বাংলাদেশের আলোকচিত্রী শোয়েব ফারুকীর 'স্রষ্টার জন্য খাবার' সেরা ছবি

  • ২৬ এপ্রিল ২০১৭
ছবির কপিরাইট Shoeb Faruquee
Image caption বিশ্বের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঠানো আলোকচিত্রীদের ছবির মধ্যে থেকে শোয়েব ফারুকীর "স্রষ্টার উদ্দেশ্যে খাবার" শিরোনামে ছবিটি নির্বাচিত হয় সেরা হিসেবে।

পিংক লেডি ফুড ফটোগ্রাফার ২০১৭ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশের আলোকচিত্রী শোয়েব ফারুকীর তোলা ছবি।

"ফুড ফর গড" বা "স্রষ্টার উদ্দেশ্যে খাবার" শিরোনামে ছবির জন্য তিনি ওভারঅল উইনার নির্বাচিত হন জুরি সদস্যদের কাছে। ফুড ফর সেলিব্রেশন ক্যাটেগরিতে মনোনয়ন পায় তার নাইকন ক্যামেরায় তোলা ছবিটি।

প্রতিযোগিতার আয়োজক পিংক লেডি ফুড ফটোগ্রাফার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই ক্যাটেগরিতে বিশ্বজুড়ে উৎসবের বিভিন্ন খাবারের ছবি আহ্বান করা হয়েছিল।

তার মধ্যে ছিল ক্রিসমাস, দিওয়ালী, ইস্টার, জন্মদিনের উৎসব কিংবা বিয়ে-এসব আয়োজনে যেসব খাবার পরিবশেন করা হয় তার ছবি, লোকজনের আহার এবং খাবার রান্না ইত্যাদি ছবি।

আরও পড়ুন: বিশ্বে যে সাতটি পরিবর্তন নিয়ে এলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

চাঁপাইনবাবগঞ্জে 'আস্তানায় জঙ্গি দম্পতি'

পুরস্কার জেতা শোয়েব ফারুকীর প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরেছে পিংক লেডি।

ছবির কপিরাইট Shoeb Faruquee Facebook
Image caption মি ফারুকী পুরস্কার গ্রহণের জন্য লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে ছবিটি পোস্ট করেন।

সেখানে তিনি বলেন, " ২০১৭ সালের একজন চূড়ান্ত প্রতিযোগী হতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত, আমি সবসময়ই আমার ছবির মাধ্যমে বিশ্বকে একটি নতুন বার্তা দিতে চাই। এই ছবিতে দেখা যায়, প্রার্থনা-রতদের জন্য ব্রাহ্মণ রাঁধুনি রান্না করছেন । এখানে রান্নায় তার যে নিমগ্নতা সেটাও অনেকটা 'স্রষ্টার উদ্দেশ্যে খাবার তৈরির' মত"।

সনাতন ধর্মের অনুসারীদের একটি উপাসনা-কেন্দ্র রাজাপুর লোকনাথ ধাম চিটাগাং। সন্ধ্যের দিকে সেখানে এই পুজাপর্ব শুরু হয় এবং উপাসনা চলে দুই ঘণ্টার মত। পূজারীরা ২৪ ঘণ্টার মত উপাস থাকেন এবং প্রার্থনা শেষে তারা এখানেই খাবার খান। সেখানেই ছবিটি ক্যামেরাবন্দী করেন মি ফারুকী।

বিচারকদের একজন রয়েল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির প্রধান নির্বাহী মিকাইল প্রিচার্ড বলেন, অনেকের কাছে খাবার শুধু শারীরিক পুষ্টির জন্যই নয়, কারও কারও কাছে এটা ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিকও হয়ে ওঠে। এই ছবিতে সেই দুটো উপাদানই রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

শোয়েব ফারুকী নিজে নিজেই ফটোগ্রাফি শিখেছেন। ১৯৬০ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ায় তার জন্ম । তিনি চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করছেন।

আশির দশকের শুরুতে তিনি ফটোগ্রাফি শুরু করেন। আর ১৯৯০ সাল থেকে পুরাদস্তুর আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

মি ফারুকী এছাড়া আরো অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতায়ও পুরস্কার পেয়েছেন।