গাজীপুরের জোড়া আত্মহত্যার তদন্ত করবে মানবাধিকার কমিশন

  • ১ মে ২০১৭
মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত ছবির কপিরাইট মাসুদ রানা
Image caption মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত

বাংলাদেশে শ্লীলতাহানির প্রচেষ্টার ঘটনায় বিচার না পেয়ে আত্মহননকারী মেয়ে এবং বাবার মৃত্যুর বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করবে।

পরিবারটি অভিযোগ করেছে, একমাত্র মেয়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে, এমন অভিযোগ নিয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে ধর্না দিয়ে কোন বিচার না পেয়ে গত শনিবার বাবা এবং মেয়ে গাজীপুরে একসাথে ট্রেনের নীচে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বলেছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গিয়েছে।

তবে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করছে।

বাবা হযরত আলীর আট বছর বয়সের পালিতা কন্যা আয়েশা আক্তারকে নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর রেলস্টেশনের কাছে ট্রেনের নীচে কাটা পড়েন গত শনিবার রাতে।

তাদের বাড়ি শ্রীপুর উপজেলারই কর্ণপুর গ্রামে।

নি:সন্তান দম্পতি হযরত আলী এবং হালিমা বেগম মাত্র একদিন বয়স থেকে আয়েশা আক্তারকে নিজেদের কাছে নিয়ে লালন পালন করতেন।

মেয়েটি স্থানীয় একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়তো।

দিনমজুর হযরত আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম যে মামলাটি করেছেন তাতে তিনি অভিযোগ করেছেন, পুলিশ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাহায্য না পেয়ে তাঁর স্বামী মেয়েকে নিয়ে টেনের নীচে ঝাঁপ দেয়ার পথ বেছে নেন।

হালিমা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাঁর এবং গ্রামবাসীর সাথে কথা বলেছেন স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা।

তিনি বলছিলেন, "হালিমা বেগম আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর মেয়েকে প্রতিবেশী এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করতো এবং কয়েকবার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে। এই অভিযোগ নিয়ে তারা স্থানীয় মেম্বারের কাছে বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু মেম্বার তাচ্ছিল্য করে তাড়িয়ে দেন।"

তিনি বলেন, "পুলিশের কাছেও অভিযোগ করেছিলেন তারা । তাদের অভিযোগ করার কথা জানাজানি হওয়ার পর প্রতিবেশীরা হয়রানি করা বাড়িয়ে দিয়েছিল। এমন অবস্থায় বিচার না পেয়ে বাবা মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়েছে।"

ছবির কপিরাইট গুগুল
Image caption মানচিত্রে শ্রীপুরে

আরো দেখুন:

লন্ডনে সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগে তিন নারী আটক

বাড়ি ফিরেই মারা গেলেন 'বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ'

আকাশ থেকে মাথায় গরু পড়ে গুরুতর আহত এক ব্যক্তি

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি নিজেই গ্রামবাসী এবং হালিমা বেগমের সাথে কথা বলে অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত করেছেন। মি. হক বলেন,প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।

"আমি ওখানে গিয়ে দেখলাম যে একটা মানুষ বহুদিন ধরে পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েছে। পুলিশ তাঁর অভিযোগের ব্যাপারে কার্যত কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ঐ পরিবারটির উপরই অত্যাচার বেড়েছে।

"এটা সহ্য করতে না পেরে ঐ ব্যক্তি আত্মহননের কঠিন পথ বেছে নিয়েছে। প্রাথমিক এই অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। এখন বিস্তারিত তদন্ত করবো।"

হালিমা বেগম তাঁর মামলায় মেয়ে ও স্বামীর আত্মহত্যার জন্য স্থানীয় ইউপি মেম্বার আবুল হোসেন এবং স্থানীয় যুবক ফারুক হোসেনসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মেম্বার আবুল হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

তবে সেখানকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান সরকার দাবি করেন, ঘটনা ঘটার পর তিনি অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন।

পুলিশও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করছে।

গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হারুন উর রশিদ বলছিলেন, হযরত আলীর বসতভিটা দখলের চেষ্টা সম্পর্কে একটি অভিযোগ পুলিশ পেয়েছিল।

অন্য কোন অভিযোগ করা হয়নি বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

এরপরও ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।