভরশীল হয়ে না থাকতে হয়।

সম্পর্কিত বিষয়