হামিদ মীরের পুরস্কার ফেরৎ: বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া

  • ৩০ এপ্রিল ২০১৭
ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption হামিদ মীর

পাকিস্তানের সাংবাদিক হামিদ মীর তার বাবাকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দেয়া সরকারি সম্মাননা ফিরিয়ে দেবেন বলে ঘোষণার পর বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, যারা ১৯৭১-এ পাকিস্তানী গণহত্যার কথা স্বীকার করে না তিনি তারই লেজুড়বৃত্তি করছেন।

হামিদ মীর বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সম্মাননা গ্রহণ করার সময় পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো তার কিছুই পূরণ করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পাকিস্তান সম্পর্কে বর্তমান সরকারের অবস্থানকে প্রতারণা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো এবং নানাভাবে সহায়তার জন্য ২০১৩ সালে যে ৬৯ জন বিদেশিকে সম্মাননা দিয়েছিলো বাংলাদেশ সরকার তার মধ্যে ১৩ পাকিস্তানি নাগরিকও ছিলেন। তার মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের প্রয়াত অধ্যাপক ও সাংবাদিক ওয়ারিস মীর।

তিনি বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তার ভয়াবহতা সচক্ষে দেখতে একদল ছাত্র নিয়ে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার হয়ে বাংলাদেশ সরকারের সেই সম্মাননা গ্রহণ করেছিলেন তার ছেলে পাকিস্তানের সাংবাদিক হামিদ মীর।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

আমেরিকায় বিষাক্ত ইনজেকশনে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পর ময়নাতদন্তের নির্দেশ

ভারতে রমরমিয়ে চলছে তেলুগু ছবি বাহুবলী টু

এভারেস্টে উঠতে গিয়ে পর্বতারোহী উয়েলি স্টেক নিহত

দোষ প্রমাণের আগে রাজাকার না বলতে পরামর্শ

'আয়রনম্যান' স্যুট পরে উড়ে দেখালেন উদ্ভাবক

ছবির কপিরাইট AAMIR QURESHI
Image caption হামিদ মীর

তিনি বলছেন, "তারা তখন আমাকে আসার জন্য বেশ অনুরোধ করেছিলো। আমাকে বলা হয়েছিলো যে আপনি মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত গণহত্যার বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে নিয়মিত কলাম লেখেন। আপনার উপস্থিতি পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়তা করবে। সেজন্যই আমি সেসময় ঐ সম্মাননা নিতে এসেছিলাম"

কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের সম্পর্কে উন্নয়নে তার প্রতিশ্রুতি রাখেন নি বলে মন্তব্য করছেন হামিদ মীর। বরং তিনি ঐ পুরস্কারকে বর্তমান সরকারের প্রতারণা বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলছেন, "যখন আমি ঘোষণা দিলাম যে পুরস্কারটি আমি ফেরত দিচ্ছি তখন আমি জানিয়েছি যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন তো দুরে থাক এমনকি দু দেশের মধ্যে ক্রিকেট খেলা হোক সেটাও তিনি চান না। পাকিস্তানে সার্ক সম্মেলনে অংশ নিতে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ।

"শেখ হাসিনার সম্পর্ক উন্নয়নের কোন ইচ্ছেই নেই। কয়েকজন পাকিস্তানিকে ঐ সম্মাননা দেয়া হয়েছিলো পাকিস্তানিদের সাথে তাদের বিভেদ তৈরি করার জন্য। ঐ সম্মাননা আসলে ছিলো প্রতারণা। তাই আমি বাধ্য হয়ে এটি ফিরিয়ে দিচ্ছি" - বলেন মি. মীর।

তবে মি. মীর বলছেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত গণহত্যা এবং সেনিয়ে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেননি। তিনি বলছেন, সেজন্য নিজের দেশে বেশ হেনস্তা হতে হয়েছে। তাকে বাংলাদেশের এজেন্ট বলে গালাগাল করা হয়েছে। এমনকি হামলাও করা হয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরেই এই সম্মাননা ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে খবরটি ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমে।

সে নিয়ে আজ বিবিসির বাংলার কাছে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলছেন সম্মাননা ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে হামিদ মীর তার বাবাকেই অসম্মান করছেন।

তার মতে, "তার সন্তান সেই পদক ফেরত দিচ্ছেন এটা অত্যন্ত দু:খজনক ব্যাপার। আমি মনে করে এতে তার বাবার প্রতিই অসম্মান প্রদর্শন করা হলো। পাকিস্তানে যারা বাংলাদেশের গণহত্যাকে স্বীকার করে না, পাকিস্তান বাংলাদেশের সংগে যে ন্যক্কারজনক ভূমিকা যুদ্ধকালীন সময়ে করেছিলো এবং সেই ব্যাপারে যে তারা এখনো ক্ষমা চায়নি, আমার মনে হয় হামিদ মীরের সম্মাননা ফেরত দেয়া পাকিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে একটা লেজুড়বৃত্তির ঘটনা"

বিদেশিদের সম্মাননা দেয়ার ব্যাপারে যে তালিকাটি তৈরি হয়েছিলো তার সাথে যুক্ত ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি শাহরিয়ার কবির। তিনি বলছেন হামিদ মীর সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন।

তিনি বলছেন, "এই পুরস্কার পাকিস্তানকে দেয়া হয়নি। এটা তাদেরকে দেয়া হয়েছে যারা গণহত্যার প্রতিবাদ করেছেন। এটা তাদেরকে দেয়া হয়েছে মানবতার প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার জন্য। পাকিস্তানের সংগে সম্পর্ক উন্নয়ন করবার জন্য আমরা পুরস্কার দেয়নি। পাকিস্তানের যে মানুষগুলো বাংলাদেশের দুর্দিনে প্রতিবাদ করেছিলেন এবং সেসময় নিগৃহীত হয়েছিলেন, জেলও খেটেছেন তাদের সাহসের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে"

তিনি বলছেন, পাকিস্তান যতদিন না পর্যন্ত গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাইবে ততক্ষণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তারা আশা করতে পারে না।

সম্পর্কিত বিষয়