গরু চুরি সন্দেহে ভারতে দুই মুসলমানকে পিটিয়ে হত্যা

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ভারতে অনেক হিন্দুদের কাছে গরু খুবই পবিত্র বিষয়।

ভারতে গরু চুরি সন্দেহে 'বিশৃঙ্খল জনতা' দু'জন মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে তারা জবাই করার উদ্দেশ্যে গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসামে। এর আগেও সেখানে মুসলমানদের উপর এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। কট্টরপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলোকে এজন্য দায়ী করা হয়েছিল।

ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে গরুকে পবিত্র হিসেবে মনে করা হয় এবং কিছু রাজ্যে গরু জবাই করা নিষিদ্ধ।

একটি মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের মে মাস থেকে গরু ইস্যুকে কেন্দ্র করে ১০জন মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ আসাম রাজ্যে যে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে তাদের একজনের নাম আবু হানিফা এবং অপরজনের নাম রিয়াজউদ্দিন আলী।

আসামের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, " দু'জন ব্যক্তি গ্রামের মাঠ থেকে গরু চুরি করে নিয়ে যাবার সময় গ্রামবাসীরা তাদের ধাওয়া করে এবং লাঠি দিয়ে পেটায়। "

আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেবার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দু'জনকে আটক করা হয়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, ২০১৪ সালে ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুসলমানদের উপর এ ধরনের আক্রমণ বেড়েছে।

এসব ক্ষেত্রে গুজব ছাড়ানো হয়েছে যে তারা গরুর মাংসের জন্য গরু কেনা-বেচা এবং জবাই করছে।

বিভিন্ন কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন গরুর মাংসের বিরুদ্ধে যে প্রচার চালাচ্ছে সেখানে মুসলমানদের উপর হামলার ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরকেও হত্যা করা হয়।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এরই গরু রক্ষার জন্য পর্যবেক্ষণকারী দল গঠন করা হয়েছে। মূলত বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এসব দলের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

গরু কেনা-বেচা এবং পাচার বন্ধ করার জন্য এসব দল নিয়মিত বিভিন্ন পরিবহনে তল্লাশিও করছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত বছর গরু-রক্ষা পর্যবেক্ষণকারী দলগুলোর সমালোচনা করে বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড তিনি পছন্দ করছেন না। কিন্তু তারপরেও হামলা থেমে থাকেনি।

সম্পর্কিত বিষয়